২৩ জুলাই ২০১৯

শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ১১ শ্রমিককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ

-

ভয়াবহ আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কা থেকে ১১ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই শ্রমিকরা আত্মঘাতী এক বোমা হামলকারীর একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর ইমিগ্রেশন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। বিমানবন্দর থেকে এই শ্রমিকদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিটের কার্যালয়ে নিয়ে আসার কথা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় মালিন্দ এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে (ওডি ১৬৪) তারা ঢাকায় আসেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলাকারীদের মধ্যে দুজন ছিল আপন ভাই। তাদেরই একজন ইনসাফ ইব্রাহীমের একটি তামা কারখানায় এই শ্রমিকরা কাজ করতেন। ওই কারখানাতেই আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলো তৈরি হয়েছিল বলে শ্রীলঙ্কার পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ওই কারখানায় যারা কর্মরত ছিলেন, তারা কেউ বোমা হামলা বা সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন কিনা, সেজন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কলম্বোয় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিমানবন্দরে অবস্থান নেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকাতেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাদেরকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলে জানা গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
শ্রীলঙ্কান পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ইনসাফ ইব্রাহীম সাংরি-লা হোটেলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তার ভাই ইলহাম ইব্রাহীম পাশের সিনোমন গ্র্যান্ড হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালায়। হামলার পর পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ইলহামের স্ত্রী ফাতিমা দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মঘাতী হয়, সেখানে পুলিশের তিন কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ইলহামের বিষয়ে এক খবর প্রকাশ করে। ওই খবরে বলা হয়, ইলহাম নিজের বাড়িতেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। আত্মঘাতী এই সহোদরের বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহীম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে শ্রীলঙ্কান পুলিশ।
ইনসাফ ইব্রাহীমের যে কারখানায় বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজ করতেন, সেটি কলম্বোর উপশহর ওয়েল্লাম্পিটিয়া এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশী ছাড়াও সেখানে ভারতীয় অন্তত ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। বোমা হামলার পর তারাও নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কারখানার কর্মীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ঘটনার পর থেকে পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই ওই কারখানায় অভিযান চালিয়েছে। কোলোসসাস লিমিটেড নামে তামার ওই কারখানার শ্রীলঙ্কান স্টাফ ও সুপারভাইজাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এ দিকে, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্রীলঙ্কায় হামলার মূল হোতা মোহাম্মদ হাশিম ওরফে জাহরান হাশিমের সঙ্গে বাংলাদেশী আইএসপন্থী জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে এক আইএস অনুসারীকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এই যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা দাবি করেন।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছ থেকে পাননি বলে জানিয়েছেন। ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কায় হামলার পর থেকেই আমরা আরো বেশি সতর্ক রয়েছি। আমাদের এখানে যেসব থ্রেট রয়েছে, আমরা সেসব বিশ্লেষণ করছি।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi