২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে নিউ ইয়র্কে মির্জা ফখরুল

-

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে নিউ ইয়র্কে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাত ২টায় অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সাথে গেছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। জানা গেছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংস্থাটির সদর দফতরে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় একটি আলোচনায় অংশ নেবেন বিএনপি মহাসচিব। এতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল নিজ দল বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ সফরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব। দলটিকে এই আগ্রহের কথা জানিয়ে গত সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিবকে নিউ ইয়র্কে যেতে আমন্ত্রণ পাঠান অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
জানা গেছে, বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব বরাবর আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।
জানা গেছে, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সুপারিশমালা তুলে ধরবে বিএনপি। একই সাথে বিএনপিসহ বিরোধী দল-মতের ওপর ‘সরকারের দমনপীড়নের’ চিত্রও তুলে ধরা হবে। বিগত তিন সিটি নির্বাচন, গুম, খুনসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বর্ণনাসহ সমসাময়িক পরিস্থিতির একটি সচিত্র প্রতিবেদনও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানা গেছে।
গত জুলাই মাসের শুরুতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তখন তার আগমনের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখা। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও যৌথ বৈঠক করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব।
বিএনপি ওই সময় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাথে একটি বৈঠকের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তা যেকোনো কারণেই হোক হয়নি। এরই প্রোপটে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বিএনপিকে নিউ ইয়র্কে ডেকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি নিরপে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়ও বিএনপি একই দাবিতে অনড় ছিল। ওই নির্বাচনের আগে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের পাঠানো বিশেষ দূত তারানকো। যদিও তারানকোর সে সমঝোতার ফর্মুলা পরে মানা হয়নি।

 


আরো সংবাদ