২৩ অক্টোবর ২০১৮

চাপ বাড়ছে ট্রেনে

-

কাছাকাছি চলে এসেছে ঈদুল ফিতর। অগ্রিম টিকিটের জন্য রাত ভর অপেক্ষা, বিলম্বিত যাত্রায় ভোগান্তি— এসবের কোনো কিছুই থামিয়ে দিতে পারছে না ঘরমুখো মানুষদের। টিকিট না পেলেও ছাদে কিংবা ভেতরে দাঁড়িয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে রাজধানীর মানুষ।
গতকাল রেলস্টেশনগুলো ঘুরে দেখা যায়, গত তিন দিনের তুলনায় ট্রেনের যাত্রী কয়েকগুণ বেড়েছে। রাজধানী ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনই ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত আসন ছাড়াও ট্রেনের ইঞ্জিন, দরজা, সম্মুখভাগ, ছাদ ছিল লোকে লোকারণ্য। একই দৃশ্য দেখা গেছে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে। সকাল থেকেই স্টেশনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের ছাদে শত শত যাত্রী। ভিড়ের চাপে আসন পেতেও সমস্যা হয়েছে অনেকের।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, গতকাল অল্পকিছু ট্রেন ছাড়া প্রায় বেশির ভাগ ট্রেনই সঠিক সময়ে কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের পৌনে ১ ঘণ্টা পর, রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ে এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের ৫৫ মিনিট পর ছাড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ২০ মিনিট দেরি করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। জামালপুরের তারাকান্দি রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়েছে।
এ ছাড়া দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট দেরি করে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে, লালমনিরহাটের লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন সকাল সোয়া ৯টায় ছাড়ার সময় থাকলেও ছাড়ে বেলা ১১টায়, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার সময় সকাল ৮টায় থাকলেও আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে ৮টায় গেছে।
এ দিকে যাত্রীদের খোঁজখবর নিতে বুধবার দুপুরে সোয়া ২টায় কমলাপুরে আসেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এ সময় তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রথমে ৫ নং প্লাটফর্মে যান। এ সময় ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের সাথে কথা বলেন তিনি।
দুপুর আড়াইটার দিকে ওই প্লাটফর্মে দাঁড়ানো সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলতে শুরু করলে মন্ত্রী মুজিবুল হক সবাইকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে মন্ত্রী ৩ নং প্লাটফর্মে অবস্থান নেয়া যাত্রীদের খোঁজ নেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে তিনি কথা বলেন।
ট্রেন ছাড়তে বিলম্বের বিষয়ে সাংবাদিকেরা মুজিবুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সকল ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে, শুধু সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫৫ মিনিট বিলম্ব করেছে।
ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ছাদে উঠা আইনে নাই, যারা ছাদে উঠে তারা তাদের নিজ দায়িত্বে উঠে। আমাদের কর্মকর্তারা তৎপর আছে, যেন কেউ ছাদে না উঠতে পারে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে পর যদি আমরা মতায় আসি তাহলে আগামী ঈদুল ফিতরে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। গত ৪ তারিখে অগ্রিম টিকিট নেয়া যাত্রীরা আজ বাড়ি যাচ্ছে। আগামীকাল যাবেন ৫ তারিখে টিকিট নেয়া যাত্রীরা।

 


আরো সংবাদ