২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পুলিশ গ্রেফতার দেখাল নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীকে

-

রাজধানী থেকে নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজকুনিপাড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে বিভিন্নভাবে উসকানি দেয়ার পাশাপাশি গুজব ছড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ডিবির পক্ষ থেকে।
গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরের ডিসি মশিউর রহমান। এ সময় ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ডিসি মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
১২ শিক্ষার্থীকে পাঁচ দিন আগে আটক করা হয়েছিল বলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি করে গত রোববার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। তাদের সংবাদ সম্মেলনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হলো তারা নিখোঁজ ছিল না। তাদের পরিবারের দাবিকে নাকোচ করে দিয়ে ডিবির ডিসি বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। রোববার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ার একটি ভবনের নিচ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলোÑ তারেক আজিজ, মো: তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাহিদুল ইসলাম, আল আমিন, জাহিরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজীব, মো: মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদীন। তারা ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি, তিতুমীর কলেজ ও সরকারি সাদাত কলেজের শিক্ষার্থী।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পলিটেকনিক ছাত্র তারেক আজিজের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তারেক আজিজকেও আসামি করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা মশিউর রহমান সম্মেলনে জানান, গ্রেফতারকৃতরা গত ২৯ জুলাই রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বিভিন্ন লেখা, ছবি, ভিডিও প্রকাশ করে তারা গুজব ছড়ায়। গত ৬ আগস্ট দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ের আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তারা ৪ থেকে ৫০০ জন জড়ো হয় এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তারা ওই সময় রাস্তা বন্ধ করে এবং মুহুর্মুহু সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের লোগো সংবলিত ১২ সেট ড্রেস, ১৩ ফিতাসহ আইডি কার্ড, হ্যান্ডমাইক, ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, হাতুড়ি, স্ক্রু ড্রাইভার, তিনটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন বই জব্দ করা হয়েছে। ওই আইডি কার্ড ও ড্রেস তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয় বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
তবে গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গতকাল ১২ শিক্ষার্র্থীকে আদালতে হাজির করার সময় তাদের পরনে যে পোশাক ছিল, আইডি কার্ডেও সেই একই পোশাক দেখা গেছে। অর্থাৎ গ্রেফতারের সময় তাদের পরনে ওই একই পোশাক ছিল। তাদের দাবি গ্রেফতারের পর ওই আইডিকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
এ দিকে গ্রেফতারকৃতদের গতকাল আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত এ সময় তারেক আজিজকে চার দিন ও অন্যান্যের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 


আরো সংবাদ