১০ ডিসেম্বর ২০১৮

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার আরো জনবিচ্ছিন্ন : ফখরুল

-

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার আরো বেশি জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাদের বাকশালী ও ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিষ্কার হয়েছে।
এই আন্দোলনকে দমাতে সরকারের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব। গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন বাস চালকের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের ফলে ঢাকায় দুইজন কলেজ ছাত্র-ছাত্রীর অকাল ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল প্রতিরোধের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। সতীর্থ ভাইবোনদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের এই যুগান্তকারী আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, গাড়ির কাগজপত্র চেক করার মতো গঠনমূলক এবং উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় মন্ত্রী, বিচারপতি, পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধরণ মানুষের প্রতি তাদের সম-আচরণ ছিল দৃষ্টান্তমূলক ও শিক্ষণীয়। তাদের দাবি ছিল নিরাপদ সড়কের এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করাটাকে একটা অন্যতম প্রাথমিক কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তারা কারো সাথে দুর্ব্যবহার কিংবা দেয়াদবি করেনি বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রিকশাগুলোকে এক লাইনে চলার এবং অ্যাম্বুল্যান্স ও ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট লাইন ফাঁকা রাখার মতো আইনি ও আধুনিক ব্যবস্থা যে করা সম্ভব তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এই শিশু-কিশোরদের ৯ দফা দাবির আন্দোলন ও কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমরাও বিএনপির এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য ও জরুরি এসব দাবি-দাওয়ার প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উসকানি আবিষ্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনেই এই সরকার একই কাজ করেছে এবং এই সুযোগে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মী ও আন্দোলনে সক্রিয়দের বিরুদ্ধে হায়েনার মতো আক্রমণ চালিয়েছে। নিরীহ ছাত্রছাত্রীরা গুম, আহত ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি হয়েছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ডা: অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাদের কটূক্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে, সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ন্যায্য আন্দোলনকে পেশিশক্তি দিয়ে দমন করার অপকৌশল হিসেবে বিএনপিসহ আন্দোলনকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এমনকি সচেতন ব্যক্তিবর্গ যেমন বিশিষ্ট আলোকচিত্রশিল্পী ও সাংবাদিক শহিদুল আলমকে টার্গেট করে ফ্যাসিস্ট কায়দায় নিপীড়ন চালিয়েছে। তারা বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সারা দেশে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতার করে নিপীড়ন করেছে বহু নেতাকর্মীকে। নিরীহ অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পায়নি। সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের মারধর করেছে। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হোস্টেল ও আবাসস্থলে গিয়ে ছাত্রদের মারধর করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এসব কিছুই ঘটেছে পুলিশের চোখের সামনে এবং তাদের সহযোগিতায়।
ওবায়দুল কাদের রসিকতা করছেন : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, এসব আক্রমণ নাকি বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা করেছে। এ দেশের এমন কোনো পাগলও নেই তারা বিশ্বাস করবে যে পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মারধর করবে, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে আর তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে না? হেলমেট পরা মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্রছাত্রীরা বলার পরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়। কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখার পরও এই সত্যগুলো টিভি ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে যায়নি এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়ে গেছে। বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণকারীদের ছবির ছড়াছড়ি থাকার পরও অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য ওবায়দুল কাদের কেন ছবি ও নাম চান? কেন তথ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাতে হয়। কী বিচিত্র এই দেশ! আর বিচিত্র বলেই তারা অপরাধ করে তার দায় চাপানোর চেষ্টা করছে আমাদের ওপর। বিএনপিকে আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে সরকারি অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দৈনিক জনকণ্ঠে তিন বছর আগের একটি ছবি ছাপিয়ে জনমত বিভ্রান্ত করার জন্য পত্রিকাটি ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এতে সরকার ও তার সমর্থকদের থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছি। এটা অপরাধ হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মকর্তারা পর্যন্ত একই অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু যে সরকার প্রার্থী, ভোটার এবং ভোট ছাড়া নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে জোর করে রাষ্ট্র চালাতে লজ্জাবোধ করে না তাদের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক বক্তব্য ও আচরণ ছাড়া আর কী আশা করা যেতে পারে। আমরা নিশ্চিত যে নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও মিডিয়া ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী প্রকৃত তথ্য পরিষ্কারভাবে জেনে গেছেন বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ক্রমাগত মিথ্যাচারে তারা বিভ্রান্ত হবেন না।
পরিবহন আইন সংশোধন দাবি : মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সংশোধিত এই আইনে ছাত্রছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ, এই আইনে সড়ক পরিবহন খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। সবাই জানেন যে শুধু চালকের অপরাধে দুর্ঘটনা ঘটে না। চালক নিয়োগে, গাড়ির ফিটনেস যথাযথ করা এবং চালকদের বেতন, ভাতা, অবসর শারীরিক সুস্থতা ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব যে মালিকদেরÑ তাদের বিরুদ্ধে আইনে কার্যকর পদক্ষেপ তথা বিআরটিএ এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনের কোনো বিধান রাখেনি। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কি না এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘ দিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি।
গত কয়েক দিনের আন্দোলনে যেসব শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি, আহতদের সুস্থতা কামনা, সবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব। পাশাপাশি যারা সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়ির সামনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের ওপর হামলা এবং বদিউল আলম মজুমদারের বাড়ি আক্রমণ ও ভাঙচুরের জন্য দায়ী আওয়ামী গুণ্ডাদের এখনো গ্রেফতার না করায় তীব্র নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। তার সুচিকিৎসা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। নানা বাহানায় তার মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে। অন্য দিকে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা চালিয়েও সরকার নিজেদের নিরাপদবোধ করছে না। তারা দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে হাস্যকর ও বানোয়াট গল্প প্রচার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই আর তা হলো আবার একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েমের সরকারি নীলনকশা বাস্তবায়ন। আমরা এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন থাকার ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, গুজব তো তখনই ছড়ায় যখন আপনি সত্য প্রকাশে বাধা দেবেন, কথা বলতে দেবেন না। যারা সত্য প্রকাশ করবে, বলবে, তাদের গ্রেফতার নির্যাতন করবেন, তখনই গুজব ছড়াবে। তাই এসব বন্ধ করতে হলে সত্য প্রকাশ করতে দিতে হবে, কথা বলতে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে বিএনপি ভীতি আছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির নাম শুনলে জলাতঙ্ক রোগীর মতো ভয় পায়। এ কারণে যা কিছু হয়, সেখানে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে দেখতে পায়। মনে হয় বিএনপি ভীতিতে প্রত্যেক রাতে তারা ঘুমাতে পারে না।


আরো সংবাদ

যেসব আসনে ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে (২৮৭৩৪)বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা প্রার্থী হলেন (১৩০২৭)মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির আনিসুল হক বললেন- ব্যক্তি নয় মার্কাই বড় (১১৮১৮)অভিমানে বিএনপি ছাড়লেন মনির খান (১১১৭৬)জোটে ২২ আর উন্মুক্তভাবে ১ আসনে লড়বে জামায়াত (১০৮৭৮)ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (৯৭০৯)বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেমকে লক্ষ্য করে গুলি! (৯২৭০)এত কিছু করেও মির্জা আব্বাসকে ঠেকাতে পারলেন না মেনন (৯২৪৯)বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন খন্দকার মাহবুব (৮৬১২)বিএনপির আরো চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যারা (৭৯২০)