১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পকদের চিহ্নিত করতে কমিশন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বক্তব্য রাখছেন -

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পৃথিবীর সব দেশের রাজধানী শহরেই যানজটের সমস্যা রয়েছে। যানজট সমস্যা সমাধান ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সরকারের ঢাকা শহরের চার দিকে রিং রোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ রিং রোড এলিভেটেড করা হবে। একই সাথে সরকার রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকল্পে এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পসহ পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনাকারীকের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা হবে। গতকাল বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান।
মো: আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর দুইবার সরকার গঠনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়, পরোভাবে দেশী ও বিদেশী কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এ জন্য জাতির পিতাকে হত্যার অন্য পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে এবং আশ্রয় গ্রহণ করেছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব রকমের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
জাতীয় পার্টির সদস্য বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর সব দেশের রাজধানী শহরেই যানজটের সমস্যা রয়েছে। যানজট সমস্যা সমাধান ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। স্থাপিত এলিভেটরগুলোর সাথে প্রয়োজনে সংযোগ দেয়া হবে। বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, বালু, তুরাগ নদীতে নৌপথ এবং এরই পাড় ধরে ভবিষ্যতে রিং রোড করে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংসদে পাঁচটি প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, সোনারগাঁও হোটেল, পলাশী, মগবাজার, কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত র‌্যাম্পসহ ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প : সংসদ নেতা বলেন, এটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া হয়ে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রকল্প।
ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প : প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বালিয়াপুর থেকে নিমতলী- কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে।
ঢাকা ইস্টওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প : এই প্রকল্পটি জি-টু-টি পদ্ধতিতে অর্থায়নসহ নির্মাণে মালয়েশিয়া সরকার প্রস্তাব দিয়েছে বলে তিনি জানান।


আরো সংবাদ