২০ মে ২০১৯

৩ মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

-

বগুড়া, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার একটি হত্যা মামলার রায়ে ১৯ আসামির মধ্যে ২ ভাই, পিতা ও ২ ছেলেসহ ৫ জনের ফাঁসি ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ১০ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬৯) ও তার ২ ছেলে মামুন (৪৩) ও জুলফিকার (৩৫), রমজান আলীর আরেক ছেলে আব্দুর রহিম (৬০) ও ময়েন উদ্দিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৫)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গাবতলীর বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন আলী মণ্ডল (৬৫) নামের এক ব্যক্তি একটি সঞ্চয়ী সমিতির ৭০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাবতলী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান ও জামিনে বের হয়ে আসেন। জেল থেকে বেরিয়েই ওই আসামিরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে ২০০৬ সালের ১৭ জুন বাহাদুরপুর গ্রামে ইয়াসিন আলীর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ইয়াসিনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। ওই দিনই নিহত ইয়াসিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে গাবতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সানোয়ার হোসেন নিহত ইয়াসিনের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাক্ষীদের জেরার পর্ব শেষ করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে উপরিউক্ত রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি আব্দুল মতিন।
ময়মনসিংহ ও ঈশ্বরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আলোচিত মরাজের মা (৬০) হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন : মো: হেলিম (৬৪) ও আবুল কাশেম ভূঁইয়া (৬০)। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৬ বছর পর বিচারক এ রায় দেন। মামলার রায়ে একই সঙ্গে আব্দুল আজিজ (৫৫) ও খোকন ভূঁইয়া (৫২) নামে দুই আসামিকে তিন বছর করে কারাদণ্ডসহ ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল জজ এহসানুল হক এ রায় দেন। রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে আসামিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
আসামির পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের হেলিম ও আবুল কাশেমের সঙ্গে নিহতের ছেলে আব্দুস সালাম ভূঁইয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার জেরে ২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মরাজের মাকে (৬০) হত্যা করে। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের ছেলে আব্দুস সালাম বাদি হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ৩৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
পরে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। বিচার চলাকালে দুইজন মারা যান। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৬ বছর পর বিচারক এ রায় দেন।
রায়ে ৩০২ ধারায় ২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। একই সঙ্গে ৩২৪ ধারায় ২ আসামিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ বিষয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হেলিমের বড় ভাই নুরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। জমির লোভে বাদি নিজের মাকে খুন করে মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাঁসিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।
বাগেরহাটে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দুই দশক আগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার স্কুলছাত্র বাদল হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। চার আসামির মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
হত্যা মালায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মো: কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। এক আসামির পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ রেজাউল কবির খান। পলাতকদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন শফিকুল ইসলাম।
রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দু’জনের দণ্ড বহাল রেখে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনকে খালাস দিয়েছেন। আসামি চারজনের মধ্যে তিনজন পলাতক। অন্য একজন জামিনে ছিলেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ এস এম সোলায়মান ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া গ্রামের মৃত মতু হাওলাদারের ছেলে ফুল মিয়া হাওলাদার ও একই গ্রামের মফেজ মল্লিকের ছেলে শহিদুল মল্লিককে ফাঁসির দণ্ড দেন।
যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয় বহরবুনিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী হাওলাদারের ছেলে হাওলাদার মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরুল ও মৃত আবদুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে আলী আকবর হাওলাদারকে। এর মধ্যে জামিনে থাকা মনিরুজ্জামান ছাড়া অন্যরা পলাতক।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া গ্রামে ১৯৯৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে আসামি ফুলমিয়া হাওলাদারসহ দু-তিনজন প্রতিবেশী এলাল উদ্দিনের বাড়িতে যান। এ সময় আসামি ফুল মিয়া এলাল উদ্দিনের স্কুলপড়–য়া ছেলে বাদলের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামি ফুল মিয়ার সাথে এলাল উদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে এলাল উদ্দিন বাদি হয়ে ফুল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ফুল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলার বিচার শেষে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করেন আদালত। নিয়ম অনুসারে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে।

 


আরো সংবাদ