২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিশ্বকাপের সময় কী ঘটেছিল আর্জেন্টিনা দলে? ফাঁস হলো এখন

মেসি, বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের সময় মেসিদের সাথে কোচ সাম্পাওলির অন্তঃকলহের নতুন কাহিনী নিয়ে একটি বই বেরিয়েছে - সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও শেষ হচ্ছে না আর্জেন্টিনা দল নিয়ে বিতর্ক। অবশেষে বেরিয়ে পড়েছে যে, লিওনেল মেসিদের দুঃস্বপ্নের রাশিয়া সফরের পিছনে ছিল দলের মধ্যে অন্তঃকলহই।

আর্জেন্টিনার এক সাংবাদিকের দাবি সত্যি হলে, বিশ্বকাপে কোচ হর্হে সাম্পাওলি এবং তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সম্পর্ক খুবই তিক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, সেটাই নীল-সাদা দলের বিপর্যয়ের কারণ কি না?

আর্জেন্টিনার এক নামী সাংবাদিক ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন। সেখানে রয়েছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বইয়ে রয়েছে, ক্রোয়েশিয়ার কাছে ০-৩ হারের পরেই মেসিদের শিবির ক্ষোভে ফুসছিল।

লুকা মডরিচদের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আতঙ্ক তাড়া করছিল আর্জেন্টিনাকে। সেই ম্যাচের পরেই নাকি মেসি এবং হাভিয়ের মাসচেরানো মিলে কোচ এবং তার দুই সহকারীকে বৈঠকের জন্য ডাকেন।

মেসিদের ডাকা বৈঠকে সাম্পাওলি খুব মন থেকে বসতে চেয়েছিলেন, বলা যাচ্ছে না। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রধান ক্লদিয়ো তাপিয়া ফুটবলারদের এই বিদ্রোহের কথা জানতেন। তাকে জানিয়েই মেসি এবং মাসচেরানো কোচকে নিয়ে বৈঠক করতে যান বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে। এবং ক্লদিয়ো নাকি সাম্পাওলিকে বলেই দেন, ফুটবলারদের কথা শুনতে হবে। তার পরেই আর বৈঠকে আসা ছাড়া উপায় ছিল না কোচের।

আর্জেন্টিনা শিবিরের পরিস্থিতি তখন ভয়ানক বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে কোচ এবং ফুটবলারদের সম্পর্ক। মেসি এবং মাসচেরানো বৈঠকে কোচের সামনে তাদের বিরক্তি প্রকাশ করতে বাকি রাখেননি বলে বইয়ে লেখা হয়েছে।

মেসি নাকি এমনও বলে দেন কোচের মুখের উপরে যে, ‘‘আমরা যা বলছি, তার উল্টোটাই তো হচ্ছে। দলের মধ্যে কেউ খুশি নয়। আপনার বক্তব্য জানান।’’

বইয়ের বয়ান অনুযায়ী, সাম্পাওলি তখন মেসির কাছে জানতে চান, ‘‘কোন ব্যাপারে আমি বক্তব্য দেব?’’

মেসি এবং মাসচেরানোর তখন পাল্টা জবাব, ‘‘সব ব্যাপারেই দিতে হবে। কেন এমন হচ্ছে? দলে কেউ আপনাকে আর বিশ্বাস করছে না।’’

বইয়ে বর্ণনা করা ঘটনা সত্যি হলে সেই জরুরি বৈঠকে তুমুল বাগযুদ্ধ হয় কোচ সাম্পাওলির সাথে মেসিদের। দলের প্রতিনিধি হিসেবেই এরা দু’জনে গিয়েছিলেন কোচের সাথে দেখা করতে এবং সরাসরি বলতে দ্বিধা করেননি যে, কেউ আর তাকে পছন্দ করছে না।

সাম্পাওলিকে আরো একটি ব্যাপারে কড়া কথা শুনিয়েছিলেন মেসি বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে। দেখা গিয়েছিল, সাইডলাইনের ধারে আসা মেসির কাছে পরিবর্ত হিসেবে কাকে নামাবেন, তা জানতে চাইছেন সাম্পাওলি। এটা নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিলেন মেসি।

বইয়ে লেখা হয়েছে, এই প্রসঙ্গ টেনে মেসি কোচকে বলেন, ‘‘আমার কাছে দশবার করে জানতে চাইছিলেন কেন যে, কোন খেলোয়াড়কে আমি চাই আর কাকে চাই না? কখনও কোনো খেলোয়াড়ের নাম বলিনি আপনাকে। তা হলে কেন এই প্রশ্ন?’’

উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে সাম্পাওলির এক সহকারী তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করতে চান। কিন্তু কোচ সাম্পাওলিই তাকে থামান। সতীর্থকে বলেন, আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্টের সাথে তার কথা হয়েছে। এখন এ সব করতে গেলে বিতর্ক আরো বেড়ে যাবে।

রাশিয়ায় ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের পরে ফুটবলারদের সাথে সাম্পাওলির একটি জরুরি বৈঠকের খবর নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তখন ফুটবলাররা এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল স‌ংস্থা জানিয়েছিল, পুরোটাই মিডিয়ার ফাঁদা গল্প। এর মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। এখন আর্জেন্টিনার প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকের বই বাজারে চলে আসার পরে কীভাবে বিতর্ককে ধামাচাপা দেয়া সম্ভব হবে, সেটাই প্রশ্ন।

 

আরো পড়ুন : জুতো ছিল না, খালি পায়ে হাঁটতেন ম্যারাডোনা

ছেলেবেলায় জুতো ছিল না। খালি পায়ে হাঁটতেন তিনি। বলা হচ্ছে, আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার কথা। অথচ এখন প্রচুর টাকার মালিক তিনি। তবুও ফেলে আসা দিনের কথা তার মনে পড়ে। তাই বেলারুশের ঠাণ্ডায় থাকার প্রসঙ্গ উঠতেই বলে ওঠেন, ‘‘যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার পায়ে জুতোই থাকত না। খালি পায়ে হাঁটতাম। এখানকার বরফ নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। বেলারুশে থাকতে আমার কোনো সমস্যাই হবে না।’’

কিন্তু আর্জেন্টাইন মহাতারকা বেলারুশে থাকবেন কেন? রাশিয়া বিশ্বকাপের পরেই নতুন দায়িত্ব ম্যারাডোনার কাঁধে। বেলারুশের ক্লাব ডায়নামো ব্রেস্টের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিধারী। বেলারুশের ক্লাবের সাথে ম্যারাডোনার তিন বছরের চুক্তি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে নতুন স্পনসর পেয়েছে ডায়নামো ব্রেস্ট। ৩০ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট একটি স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ক্লাবটির।

নতুন ক্লাবের পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে ম্যারাডোনারকে। চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হননি তিনি। অতীতেও তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। পালিয়ে যাননি।

সংবাদমাধ্যমকে ম্যারাডোনা জানিয়েছেন, ‌চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি একেবারেই ভয় পান না। এরকমই একটা চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় তিনি ছিলেন। অ্যাকাডেমির বাচ্চাদের বড় ফুটবলার করার বাসনা রয়েছে ম্যারাডোনার। তবে দিয়েগো ম্যারাডোনা যেমন খামখেয়ালি স্বভাবের, তাই কতদিন তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।


আরো সংবাদ