২৬ জুন ২০১৯

আবারো মোদির সরকার  

ভারতের নির্বাচনে বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল
-

ভারতে ১১ এপ্রিল শুরু হওয়া লোকসভা নির্বাচন গতকাল রোববার শেষ হয়েছে। সাত দফার এই নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ দফায় গতকাল ৫৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ২৩ মে। গতকাল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ শুরু হয়। এসব সমীক্ষায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসছে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। অন্য দিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএর প্রাপ্ত আসন ১২৮টি হতে পারে। অন্য বিরোধী দলগুলো বাকি আসন পাবে। খবর এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
৫৪৩ আসনের লোকসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন। বুথফেরত সমীক্ষার ফল অনুযায়ী এনডিএ ৩০০ এর বেশি আসন নিয়ে আবার সরকার গঠন করবে। অবশ্য বুথফেরত জরিপের আভাস সবসময় ঠিক হয় না। ২০১৪ সালে জরিপের অনুমান ঠিক হলেও এর আগের নির্বাচনের জরিপের ফল সঠিক ছিল না।
গতকাল প্রকাশিত সব জরিপেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএর আবার ক্ষমতায় আসার আভাস দেয়া হয়েছে। আইপিএসওএস, সিএনএন নিউজ ১৮, রিপাবলিক সি-ভোটার ও টাইমস নাও-ভিএমআর প্রকাশিত জরিপে আভাস দেয়া হয়েছে, তিন শতাধিক আসন পেয়ে আবার নিয়ে ক্ষমতায় আসবে এনডিএ। এ পর্যন্ত পাওয়া জরিপের ফলকে গড় করে এনডিটিভি বলছে, ২৩ মে ঘোষিত ফলাফলে ২৯৮টি আসন পেতে যাচ্ছে এনডিএ। রিপাবলিক সি-ভোটারের অনুমান, ৩০০টিরও বেশি আসন পেতে যাচ্ছে এনডিএ। একই রকম ফলাফল এসেছে টাইমস নাও-ভিএমআরের জরিপেও। তারাও বলছে, ৩০০ এর বেশি আসন নিয়ে বিজয়ী হতে যাচ্ছে বিজেপি।
অবশ্য নিউজ নেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ ২৮২ থেকে ২৯০ এবং ইউপিএ ১১৮ থেকে ১২৬টি আসন পাবে। অন্যান্য দল পাবে ১৩০ থেকে ১৩৮টি আসন। অন্যদিকে এবিপি নিউজের মতে, এনডিএ ২৬৭টি, ইউপিএ ১২৭টি ও অন্যরা ১৪৮টি আসন পাবে।
বিজেপি মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগড়সহ বেশ কিছু রাজ্যে ভালো করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ। বিশেষ করে কেরালা ও তামিলনাড়–তে অধিকাংশ আসনই জিততে চলেছে ইউপিএ। অন্যদিকে, কর্ণাটকে চূড়ান্ত ব্যর্থতার মুখ দেখতে পারে কংগ্রেস-জেডিএস জোট।
যেসব রাজ্যে সরাসরি কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াই হয়েছে সেসব রাজ্যেও কংগ্রেসকে কার্যত ধরাশায়ী করেছে বিজেপি। অধিকাংশ রাজ্যেই ইউপিএ’র চেয়ে ভালো ফল করতে যাচ্ছে বিজেপি জোট। এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো ফল করবে বলে সমীক্ষায় আভাস দেয়া হয়েছে।
এনডিএ সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতে। এসব রাজ্যে বিরোধীদের জোট সত্ত্বেও বিজেপির মোট আসনে সেভাবে ভাগ বসাতে পারেনি। মহারাষ্ট্রে ৪৮ আসনের মধ্যে অধিকাংশ সমীক্ষার মতে, ৪০টির বেশি আসন পেতে যাচ্ছে বিজেপি। বিহারেও ৪০ আসনের মধ্যে ৩০টির বেশি আসন পাচ্ছে এনডিএ। সম্প্রতি যে তিন রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে সেসব রাজ্যেও বিজেপির চেয়ে অনেক কম আসন পাবে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশের ২৯ আসনের মধ্যে বিজেপি পাবে ২৫টির বেশি আসন।
রাজস্থানের ২৫ আসনের মধ্যে ২০টির বেশি পেতে পারে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশে সপা-বসপার মহাজোট ৮০টি আসনের মধ্যে প্রত্যাশার তুলনায় আসন কম পাবে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে। ‘টাইমস নাও’ এবং ‘জন কি বাত’ এর সমীক্ষা মতে, মহাজোট সত্ত্বেও এ রাজ্যে বিজেপির আসন আগের চেয়ে কমলেও ৫০টির বেশি পেতে পারে দলটি। অবশ্য, এবিপি-নিয়েলসনের সমীক্ষা অনুযায়ী, এ রাজ্যে বিজেপি পাচ্ছে মাত্র ২২টি আসন।
২০১৪ সালে বুথফেরত জরিপগুলোর গড় করে আভাস মিলেছিল, বিজেপি নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টের ৫৪৫টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি পাবে। আর ইউপিএ জোট পাবে ১০২টি আসন। তবে চূড়ান্ত ফলে এনডিএ ও ইউপিএ জোটের ব্যবধান হয়েছিল আরো বেশি। এনডিএ ৩৩৬টি আসন পায়। আর তার আগের দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ইউপিএ প্রাপ্ত আসন সংখ্যা সে বছর কমে ৫৯-এ নেমে আসে। ২০০৯ সালে ১৮৬টি এনডিএ ও ইউপিএ জোট ১৯৭টি আসন পাবে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস মিলেছিল। চূড়ান্ত ফলে ১৬০টিরও কম আসন পেয়েছিল এনডিএ। আর ২৬২টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছিল ইউপিএ।
এবারের মতো এমন টান টান নির্বাচন ভারতে আগে কখনো হয়নি। সম্ভাব্য ফল ঘিরে এমন উত্তেজনা আগের কোনো ভোটেও ছিল না। এমন ‘একমুখী’ ভোটও কখনো হয়নি। ভোটের একদিকে শাসক দল ও জোটের প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে বিরোধীশিবির। ৫৪৩ আসনেই শাসক দল ভোট চেয়েছে মোদির নামে। ভোট শুরু হয়েছিল মোদি-সরকারের পাঁচ বছরের ‘সাফল্য’ ঘিরে। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ দাবি করেছেন, বিজেপি একাই ৩০০ এর বেশি আসন জিতে মোদি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের দায়িত্ব হাতে নেবেন। গতবার বিজেপি একাই পেয়েছিল ২৮২ আসন।
এবারের ভোটের মতো এত কু-কথা আগে কখনো শোনা যায়নি। নেতাদের ভাষণ বহু ক্ষেত্রে শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক কুৎসা ছড়ানো হয়েছে। পরলোকগত নেতাদের কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। বড় বড় নেতার নামে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের আচরণ ঘিরেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনের তিন সদস্যের অন্যতম অশোক লাভাসাও। নির্বাচন কমিশনে এমন ঘটনা অতীতে কখনো ঘটেনি।


আরো সংবাদ