১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা হত্যার দায় এড়াতে পারে না জাতিসঙ্ঘ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

-

রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের দায় জাতিসঙ্ঘ এড়াতে পারে না মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, মানবতার চরম অবমাননার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিতে হবে।
জেনেভা কনভেনশনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তৃতা করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেড ক্রস (আইসিআরসি) এবং বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব)।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে বহু দিন ধরে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ এ ব্যাপারে সজাগ হয়নি। তারা অনেক কিছু গোপন রেখেছে। এ জন্য জাতিসঙ্ঘ অবশ্যই দায়ী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নৃশংসতা চালানোর পর জাতিসঙ্ঘ যেসব বক্তব্য দিয়েছে, তার বেশির ভাগই বাংলাদেশকে ঘিরে। রাখাইন প্রদেশে জাতিসঙ্ঘের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। অথচ সেখানেই তাদের বেশি কাজ করার কথা।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে জবাবদিহি করতে হবে মন্তব্য করে ড. মোমেন বলেন, তথাকথিত সন্ত্রাস দমনের নামে তারা শুধু মুসলিম নয়, অন্য ধর্মের রোহিঙ্গাদেরও নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। রাখাইনে বহু বছর ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হিংসার যে বিষবাষ্প ছড়ানো হয়েছে, তা ঠেকাতে জাতিসঙ্ঘ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
পৃথিবী থেকে সঙ্ঘাত দূর করতে মানসিকতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘ সেটাতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের পদ্ধতিগত ভুল ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা জেনেভা কনভেনশনের জন্মতিথি পালন করছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ প্রতিহত করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এ কনভেনশন সইয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। এটি খুব ভালো কনভেনশন, ভালো ভালো আইন আছে। তবে এখন এটি বৈষম্যমূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে যখন মানবতা বিঘিœত হয়, তখন যারা এ আইনটি তৈরি করেছিল, তারাই এখন এ আইন থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
জেনেভা কনভেনশন দুর্বলদেরই বেশি চাপে ফেলছে মন্তব্য করে ড. মোমেন বলেন, এ কারণে কনভেনশনটি নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলছে। কনভেনশনের আইনগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে সাধারণ মানুষই সর্বাধিক ভুক্তভোগী। তেমনি মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জেনেভা কনভেনশন সঠিকভাবে মানা হলে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যেত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ মিয়ানমার বা ফিলিস্তিন যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে, তার প্রতিবাদে সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তুলে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সেমিনারে আরো বক্তৃতা করেন : আইসিআরসির বাংলাদেশ হেড অব ডেলিগেশন ইখতিয়ার আসলনভ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন, ডিকাব সভাপতি রাহীদ এজাজ, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব প্রমুখ।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik