২০ অক্টোবর ২০১৮

সরকারকে ঐক্য প্রক্রিয়ার আলটিমেটাম

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরপেক্ষ সরকার; পয়লা অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ; খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সামাবেশে উপস্থিত নেতারা : নাসিম সিকদার - ছবি : নয়া দিগন্ত

সরকারকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার গঠনের আলটিমেটাম দিয়েছে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। এ সময়ের মধ্যে নিরপে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আগামী পয়লা অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয় গতকাল শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ থেকে। এ ছাড়া খালেদাজিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে। সারা দেশে ঐক্যপ্রক্রিয়ার কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয় সমাবেশের ঘোষণাপত্রে।

ঐক্যপ্রক্রিয়ার আহ্বায়ক গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ২০ দলীয় জোট নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবীব লিংকন প্রমুখ। তেল গ্যাস বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য, ব্যাহত ও অকার্যকর করে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রীসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না।

গণদাবি আদায়ের ল্েয প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডপর্যায়ে মুক্তি-সংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, শ্রেণিপেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ কমিটি গঠন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশের ঘোষণাপত্রে।
এতে বলা হয়, ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য, ব্যাহত ও অকার্যকর করে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করি না। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়াই আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে অবাধ লুটপাট চলছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা ও স্বর্ণ গচ্ছিত রাখাও নিরাপদ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনীর সংখ্যা বাড়ার যে প্রবণতা তাতে বাংলাদেশের নাম সবার আগেÑ এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। এ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটা ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে ধনী আরো ধনী হচ্ছে, গরিব আরো গরিব হচ্ছে, মধ্যবিত্তরা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। তাই জনশক্তি রফতানিতে ধস নেমেছে। প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছেন না।
ড. কামাল বলেন, আমরা জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকার মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। জনগণ তাতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। মৌলিক বিষয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। এখন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে।
তিনি সমবেত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলুন। মুক্তির বার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন। অতীতে জনগণের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি; ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশা আল্লাহ।

অধ্যাপক ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, এখন রুখে দাঁড়ানোর সময়, প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ার সময়। গণতন্ত্রের সব শক্তির প্রতি এ আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সভা করব। আপনাদের অনুমতির তোয়াক্কা করব না। জনগণের কাছে অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করব। আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, আমরা ইভিএম ছুড়ে ফেলে দেবো। সাহস থাকলে ইভিএমের বদলে ভোট কেন্দ্রে সিসি টিভি লাগান। যাতে বাইরে থেকে ভেতরের অবস্থা দেখা যায়। মতা দেখাচ্ছেন? জনগণ আপনাকে মতা দেখানোর পারমিশন দেয়নি। ১০ বছর শাসন করেছেন এতেই এত অহঙ্কার? কোনো দেশ আমাদের চিরকালের শত্রু এবং চিরকালের বন্ধু নয়। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র এখনো বলি। কিন্তু পানি কই?
আপনাদের অপরাধের প্রতিবাদে কথা বলার জন্য সভা-সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতি কেন নিতে হবে? অথচ আপনারা যখন-তখন, যত্রতত্র সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

ইভিএম বিতর্ক নিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন আমার ভোট আমি দিতে পারব না? ভোটের অধিকারকে কেন দলীয়করণ করা হলো? সারা পৃথিবীতে ইভিএম পরিত্যক্ত, ইভিএম কেউ চায় না। কেন আপনাদের সুবিধার জন্য ইভিএম গ্রহণ করতে হবে? কেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয়করণ করা হলো? কেন তাদের সবসময় ভয়-ভীতির মধ্যে রাখা হচ্ছে? স্বাধীন দেশের মা-বোন ও শিশুদের ওপর কেন নির্যাতন হচ্ছে? আমাদের রাষ্ট্র তুমি কোথায়? আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গী আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র কোথায়? কেন গঙ্গার পানি পাবো না? কেন বন্ধু রাষ্ট্র তিস্তার পানি দেবে না? তিনি স্বাধীনতার পরে শক্তির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কারাগার থেকে খালেদা জিয়া তাকে খবর দিয়েছেন যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে, আমার জন্য চিন্তা করতে হবে না। এ ব্যাপারে তিনি আবেকঘন কণ্ঠে বলেন, খালেদা জিয়া আমাদেরকে খবর পাঠিয়েছেন যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য করে এই দুঃশাসনকে সরাতে হবে। এই সরকারকে হঠাতে হবে। আসুন, আন্দোলন গড়ে তুলি।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার থেকে দেশকে রক্ষা করার প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। আজ এই সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বর্তমান সরকারকে সরানোর জন্য একটি জাতীয় ঐক্য চাইছে। কিন্তু আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া অনেক আগেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। আমি মনে করি সারা দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যে নেত্রী গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বলে কোনো নির্বাচনই হয়নি। এই জন্য তাকে আজ কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে কারাগারে রেখে আবার ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। তিনি আরো বলেন, এই সরকার নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটার প্রমাণ হয়েছে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিরোধী নেতাকর্মীদের নামে পুলিশ যত ভুতুড়ে মামলা দিয়েছে তার মাধ্যমে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বৃহত্তর ঐক্য এক হিসেবে হয়েই গেছে। আজকে যারা জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের প্রধানতম দাবি হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম পদ্ধতি বাতিল এবং নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন। এগুলো আমাদেরও দাবি। তবে আমরা যারা বিএনপি করি, তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেই সাথে সব রাজবন্দীর মুক্তি। তিনি বলেন, আজকের এই নাগরিক সমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা মাইলফলক। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটা সুষ্ঠু, নিরপে ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, আজকের এই নাগরিক সমাবেশ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

তিনি অধ্যাপক ডা: বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সবাই এক সাথে কাজ করুন, আমরা আপনাদের সাথে আছি। একটা বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার রার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করব।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজ থেকে ৪৭ বছর আগে এ দেশের কোটি কোটি মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছিল। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমাদের বলতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ মৃত। অল্পসংখ্যক মানুষের কাছে সব সম্পদ চলে যাচ্ছে। আর দরিদ্র মানুষদের আরো দরিদ্র হয়ে দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্নের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এসব অনাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য দরকার। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, জনগণ বারবার প্রতারিত হতে চায় না। তার সুশাসন চায়। তিনি বলেন, জনগণকে অতীতের মতোই আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা হচ্ছে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন। এখন সারা দেশের মানুষকে চিকিৎসা, বিচার এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ভাতার জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এই কেন্দ্রিকতার উন্নয়ন জাতিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গ্রামের মানুষ, গার্মেন্টকর্মীদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী করণীয় তা করতে হবে।

আ স ম আবদুর রব বলেন, দেশের মানচিত্র লুট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশ আজ গুম, খুন, অপহরণ, বেওয়ারিশ লাশে পরিণত হয়েছে। দেশে উন্নয়ন হয়েছে, আবার লুটও হয়েছে। ব্যাংকের টাকা লুট হচ্ছে। কবে যে দেশের মানচিত্র লুট হয়ে যায়, সেই আতঙ্কে রয়েছি। সরকার দেশ রায় নয়, অন্য কাজে ব্যস্ত। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সংসদ ভেঙে দিন, নিরপে সরকার গঠন করে আমাদের ঐক্যে চলে আসুন। জিতলে আমরা মেনে নেবো। তিনি বলেন, আমরা মাঠে নামব দেশ থেকে স্বৈরাচার হঠাতে। এর জন্য জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে বন্দী করে রাখা হচ্ছে। আমরা রাজপথে নামলে কাউতে বন্দী রাখতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে। উই ওয়ান্ট জাস্টিস। জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, দেশ আজ গভীর সঙ্কটে। নির্বাচনের বাকি মাত্র তিন মাস। এ সময়ও সরকার বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
তিনি জানান গত শুক্রবারও তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাম দলের নেতাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। আমি বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক দলের আটক নেতাদের মুক্তি চাই। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা ভোট দিতে পারব না। ভোট দিতে পারলেও সঠিকভাবে ভোট গণনা হবে না।

আওয়ামী লীগ সরকারকে চোর, লুটেরা ও ডাকাত অভিহিত করে মান্না বলেন, এই সরকারের সময় ব্যাংকগুলোতে সোনা তামা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, মামলা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য। আওয়ামী লীগ চোর, লুটেরা, ডাকাত। ওরা ব্যাংকের টাকা চুরি করে। এই চোরের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে মতা থেকে হঠাতে হবে। কারো মতা নেই, এই ঐক্য রুখতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে মতা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করব। তিনি বলেন, এই সং মার্কা সংসদ দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করলে চলবে না। এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা চলবে না। নির্বাচনের আগে জনগণকে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সারা দেশে আমরা যাব ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে। লাখো-কোটি মানুষকে নিয়ে এক দফার দাবি নিয়ে মাঠে নামা হবে।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় তিনি বলেন, এ আওয়ামী লীগ লুটেরাদের দলে পরিণত হয়েছে। এটা বঙ্গবন্ধুর দল না। এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে না।
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জনগণ ভোট চোরদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা আর ২০১৪-এর মতো নির্বাচন হতে দেবে না। তিনি বলেন, এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও কথা বললেও তারা একের পর এক চেতনাবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, একক কোনো দল সমগ্র জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। আইন, বিচার, নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের ফলে দলীয় সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই। আর এ জন্য সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ আর এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তবে এর পরিবর্তনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐকবদ্ধ হতে হবে।

ছোট ছোট মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টায় থেকে আসতে থাকেন। বেলা ২টার পরপরই মিলনায়তনস্থল হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। মিলনায়তনে বাইরে লোকজন যাতে বক্তব্য শুনতে পারে সেজন্য পুরো প্রাঙ্গণে মাইক টাঙানো হয়। তবে সমাবেশস্থলে দু’বার বিদ্যুৎ চলে যায়। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এ সমাবেশ জুড়েই ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেøাগান।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ গণফোরাম নেতা আ ও ম শফিউল্লাহ, মোশতাক আহমদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সভাপতি মোস্তফা জামান, সোনার বাংলা পার্টির আবদুর নূর প্রমুখ।


আরো সংবাদ