২১ আগস্ট ২০১৮

খালেদা জিয়ার চার মামলার শুনানি কাল

-

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা এক মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের বিষয়ে আগামীকাল রোববার আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আবেদনটি রোববারের কার্যতালিকায় দুই নম্বরে রয়েছে। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রোববার আদেশের জন্য রাখেন। এ ছাড়া রোববার বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা আরো তিনটি মামলার শুনানি রয়েছে। এগুলো হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নি¤œ আদালতের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিলের শুনানি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলের আদালতে দায়েরকৃত মানহানি মামলার জামিন আবেদনের শুনানি এবং বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, তার বিরুদ্ধে এই চার মামলাসহ মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা দুদকের দায়ের করা, কয়েকটি মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা এবং বাকিগুলো অবরোধের সময় নাশকতার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়। উচ্চ ও নি¤œ আদালতে এসব মামলার শুনানি চলছে। এসব মামলার মধ্যে বেশির ভাগ মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে আছেন। তবে আরো কিছু মামলায় তার জামিন নিতে হবে। সব মামলায় জামিন পেয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া করামুক্ত হতে পারেন বলে মনে করেন তার আইনজীবীরা।
এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেননয়া দিগন্তকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার বিরুদ্ধে করা কিছু মামলা আছে, যেগুলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ছিল। ক্ষমতায় এসে সেসব মামলা খারিজ করা হয়। আর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা এসব মামলা রয়ে গেছে। খালেদা জিয়া বেশির ভাগ মামলায় জামিনে আছেন। আরো কিছু মামলায় জামিন নিতে হবে। আশাকরি অচিরেই তিনি সব মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হবেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া কারামুক্তি পেতে পারেন বলে খন্দকার মাহবুব হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের ১৪তম দিনের শুনানি রয়েছে আগামীকাল রোববার। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিলের ১৩তম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী আপিলের শুনানি করছেন। তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নি¤œ আদালতের রায়ের অংশ থেকে শুনানি করছেন। এর আগে বুধবার এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত দেন হাইকোর্ট।
অন্য দিকে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলের আদালতে দায়েরকৃত মানহানি মামলায় হাইকোর্টে দায়ের করা জামিন আবেদনের ওপর রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে এ মামলায় জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টা কায়সার কামাল। আগামীকাল রোববার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই জামিন আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল আহাদ শেখের আদালত। ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে এ মামলা করা হয়।
এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ১২ আগস্ট রোববার তারিখ রয়েছে। রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ২-এ এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে কুমিল্লার এক মামলার জামিন বিষয়ে শুনানিতে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ৩৬টি মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে গেলে একটি মামলাও থাকবে না। তিনি বলেন, কুমিল্লার এ মামলার সব আসামি জামিনে আছেন। রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আসামির জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করেনি। এমনকি হাইকোর্টেও আবেদন করেনি। তিনি বলেন, এই মামলার কোনো ম্যারিট নেই। ব্যক্তি খালেদা জিয়া আসামি বলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর আদালত এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তিনি সেখানে বন্দী।


আরো সংবাদ