১৭ নভেম্বর ২০১৮

ফ্রান্স নয়, বিশ্বকাপ জিতেছে আফ্রিকা!

বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের উল্লাস - সংগৃহীত

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মোটেই পছন্দ করেন না। ম্যাক্রোঁ তাকে একজন ডিক্টেটর হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন বহু দিন ধরে। ভেনেজুয়েলার আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। বিরোধী দলগুলো এই নিয়ে আন্দোলনে নামলে মাদুরো তাদের জেলে ঢুকিয়ে দেন। এই নিয়ে নিকোলাস বিশ্ব জুড়েই নিন্দিত। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট তার একটু বেশি সমালোচক হওয়ায় এবার ফ্রান্সের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করলেন মাদুরো।

মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলায় ছিল পুলিশ দিবস। ফুটবল ওই দেশেও বেশ জনপ্রিয়। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় ভালো খেললেও এবার রাশিয়া যাওয়ার টিকিট পায়নি ভেনেজুয়েলা। তাই পুলিশ দিবসের মঞ্চে দেশবাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে তিনি হুগো লরিসদের কটাক্ষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্রান্স নয়, বিশ্বকাপ জিতেছে তো আফ্রিকা!’

কারণ ফ্রান্সের ২৩ জনের দলে এমন ১৬ জন ফুটবলার আছেন যারা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। ফাইনালের স্কোরলাইনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। কিলিয়ান এমবাপের বাবা ক্যামেরুনের অধিবাসী ছিলেন। আর মা আলজেরিয়ার। পল পোগবার মা-বাবা পাপুয়া-নিউগিনির বাসিন্দা ছিলেন।

নির্ভরযোগ্য স্টপার স্যামুয়েল উমতিতির জন্ম ক্যামেরুনে। পরে ফ্রান্সে এসে নাগরিকত্ব নেন। ব্লেস মাতৌদি আবার অ্যাঙ্গোলার বংশোদ্ভুত। তার মা কঙ্গোর অধিবাসী ছিলেন। এনগোলো কান্তের মা-বাবার আদি বাড়ি মালিতে। রাফায়েল ভারানের বাবা আবার ক্যারিবিয়ান।

দলে নিখাদ ফরাসি মাত্র ছয়জন। অথচ ফ্রান্সের রাজনৈতিক নেতারা আফ্রিকান কিংবা লাতিন আমেরিকানদের সম্মান দেন না। এখন সময় এসেছে আফ্রিকান কিংবা লাতিন আমেরিকানদের সম্বন্ধে দৃষ্টি ভঙ্গি বদল করার। ফ্রান্সে থাকা কৃষ্ণাঙ্গদের নানা বর্ণবৈষম্যের স্বীকার হতে হয়। ভিন্ন দেশ থেকে আসা অধিবাসীরা ইউরোপে ভালো নেই। যদিও ফ্রান্সের জয়ে কালোদেরই জয়জয়কার।

বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হুগো লরিস, গ্রিজম্যান এবং অলিভার জিরু নিখাদ ফরাসি! তবে সফলভাবে বিশ্বকাপ সংগঠক করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদুরো।

 

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপের আয় দান করলেন এমবাপে

রাশান বিশ্বকাপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিস্ময় কাইলিয়ান এমবাপে। বয়স কোনো বাধা হতে পারেনি তার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের বাজিমাতে। ফাইনালেও গোল করেছেন। নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলের কাতারে। ফুটবলার হিসেবে সবাইকে বিস্মিত করার রেশ না কাটতেই অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোয় ‘মানবিক’ চরিত্রে উদ্ভাসিত এমবাপে গণমাধ্যমের শিরোনামে।

ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বজয়ের প্রক্রিয়ায় পারিশ্রমিক হিসেবে অর্জিত এমবাপ্পের তিন লাখ ৮৪ হাজার পাউন্ড অনুদান হিসেবে যোগ হচ্ছে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ শিশুদের নিয়ে কাজ করা ক্রীড়াভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থার বাজেটে। রাশান বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি ১৭ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন ফ্রান্সের উদীয়মান প্লে-মেকার। আয়ের সব অর্থই তিনি অনুদান হিসেবে দিচ্ছেন ‘প্রিমিয়ার দ্য কর্ডে’ চ্যারিটি সংস্থাকে।
এমবাপের চ্যারিটি অনুদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সের অন্যতম জাতীয় দৈনিক দ্য প্যারিসিয়েন। মূলত শিশু প্রতিবন্ধী ও হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ শিশুদের নিয়ে কাজ করে থাকে প্রিমিয়ার দ্য কর্ডে। সংস্থাটির সাথে এমবাপ্পের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে সুযোগ পেলেই তিনি হাজির হতেন চ্যারিটি সংস্থাটির অধীনে চিকিৎসাধীন শিশুদের পাশে।

প্রিমিয়ার দ্য কর্ডের জেনারেল ম্যানেজার সেবাস্তিয়ান রুফিন বলেন, ‘কাইলিয়ান, একজন মহান মানুষ। সময় পেলেই তিনি আমাদের কাছে হাজির হন উচ্ছ্বসিত মুখাবয়বে। শিশুদের সাথে তার দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। এমবাপের উপস্থিতি অসুস্থ শিশুদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কখনো কখনো আমার মনে হয়েছে শিশুদের সাথে দারুণ সময় কাঠে এমবাপ্পের। তিনি নিজে অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করেন।’ ইতিহাসের তৃতীয় টিনেজার হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশগ্রহণের কৃতিত্ব দখলে নিয়েছেন এমবাপ্পে। গোলও করেছেন কিংবদন্তি পেলের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে। ১৭ বছর বয়সী পেলে প্রথম টিনেজার ফুটবলার হিসেবে গোল করার গৌরব অর্জন করেন ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে।

ফিফার ২১তম বিশ্বকাপের নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই বিস্ময়কর নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন এমবাপে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার জোড়া গোল জায়গা পেয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈপুণ্যের কাতারে। ম্যাচে ফরাসিদের প্রথম পেনাল্টিও তিনি আদায় করেন। ৪ গোলে টুর্নামেন্ট শেষ করায় রাশান মেগা আসরের শ্রেষ্ঠ তরুণ ফুটবলারের ট্রফিও জিতেছেন এমবাপে।

দেখুন:

আরো সংবাদ