২৭ মে ২০১৯

অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা :পিআইডি -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপগুলো অব্যাহত পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের (এনডিএমসি) বৈঠকে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবেলার জন্য সরকারের উদ্যোগ অব্যাহতভাবে পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি, পাশাপাশি দুর্যোগের ক্ষতি ন্যূনতম মাত্রায় কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এনডিএমসিতে মন্ত্রীবৃন্দ, সিনিয়র বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণসহ সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা এজেন্সিগুলোর প্রধানগণ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ে সবাইকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য সবাইকে বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য মনে রাখতে হবে এবং যেকোনো বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ন্যূনতম পর্যায়ে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের ধারণার মধ্যেই আমাদের থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা সম্প্রতি রাজধানীতে এফ আর টাওয়ার এবং চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে অনেক মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন হয়েছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনাও বাড়ছে। তিনি বলেন, যখনই কোনো দুর্ঘটনার খবর আসে তার সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাড়া দেয়, জীবনহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো থেকে এই সরকারের উদ্যোগ ব্যতিক্রমী।
১৯৯১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই সময় বিএনপি সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকার উপকূলীয় অঞ্চলকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় ‘মুজিব কিল্লা’ নামে এক হাজার সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর সুফল লক্ষ করা যায় ১৯৯৮ সালে দীর্ঘস্থায়ী ভয়াবহ বন্যায় যখন ঢাকা মহানগরীও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। ওই সময় এ পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছিল যে বন্যায় দুই কোটি মানুষ মারা যাবে। বর্তমান সরকার সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা ও জনগণের দুর্যোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডার ও দাহ্যপদার্থ ব্যবহারে জনগণকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিকায়ন আমাদের অনেক আরাম দিয়েছে। তবে এতে ঝুঁকিও কম নয়। এজন্য আধুনিকায়নের ঝুঁকি এড়াতে আমাদের সতর্ক হতে হবে। সবসময় সতর্ক থেকে বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল দুর্যোগ মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দুর্যোগের ব্যাপারে সতর্ক ছিল না বলেই ঘূর্ণিঝড়ে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
১৯৯৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সফলভাবে মোকাবেলার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি স্পেন সফর বাতিল করে।
অভিনেতা আহমদ শরীফকে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি অভিনেতা আহমদ শরীফকে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। আহমদ শরীফ ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এই অনুদান দেয়া হয়।
গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন আহমদ শরীফ। এই অনুদান প্রদানের জন্য তিনি তার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
Epoksi boya epoksi zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al/a> parça eşya taşıma evden eve nakliyat Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Ankara evden eve nakliyat
agario agario - agario