২০ আগস্ট ২০১৯

দুর্নীতি মাদক ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাসস -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি একটি কালব্যাধির ন্যায় ছেয়ে গেছে। কারণ যে দেশে সামরিক সরকারেরা ক্ষমতায় আসে তারা প্রথমে সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। কারণ দুর্নীতিকেই তারা নীতি হিসেবে নেয় এবং দুর্নীতির সুযোগও সৃষ্টি করে দেয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে টানা তৃতীয় বার এবং চতুর্থবারের মতো তার সরকার গঠন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঋণ খেলাপি থেকে দুর্নীতিবাজ যাদেরকে আমরা দেখি তাদের সৃষ্টি হয় ’৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের কাছ থেকে’। এ সব কালব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে এটি এখন সময়ের প্রয়োজন এবং তার জন্য যা যা করণীয় তার সরকার করে যাবে, বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সংস্থা এবং দফতরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
অতীতে দেশে জঙ্গিবাদ তথা বাংলাভাই সৃষ্টিতে সে সময়কার সরকারের (বিএনপি-জামায়াত) একটি প্রচ্ছন্ন মদদ ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘তারা (জঙ্গিরা) মিছিল করছে আর পুলিশ তাদের পাহারা দিচ্ছে।
সমাজে অপরাধ প্রবণতার হার কমিয়ে আনার জন্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি তাদের অপরাধ সংগঠনের কারণ খুঁজে বের করা এবং তার প্রতিকারের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় জলদস্যু এবং বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করানোর পর তাদের সমজে পুনর্বাসনেও তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এদের পুনর্বাসন করা না গেলে তারা আবারো ওই পথে ফিরে যেতে পারে’। তিনি দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কারা মাদক দেশে নিয়ে আসছে, কারা ব্যবসা করছে এবং কারা সেবন করছে এদের সবার বিরুদ্ধেই বহুমুখী ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি বিশাল মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে অতীতে এর পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার বিষয়টি তুলে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্যই তার সরকার এই মন্ত্রণালয়কে দু’টি ভাগে ভাগ করে দিয়েছে’।
তার সরকার এখানে কোস্টগার্ড গঠন করেছে এবং জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও প্রেরণ করেছে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মিশনে আমাদের পুরুষ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি নারীরাও প্রশংসার সাথে কাজ করছে, বলেন তিনি।
এ সময় দেশের কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলায় তার সরকারের উদ্যোগ সমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কারা অভ্যন্তরে কয়েদিদের জন্য সৃজনশীল জীবিকা সংস্থানে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা যেন কিছু পুঁজি নিয়ে যেতে পারে এবং পরে জীবনে তাদের যেন সেটা কাজে লাগে। সেজন্য কয়েদিদেরও নানা প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উন্নয়নের তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে প্রতি উপজেলাতেই একটি করে ফায়ার সার্ভিস হবে। যাতে করে আগুন লাগলে পরে তাৎক্ষণিকভাবে জনগণ সেবাটা পায়।’
সন্ত্রাস এবং জঙ্গি দমনে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সমগ্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর সপক্ষে জনমত সৃষ্টি করে সব শ্রেণী পেশার জনগণকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে পারাই সাফল্য এসেছে উল্লেখ করে একে অব্যাহত রাখারও নির্দেশনা দেন। তিনি ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারের উদ্যোগ সমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই নির্দেশ নিয়েছি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমাদের সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা করে দেয়ার।
সরকার প্রধান বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং এ ব্যাপারেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। অর্থাৎ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করাই এই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘তার সরকার বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।’
এ সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি, সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করাকে একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি প্রতি বছরে প্রয়োজনীয় জনবলের বিপরীতে কি পরিমাণ যানবাহন এবং জলযান লাগতে পারে তার একটি তালিকা প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন।


আরো সংবাদ

bedava internet