২৩ অক্টোবর ২০১৮

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার সময়পেণ করছে : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে বক্তৃতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর :নয়া দিগন্ত -

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার সময়পেণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, দলের প থেকে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে যাবতীয় খরচ দল বহন করবে। পরিবার থেকেও বলা হয়েছে তার চিকিৎসার সব ব্যয় পরিবার থেকে বহন করা হবে। এ েেত্র বিলম্ব করার অর্থই হচ্ছে, দেশনেত্রীর জীবন একটা হুমকির সম্মুখীন হওয়া। আমরা আশা করছি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়ার অনাগ্রহের পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালে বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, যিনি রোগী তার আস্থার ব্যাপার আছে। জেলকোডের কোথাও বলা নেই, শুধু সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হবে। সে জন্য দলের প থেকে বলা হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
দেশের বর্তমান অবস্থাকে ভয়াবহ দুঃসময় অভিহিত করে এ থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে সব গণতান্ত্রিক দল ও শক্তির এক হওয়ার আহবান জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। সেই ঐক্য সৃষ্টির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। এ জন্য সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সব মানুষকে এক করে এই ঐক্য গড়ে তুলে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে, দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এই ঐক্য সৃষ্টি করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের বুকের ওপর চেপে বসা দানবকে সরাতে হবে।
ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করে এ দেশে আমরা অবশ্যই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ। নিরপে সরকারের অধীনে সেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, যে সংসদ আছে তা ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল অরনেটে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লেবার পার্টির আয়োজনে কারাবন্দী জোট নেত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এই ইফতার মাহফিল হয়।
দলটির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ইফতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির মির্জা আব্বাস, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম বক্তব্য রাখেন।
ইফতারে বিএনপির সিনিয়র নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, হায়দার আলী, সুজাউদ্দিন, সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের মাওলানা শফিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন, সহসভাপতি মো: ফারুক রহমান, মোসলেম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম রাজু, মাহবুবুল ইসলাম খালেদ, আমিনুল ইসলাম, এস এম ই্উসুফ আলী, তানভীর হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন। ইফতার শুরুর আগে কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় বিশেষ মুনাজাত হয়।

 


আরো সংবাদ