২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জায়গা হলো না মেসি-নেইমারের

বিশ্বকাপ
মেসি-নেইমার - সংগৃহীত

সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় নেই মেসি-নেইমারের নাম। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ শেষে ওয়ার্ল্ড সকার এমনই একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৯ বছরের কিলিয়ান এমবাপে। পুর্তগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও স্বাগতিক রাশিয়ার সেনশেসন ড্যানিশ চেরিশেভ থাকলেও সেই তালিকায় নেই মেসি ও নেইমার। এই তালিকা করতে সেরা দশ দল বেছে নিয়ে প্রত্যেক দল থেকে মাত্র একজন করে খেলোয়াড় নির্বাচনের শর্ত মানা হয়েছে।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) : শীর্ষ দশে ফ্রান্সের কয়েকজন খেলোয়াড় গ্রিয়েজম্যান, কান্তে ও রাফায়েল ভারান থাকতে পারতেন। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে তাদের বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত বেছে নিতে হয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ গতি, নৈপুণ্য, ভয়ডরহীন খেলায় অনন্য ছিলেন রাশিয়ায়।

লুকা মডরিচ (ক্রোয়েশিয়া) : টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় হয়ে জিতেছেন গোল্ডেন বল। ফাইনালে ক্রোয়াট রূপকথার সফল সমাপ্তি টানতে পারেননি। বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে আবির্ভূত ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মডরিচ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। দলে ইভান র‌্যাকিটিচ ও পেরিসিচও তালিকায় আসেননি একজনকে নেয়ার নিয়মে।

কেভিন ডি ব্রুইন (বেলজিয়াম) : ম্যানচেস্টার সিটির এই খেলোয়াড় রাশিয়ায় দেখিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বলা হয়। তার নিখুঁত পাস রোমেলু লুকাকু ও ইডেন হ্যাজার্ডকে ধ্বংসাত্মক করে তুলেছিল যথারীতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখায় সুযোগ পেয়েছেন সেরা দশে।

কিয়েরান ট্রিপিয়ের (ইংল্যান্ড) : হ্যারি কেন গোল্ডেন বুট জিতলেও তার কাছ থেকে যেমনটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তিনি সেটি পূরণ করতে পারেননি। ইংল্যান্ড দলের লেফট ব্যাক বিশ্বের অন্যতম সেরা রক্ষণসৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রাশিয়ায়। বিশেষ করে সেট-পিসে অনন্য ছিলেন ট্রিপিয়ের। পুরো টুর্নামেন্টেই ইংল্যান্ডের ভরসার প্রতিক ছিলেন তিনি।

ফিলিপে কুতিনহো (ব্রাজিল) : বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবাই নেইমারকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। সেটিকে ছাপিয়ে সবার নজর কাড়লেন কুতিনহো। বিশ্বকাপের শুরু থেকে নিজের জাত চিনিয়েছেন। গোল করেছেন, করিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তার গোলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ইয়েরি মিনা (কলম্বিয়া) : হামেস রদ্রিগেজ ছিলেন ইনজুরিতে। গেল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা হামেস এবার পারলেন না নিজেকে প্রমাণ করতে। অভিজ্ঞ রাদামেল ফ্যালকাও আলো জ্বালতে ব্যর্থ। তাদের ব্যর্থতার মাঝে সেন্টার ব্যাক মিনা নিচের থেকে ওপরে উঠে এলেন। তিনটি গোল করে কলম্বিয়াকে নিয়ে গেলেন শেষ ষোলতে।

দিয়েগো গোডিন (উরুগুয়ে) : উরুগুইয়ান ডিফেন্সের মহাপ্রাচীর ছিলেন গোডিন। দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যেতে তার ভূমিকা ছিল অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ওখানে হারতে হলো বলে থামলো গোদিনের জাদু। তবে ওয়ার্ল্ড সকারের মতে, এই মুহূর্তে সম্ভবত বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার গোডিনই।

দেনিস চেরিশেভ (রাশিয়া) : স্বাগতিক রাশিয়াকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ গোনায় ধরেনি। প্রথম রাউন্ড পেরোনের কথাও চিন্তা করেনি। অথচ তারা উঠে গেলেন দ্বিতীয় রাউন্ড পেরিয়ে কোয়ার্টারে। সেখান ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারতে হয়েছে টাইব্রেকারে। প্রথম ম্যাচেই সৌদির বিপক্ষে দৃষ্টি কেড়েছেন চেরিশেভ। টুর্নামেন্টে করেছেন চারটি গোল।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) : শেষ ষোলতেই শেষ পর্তুগালের যাত্রা। উরুগুয়ের কাছে হার। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকে অসাধারণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছিলেন রোনালদো। ৩-২ গোলে পিছিয়ে দল। শেষ মুহূর্তে একেবারে বক্সের কাছে রোনালদো ফাউলের শিকার। ফ্রিকিক থেকে দেখার মতো একটা গোল করে দেশকে বাঁচালেন, হ্যাটট্রিকও হলো। মরক্কোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও তার।

আন্দ্রিয়াস গ্রাঙ্কভিস্ট (সুইডেন) : সুইডেন দলের নেতা মানতে হবে গ্রাঙ্কভিস্টকে। গ্রুপের শীর্ষ দল হতে এবং দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিতে হাত রয়েছে এই ডিফেন্ডারের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ আটে হারতো হলো। দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করা ছাড়াও ডিফেন্সিভ কাজেও দলের অতুলনীয় খেলোয়াড় ছিলেন।

 

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপে আলো ছড়াতে পারেননি তারা

দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল রাশিয়ার বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্টে রানার্স আপ হলেও ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যে গাঁথা এই বিশ্বকাপ। তবে বহু সাফল্যের মধ্যে ব্যর্থতার ইতিহাসও লেখা হয়েছে রাশিয়ায়।

সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার গল্পটি লিখেছে জার্মানি। তারও আগে ইতালি। যারা আসতেই পারেনি চূড়ান্ত পর্বে। এবার অন্যতম ফেভারিট দল হিসেবেই রাশিয়ায় গিয়েছিল জার্মানেরা। ‘পেন্টা’ জয়ের পথচলা থেমে যায় প্রথম রাউন্ডেই। গ্রুপপর্বে প্রথম ম্যাচে ০-১ গোলে মেক্সিকোর কাছে পরাজয়। দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জিতলেও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে যায় ২-০ গোলে। তাতে ৮২ বছর পর বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। এরপর টিকিটাকা খ্যাত ২০১০ সালে বিশ্বজয়ী স্পেন শেষ ষোলতে স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে হেরে দেশে ফিরতে হয়।

এবারের বিশ্বকাপে বড় নামগুলোর মধ্যে সবার আগে ছিল লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার এবং মিসরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহর দিকে। আলো ছড়াতে পারেননি এরা কেউই। এর মধ্যে রোনালদো প্রথম ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপটা নিজের করে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। উরুগুয়ের কাছে হেরে তার স্বপ্নযাত্রা থামে শেষ ষোলতে।

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসি তো এবারো ব্যর্থতার স্বাক্ষর রাখেন। পুরো টুর্নামেন্টেই খোলস-বন্দী ছিলেন। ধুঁকে ধুঁকে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার করেছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে এসেও ধুঁকতে থাকে হোর্হে সাম্পাওলির শিষ্যরা। কোনোরকম গ্রুপপর্ব পার হলেও রাউন্ড অব সিক্সটিনে ফ্রান্সের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দলটি। গত বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা মেসি এবার টোটালিই ছিলেন ফ্লপ।

ব্রাজিল হেক্সা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল নেইমারকে ঘিরে। শুরুর দিকে সেইভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরছিলেন তিনি। খেলেছেনও দুর্দান্ত। কিন্তু খেলার চেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন অভিনয়ের জন্য। নন্দিত হওয়ার বদলে নিন্দিতই হয়েছেন বিশ্বের দামি এই ফুটবলার। অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের স্বপ্ন ভঙ্গ হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। লুকাকু-হ্যাজার্ডে গড়া বেলজিয়ামই বিদায় করে দেয় ব্রাজিলকে।

রাশিয়ার বিশ্বকাপ আফ্রিকার জন্যও ছিল ব্যর্থতায় ভরা। আফ্রিকার একটি দলও এবার গ্রুপপর্ব পার হতে পারেনি। আফ্রিকার কোনো দেশ ছাড়া সর্বশেষ নক আউটপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন মিসরের মোহাম্মদ সালাহ। বর্তমান সময়ের অন্যতম এই সেনসেশন দর্শকদের হতাশই করেছেন। অবশ্য তিনি বিশ্বকাপে এসেছেন ইনজুরি নিয়ে।


আরো সংবাদ