১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কারাগারে আদালত সংবিধানসম্মত নয় : ড. কামাল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ড. কামাল হোসেন : নয়া দিগন্ত -

বিশিষ্ট আইনজীবী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কারাগারে আদালত বসানো সংবিধান সম্মত না। তিনি বলেন, আমার ধারণা বিএনপি এটা নিয়ে কোর্টে যাবে। কোর্টই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আমি কোর্টে গেলে তো এটাই বলতামÑ যে এটা সংবিধান সম্মত নয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার গণফোরামের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ধরপাকড় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিনি আরো বলেন, কর্নেল তাহেরের বিচারের সাথে খালেদা জিয়ার বিচার মেলানো হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। পাশাপাশি তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া উচিত এবং চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় আমরা সভ্যসমাজে বাস করি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, যেভাবে ধরপাকড় হচ্ছে এটা নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। কাউকে গ্রেফতার করতে হলে ওয়ারেন্টসহ ইউনিফর্ম পরে আসতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। যেন সে জামিন চাইতে পারে। তিনি বলেন, বিশেষ কারণে দুই একবার সাদা পোশাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। তবে এটা এখন নিয়মিত করা হচ্ছে। কারো অপরাধ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাও সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে কিভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এখন যা হচ্ছে সরকার তা করতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা বেআইনি শাসনে চলে যাচ্ছি। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সাবধান হতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে। দ্রুত ধরপাকড় বন্ধ করা হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রয়োগ হবে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে। কিন্তু এখন যেভাবে সাদা পোশাকে ধরা হচ্ছে সেটা সংবিধান সম্মত নয়, আইনের লঙ্ঘন। সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে না। সংবিধানে বলা আছে, কাউকে আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। সংবিধানের এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা এসব বিষয়ে আদালতে যাবো। উচ্চ আদালতের কাছে আমরা আদেশ চাইব।
সোহরাওয়ার্দীতে নয় মহানগর নাট্যমঞ্চে : এ দিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছিল। জানা গেছে এক মাস আগে অনুমতি চেয়ে পাওয়া যায়নি। ফলে ঐক্য প্রক্রিয়ার সে সমাবেশটি হবে এখন গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে, এখানে অনুমতিও মিলেছে। তবে কেন সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি জানতে চাওয়া হলে ড. কামাল হোসেন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এটা সরকারকে জিজ্ঞেস করুন। আমরা অনুমতি পাইনি। তা ছাড়া আমি অনুমতিÑ এমন শব্দ বুঝি না। সরকার যখন তখন সেখানে সমাবেশ করবে আর আমরা বা বিরোধী দল চাইলে তাদের করতে দেয়া হবে না এটা কি করে সম্ভব? এটা জমিদারি না। এটা সংবিধানের ১৬ আনা পরিপন্থী। তা ছাড়া সংবিধানে এসব বৈষম্য তো নেই। তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের বৈষম্য করে সংবিধানকে বারবার অশ্রদ্ধা করছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। আমি আগে বলেছিলাম নির্বাচনটা আদৌ হবে কি না। আসলে নির্বাচনটা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন ভয়ভীতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতকে নিয়ে ঐক্য আমি করব না। অন্য কেউ করলে সেটা জানি না। তবে জামায়াত তো এখন দলই নেই। তারা নির্বাচন করতে পারবে না। আমরা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টা ইতিবাচকভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। ঐক্য হলে আপনারা জানতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিক উল্লাহ, নৃপেণ ঘোষ, অ্যাডভোকেট মো: সগীর আনোয়ার, সাইদুর রহমান, মোশতাক আহমেদ।

 


আরো সংবাদ