২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মানব পাচারে ঘুরে ফিরে তাদেরই নাম

-

সেই মানব পাচারকারীরাই আবারো সক্রিয়। বছরের পর বছর পাচারকারী হিসেবে তাদের নাম রয়েছে সরকারি ফাইলে। ওই পর্যন্তই শেষ। এদের মধ্যে অনেক রয়েছে যাদের ধারে কাছেও ঘেঁষে না আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। কখনো কখনো বড় ঘটনা ঘটলে তারা গা ঢাকা দেয়মাত্র। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে যায়। সুযোগ বুঝে নানা প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ সংগ্রহ করে পাচার করে দেয় বিভিন্ন দেশে।
সম্প্রতি কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনার পরে প্রশাসনে একটু টনক নড়েছে। আবারো তারা গা ঝাড়া দিয়ে বসেছে। আর তখনই ফাইলবন্দি সেই পাচারকারীদের নামগুলো আবারো সামনে চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওর বাইরেও অনেক পাচারকারী রয়েছে। যাদের নাম প্রশাসনের কাছেও নেই। নতুন করে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে এই অনৈতিক কাজের সাথে।
কক্সবাজার এলাকাতেই মানব পাচারকারীদের শ’খানেক গডফাদার রয়েছে বলে জানা যায়। যার মধ্যে সরকারি নথিতে ৭৯ জনের নাম রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরে এদের নাম আছে। তাদের নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু দু’একজন ছাড়া বাকি সবাই রয়ে গেছে অধরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশী পাচারকারী গডফাদার ছাড়াও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের অনেক পাচারকারী চক্র এ অপকর্মে জড়িত রয়েছে। মাঝে-মধ্যে পাচারকারীর নামে মামলা হলেও দেশী-বিদেশী অনেক পাচারকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে তাদের প্রভাবের কারণে।
গডফাদারদের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য, প্যানেল মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। শুধু টেকনাফেই রয়েছে ৩১ জন গডফাদার। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মো: ধলু হোসেন, মো: ইউনুছ, ইসমাইল, ফিরোজ আহমদ, দেলোয়ার, মো: সাহাব মিয়া, মো: শরীফ হোসেন, শরীফ হোসেন ভুলু, সাহেদুর রহমান নিপু, হামিদ হোসেন, জহির উদ্দিন ওরফে কানা জহির, মৌলভী আজিজ, নূর হাকিম মাঝি, নূর মোহাম্মদ মেম্বার, মৌলভী বশির ওরফে ভাইলা, নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত, আবদুল হামিদ, গুরা মিয়া, মো: কাসেম ওরফে জিমা কাসেম, মো: ইসলাম ওরফে বাগু, জাফর আলম, আক্তার কামাল, শাহেদ কামাল, আবদুর গফুর, হেবজ রহমান ওরফে হেবজ মাঝি, মো: নুরুল হুদা, মো: নুরুল কবির এবং আমান উল্লাহ ওরফে আনু। বাকি মানব পাচারকারীরা হলো বেলাল উদ্দিন, নূর হোসেন, নুরুল আলম, এনায়েত উল্লাহ, মো: সেলিম, মো: হোসেন, জাফর আহমদ, মো: শফিক, আবু তাহের, মো: জাফর, আলী মাঝি, সামসুল আলম, মো: সাব্বির আহমদ, মো: কামাল হোসেন, মো: হাসান, মো: কবির হোসেন, মো: কবির হোসেন (বাবা- নূর) সাদ্দাম, আবুল কালাম, মো: শরীফ, মো: লিটন, মো: আবুল হাসেম, মো: দলিল আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, ফয়েজ, নুরুল ইসলাম ওরফে কালা পুতু, জাহাঙ্গীর, মীর আহমদ, মো: শাকের মাঝি, নুরু মাঝি, হাফেজ মোক্তার, মো: সৈয়দ আলম, আব্দুর রহিম, আলী আহমদ ওরফে আলী বলি, নুরুল ইসলাম মাঝি, আইয়ুব আলী মাঝি, আল মাসুদ, জাহাঙ্গীর, সোহাগ আবদুল্লাহ, কবির ওরফে ডা: কবির, মো: আলম ওরফে মাত আলম, এনায়েত উল্লাহ, মো: শামসুল আলম, আবদুস সালাম ওরফে আবদু কো¤পানি ও আজিজুল ইসলাম ওরফে পুতুইয়াসহ আরো তিন জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীপথে মানব পাচারের জন্য টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন ও মহেশখালীসহ বেশ কিছু পয়েন্ট রয়েছে।
কক্সবাজারের পেকুয়া ও সেন্টমার্টিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পেকুয়া থেকে ১৮ মে রাতে ৬৭ জন এবং সেন্টমার্টিন থেকে ১৭ মে রাতে ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তাদের উদ্ধার করলেও তাদের যারা বিদেশে পাঠাচ্ছিল তাদের সন্ধান পায়নি। তারা স্পিড বোট ও ট্রলারে করে পালিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। এর আগে ১৫ মে কক্সবাজারের শুকনাছড়ি ও দরিয়ানগর সমুদ্রঘাট এলাকা থেকে স্থানীয়রা ২৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের জড়ো করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ১২ মে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা থেকে ছয় নারীসহ আট রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। পাচারের জন্য তাদের জড়ো করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মানব পাচাররোধে তাদের সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রয়েছে। এরমধ্যেও পাচারকারীরা তাদের অপকর্ম করার সুযোগ খুঁজছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘুরে ফিরে ওই পাচারকারীরাই সক্রিয়।

 


আরো সংবাদ