১৪ নভেম্বর ২০১৮

গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ব্যয় বাড়ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা

কিলোমিটারে খরচ বাড়ল ৩২ লাখ টাকা
-

নির্ধারিত ব্যয় ও সময়ে কখনোই সমাপ্ত হয় না সড়ক ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় খরচ ও মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইম্প্রুভমেন্ট নামের প্রকল্পটিও নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। বারবার সময় বাড়ানোয় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা এক হাজার ৪৮৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ফলে প্রতি কিলোমিটারে সড়ক উন্নয়ন ব্যয় ৩২ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বর্ধিত সময়ের শেষে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি ৮৭.১২ শতাংশ বলে পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন কমিটির কাছে পাঠানো প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব আগামীকাল মঙ্গলবারের একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
জানা গেছে, সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সম্প্রতি। প্রস্তাবনার তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের অক্টোবরে এ রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইম্প্রুভমেন্ট-২ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৩৪৩ কোটি চার লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এতে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে ঋণ ছিল দুই হাজার ৪১৬ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং সরকারি অর্থায়ন ছিল ৯২৬ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের জুনে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার কথা ছিল। টেকসই গ্রামীণ পরিবহন ও বাজার সেবা প্রবর্তনের জন্য ভৌত সমস্যাদি দূর করা, পল্লীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দুস্থ মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থান, গ্রামের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, জলাধার পুনরুদ্ধারে ড্রেজিং করার জন্য এ প্রকল্পটি নেয়া হয়। প্রকল্প সাহায্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা কমে যাওয়ায় ব্যয় কমিয়ে এবং সময় ২০১৮ সালের জুন এক বছর পর্যন্ত বর্ধিত করে প্রকল্পটি একবার সংশোধন করা হয়। এতেও প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে পারেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।
এখন প্রকল্প ব্যয় এক হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার বাড়িয়ে চার হাজার ৮১৯ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এলজিইডির পক্ষ থেকে। যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে ঋণ চুক্তি বিলম্বে কার্যকর, ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, ডিজাইন ও সুপারভিশন পরামর্শক ফার্ম নিয়োগে বিলম্ব এবং ২০১৭ সালের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১৮ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে কিছু কাজ যুক্ত হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংক বাড়তি ১০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সে কারণে প্রকল্পটি বিশেষ সংশোধনের প্রস্তাব করা হচ্ছে বলে এলজিইডি জানায়। তবে চুক্তিটি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি।
এ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে পরামর্শক খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যার বেশির ভাগ টাকা যাবে ঋণসহায়তা থেকে, পরে পরামর্শক খাতে ব্যয় বিভাজন করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে মোট ২৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তি পরামর্শক খাতে ব্যয় কমিয়ে ১৮৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত পরামর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠান খাতে ব্যয় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা।
এখানে মূল কাজ হলো গ্রাম সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন। পাঁচ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার রাস্তার জন্য বরাদ্দ ধরা হয় দুই হাজার ৯৫৯ কোটি ৭১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এতে প্রতি কিলোমিটার রাস্তায় ব্যয় পড়ে ৫৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা। নতুন করে সহায়তা পাওয়ার কারণে বাড়তি এক হাজার ৩৬০ দশমিক ৯০ কিলোমিটার রাস্তা যুক্ত করা হয়। তার জন্য ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ১৯২ কোটি ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ফলে একই প্রকল্পে কিলোমিটারে ব্যয় বাড়ল ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
জানা গেছে, প্রকল্পটি দেশের ২৬ জেলার ২২৪টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, প্রকল্পের বিভিন্ন আইটেমের ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। শেষ মুহূর্তে এসে ২০৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কেনার যৌক্তিকতা প্রশ্নসাপেক্ষ। পরামর্শক খাতে বাড়তি কাজের জন্য ৮৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কমাতে হবে। নতুন বা এখনো টেন্ডার হয়নি এমন সড়কের ক্ষেত্রে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় নির্ধারণ করে তা সংশোধিত ডিপিপিতে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি কেন ২০২১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে, এ ছাড়া এর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

 


আরো সংবাদ