বেটা ভার্সন

পরকালের সাফল্য মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য

-

আজ মাহে রমজানুল মোবারকের ২৮ তারিখ। আর মাত্র এক দিন বা দু’দিন পরে অফুরন্ত রহমতের মাস বিদায় নেবে। দীর্ঘ দিনের সিয়াম সাধনার পর মুমিন বান্দারা যখন মহান প্রভুর কাছে আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করবেন, তখন তিনি তাদের প্রতি অনুকম্পার দৃষ্টিতে তাকাবেন। আর তাদের জন্য বরাদ্দ করবেন জান্নাতের নেয়ামতরাজি।
আল্লাহ তায়ালার হুকুম পালন করতে গিয়ে মুমিনের যে দৈহিক দুর্বলতা সৃষ্টি হয়, তা তাকে আখেরাতমুখী করে তোলে। মহানবী সাল্লাল্লøাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনÑ রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের ঘ্রাণের চেয়ে প্রিয়। শহীদের রক্ত থেকে কিয়ামতের ময়দানে ঘ্রাণ ছড়াবে এবং আরাফাতের ময়দানে হাজীদের ধূলিমলিন চেহারা ও এলোমেলো চুল দেখে যেমন আল্লাহ তায়ালা তাদের নিয়ে গর্ব করবেন বলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এটাও তেমন। বস্তুত দয়াময় প্রভুর হুকুম পালনের দৈহিক ছাপও আল্লাহর পছন্দ। তাই সারা দিন পানাহার বর্জনের ফলে শরীরে যে প্রতিক্রিয়া সুষ্টি হয়, তা আল্লাহর দয়া উদ্রেক করে।
রমজান মাস যখন শেষ হয়ে আসে, তখন দৈহিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। এভাবে ইন্দ্রিয়ের তাড়না ও প্রাবল্য নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে তার মধ্যে বিনয়, নম্রতা, শিষ্টতা ও নিরহঙ্কারের মতো গুণাবলির উন্মেষ ঘটবে বলে আশা করা যায়। তার মধ্যে আখেরাতের চিন্তা জোরদার হয়। বান্দার মধ্যে এই চিন্তা সব সময় জাগ্রত থাকা আল্লাহর অত্যন্ত পিয়। আম্বিয়ায়ে কেরাম মানুষকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন; কিন্তু মানুষের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য তাকে দুনিয়ার কাজে মশগুল রাখে। তবু সর্বণ না হলেও মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য আখেরাতের চিন্তায় মশগুল হতে হবে। আধ্যাত্মিক সাধকেরা তাদের শিষ্যদের এ অনুশীলন করান। তাদের ভাষায় এটাকে বলা হয় মুরাকাবা। এ প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। একদিন হজরত হানজালা রাযিয়াল্লাহু আনহু চিন্তা করলেন, আমরা যখন আল্লাহর রাসূলের দরবারে থাকি এবং তিনি আমাদের সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করেন, তখন আমরা যেন তা চাুষ দেখতে পাই; কিন্তু যখন তাঁর দরবার থেকে উঠে আসি এবং পরিবার ও সম্পদের সংস্পর্শে আসি তখন অনেক কিছুই ভুলে যাই। নিশ্চয়ই এটা ঈমানের আলামত নয়, বরং মুনাফেকের আলামত। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন এবং আল্লাহর রাসূলের কাছে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলেন। পথে দেখা হলো হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে। চোখে মুখে অস্বাভাবিকতার ছাপ দেখে হজরত আবু বকর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। হজরত হানজালা বললেন, তিনি মুনাফেক হয়ে গেছেন। হজরত আবু বকর আশ্চর্য হলেন। হজরত হানজালা তখন নিজের মনোভাবটি বললেন। হজরত আবু বকর বললেন একই অবস্থা তো আমারও। এই বলে তারা উভয়ে আল্লাহর রাসূলের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং নিজেদের বৃত্তান্ত খুলে বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, আমার কাছে থাকার সময়ে তোমাদের যে মনোভাব হয়, তা যদি সর্বণ থাকত, তাহলে তোমাদের পথ চলার সময়ে এবং বিছানায় অবস্থানের সময়ে ফেরেশতারা তোমাদের সাথে সাাৎ করত। তবে তোমরা মাঝে মাঝে এই মনোভাব সৃষ্টির চেষ্টা করবে। ( মুসলিম শরিফ)
মোট কথা, দীর্ঘ একটি মাস সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ুধা-পিপাসা ও প্রবৃত্তির চাহিদা দমনের যে সুফল অর্জিত হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের সামনে আপন সত্তাকে বিলীন করে দেয়ার যে শিা লালন করা হয়েছে, তা সজীব রাখতে হবে সারা বছর। মাহে রমজানে যেসব সদভ্যাস গড়ে উঠেছে, যেসব নেক কাজ পালন করা হয়েছে, বিশেষভাবে নফল ইবাদতের প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়েছে, রমজানের পরও সেগুলো অব্যাহত রাখতে পারা বড়ই সৌভাগ্যের বিষয়।
তাকওয়া, তাওয়াক্কুল ও খোদাপ্রেমের দীা রমজানের বহুল আলোচিত বিষয় হলেও এগুলোর সম্পর্ক শুধু এ মাসের সাথে নয়, সারা জীবন এসব মহৎ গুণ চর্চা করা সৈাভাগ্যের চাবিকাঠি। সিয়াম সাধনার মাস অতিক্রান্ত হলেও সিয়ামের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও শিা বছরের সব ক’টি মাসে অনুসরণ করতে হবে।


আরো সংবাদ