২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

'আমি ছিলাম বিশ্বকাপের হানি শট'

বিশ্বকাপ
রাশিয়া বিশ্বকাপের এই ছবিটি বহু দেশে প্রকাশিত হয়েছে - সংগৃহীত

গ্যালারিতে থাকা আকর্ষণীয় ও সুন্দরী সমর্থকদের অনেক সময়েই 'জুম' করে বা খুব বড় করে তুলে ধরেন ক্যামেরাম্যানরা। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলা চলাকালীন সময়ে গ্যালারি থেকে বেছে বেছে সুন্দরী নারীদের ছবি প্রচার করায় আপত্তি তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা ক্যামেরাগুলো বৈচিত্র্য তুলে ধরতে আকর্ষণীয় সমর্থকদের অনেক সময়েই 'জুম' করে তুলে ধরে। ভিডিওগ্রাফির পরিভাষায় যাকে বলে 'হানি শট'। আর সেখানেই সমস্যা দেখছেন ফিফার ডাইভারসিটি প্রধান।

তবে এমন 'হানি শট' অনেকের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্বের ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী নারীদের নিয়ে বিবিসির ১০০ নারী সিরিজে স্থান পাওয়া নাটালিয়া বেটটানকুর জানিয়েছেন তেমনটিই।

২০১৪ সালের ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার খেলায় গ্যালারিতে নিজ দেশের সমর্থন জানাচ্ছিলেন নাটালিয়া। সেসময় তার ছবির প্রচার পরবর্তী জীবনে নাটালিয়াকে করে তোলে একজন মডেল এবং টিভি ব্যক্তিত্ব।

"আমার কোনো ধারণাই ছিল না, কখন ক্যামেরা আমাকে জুম করে তুলে ধরেছে। আর সেই সাথে অবশ্যই জানতাম না যে পরবর্তীতে কী হবে এর ফল।" বিবিসিকে এভাবে সে সময়ের কথা জানিয়েছেন নাটালিয়া।

পপ স্টার রিয়ানার দৃষ্টি কাড়ে নাটালিয়ার ছবি আর তিনি সেটি তার টুইটারে প্রকাশ করেন 'কলম্বিয়ান সুন্দরী' শিরোনামে। আর এতেই জীবন বদলে যায় তার।

২০১৪ সালের ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার খেলায় গ্যালারিতে নিজ দেশের সমর্থন জানাচ্ছিলেন নাটালিয়া। সেসময় তার ছবির প্রচার পরবর্তী জীবনে নাটালিয়াকে করে তোলে একজন মডেল এবং টিভি ব্যক্তিত্ব।

২০১৪ সালের ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার খেলায় গ্যালারিতে নিজ দেশের সমর্থন জানাচ্ছিলেন নাটালিয়া

 

 

নাটালিয়া বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিল থেকে ফিরে আসার সময় জানতেনও না যে কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে তার জন্যে।

নাটালিয়া বলেন, "এই ছবি আমার জন্যে মিডিয়ার দরজা খুলে দেয়। এর আগে আমি আমার বন্ধুর সাথে একটি নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ কোম্পানি খুলেছিলাম।"

এক মাসের মধ্যে নাটালিয়া চলে আসেন পুরুষদের একটি ম্যাগাজিনের প্রথম পাতায়।

এখনো বন্ধুর সাথে তার সেই নির্মাণ সামগ্রীর কোম্পানিটি থাকলেও নাটালিয়া দেশটির অনেকগুলো পণ্যের মডেল, সম্প্রতি তিনি কাজ করছেন চুলের সৌন্দর্য রক্ষার একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে।

তবে বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহে এসে ফিফার ডাইভারসিটি প্রধান ফেডেরিকো আদিয়েচি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন ভিড়ের মাঝ থেকে খুঁজে খুঁজে আকর্ষণীয় নারীদের ছবি প্রচার না করতে।

এই রাশিয়া বিশ্বকাপে আলোকচিত্র এজেন্সি গেটি ইমেজ প্রকাশ করেছিল 'দা হটেস্ট ফ্যান অ্যাট দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ' শিরোনামে একটি অ্যালবাম। যার মূল লক্ষ্য ছিল সুন্দরী তরুণীরা।

পরে 'বিবেচনায় দুঃখজনকভাবে ত্রুটি' বলে এটি তারা সরিয়ে ফেলে।

"কলম্বিয়ার একটি টিভির রিয়ালিটি শো-তে অংশ নিয়ে আমার সুযোগ হয় সব তারকাদের সাথে অংশ নেবার, নাচানাচি করার।" বলছিলেন নাটালিয়া।

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে বর্ণবৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে 'সেক্সিজম' একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৈষম্য বিরোধী সংগঠন 'ফেয়ার নেটওয়ার্ক' ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করছে ফিফা।

এরই মধ্যে 'দ্য ফ্যান গার্লস' নামে অনলাইন ভিত্তিক একটি গ্রুপ প্রকাশ করেছে খেলা দেখতে যাওয়া এমন কিছু নারী সমর্থকদের ছবি, যাকে তারা বলছে "ডিফারেন্ট কাইন্ড অব উইমেন"।

কানাডায় একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে এমনই 'হানি শট' থেকে পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত হয়েছেন এমন একজন তারকা হলেন পামেলা এন্ডারসন।

তাই এসব হানি শটের বিরোধিতা থাকলেও পক্ষের যুক্তিও তুলে ধরেছেন নাটালিয়া বেটটানকুর।

"আমি মনে করি না এটি খুব আপত্তিকর। ফুটবল যে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যেই খেলা হয় এতে বরং সেটিই প্রমাণ হয়," নাটালিয়ার বক্তব্য।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল নাটালিয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা। এবারও রাশিয়ায় খেলা দেখতে এসেছেন তিনি এবং ইংল্যান্ড কলম্বিয়া ম্যাচে আবারো ধরা পরেছেন টেলিভিশন ক্যামেরায়।

তার মতে, "এবারো আমাকে জুম করে দেখানো হয়েছে, আর আমার তো মনে হয় আগের চাইতে আরো হাসিখুশিই দেখাচ্ছিল।"

 

অারো পড়ুন : ২৩ জনের প্রয়োজনে প্রস্তুত ৪৫ লাখ!

নকআউটের টানা তিন খেলায় বাড়তি পরিশ্রম স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েট ফুটবলারদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেয়ার রেসে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না বলেই সাফ জানিয়ে দিলেন মিডফিল্ডার ইভান র্যাকিটিচ। রাশান বিশ্বকাপের বহু প্রত্যাশিত সমাপ্তি ম্যাচের জন্য ক্রোয়েশিয়া প্রস্তুত বলেও জানান বার্সেলোনার প্লে- মেকার।

আজ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্সের। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামের লড়াই সামনে রেখে সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাসী র্যাকিটিচ জানান, ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ক্রোয়েট জনগণের এনার্জি মাঠে থাকবে ফুটবলারদের রিচার্জিংয়ের প্রয়োজনে।

বার্সা সুপারস্টার বলেন, ‘ফাইনালের মাঠে ৪৫ লাখ ক্রোয়েটের উপস্থিতি নিশ্চিত। আমরা প্রস্তুত আরেকটি নতুন সূচনায়। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান ম্যাচ রাশান বিশ্বকাপের ফাইনাল। উঁচু মাথায় ড্রেসিংরুমে প্রত্যাবর্তনে মুখিয়ে আছেন প্রত্যেকে। আমরা সব দিয়েছি- এই প্রমাণ রেখে যেতে চাই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। ক্রোয়েশিয়ার জনগণের উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট উপস্থিতি গর্বিত মুখাববয়ের। তাদের বাঁধভাঙা উন্মাদনার চিত্রনাট্য সত্যিই অনন্য এক প্রাপ্তি ফুটবলারদের। কোনো ভাষায় অনুভূতি প্রকাশ অসম্ভব। আমরা রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগের সময়ে সূচিত উৎসব দিনের আর্বতে কেবল নতুন রঙের আবির্ভাব নিশ্চিত করেছে। সবার মধ্যকার ঐক্য ও গর্ব প্রকাশে উদ্ভাসিত অসাধারণ দৃশ্য। মূলত ওইসব সৌভাগ্য জনগণ উপভোগ করছে মাঠে ক্রোয়েট ফুটবলারদের যোগ্যতা প্রমাণ হওয়ায়। স্বপ্নের ফাইনাল এখন আর ২৩ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিরোপা লড়াইয়ে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সাড়ে ৪ মিলিয়ন ক্রোয়েট জনগণ। বিষয়টি ফুটবলারদের জন্যও অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি ফাইনালে উঠতে পেরে। যদিও প্রতিটি খেলাতে ফুটবলাররা স্ব-উদোগ্যেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং ৪৫ লাখ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কোনো স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলে ক্রোয়েটদের উপস্থিতিতেই পরিপূর্ণ হয়ে যাবে!’

ফিফার ২১তম বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক অর্জনের প্রক্রিয়ায় নকআউটের তিন ম্যাচেই অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের বাড়তি ফুটবলের পরীক্ষায় পাস করতে হয়েছে বলকান অঞ্চলের দেশ ক্রোয়েশিয়াকে। এর ওপর, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিতে অংশগ্রহণ সমীকরণে ফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের চেয়ে এক দিন কম বিশ্রামের দুঃস্বপ্নে ডেসিংরুমে উদ্ভাসিত অতিরিক্ত টেনশনকে পেছনে ফেলার চ্যালেঞ্জ কঁাঁধে নিয়ে তারা মাঠে নামছে স্বপ্নের ফাইনালে। তবে অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে রাউন্ড অব সিক্সটিনের বাড়তি পরিশ্রম কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি ক্রোয়েশিয়ার কোয়ার্টার ফাইনালের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট ও টাইব্রেকার বাধা টপকে যেতে। নকআউটের তিন ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েই দলটি প্রথমবারের মতো ফাইনালে উন্নীতের কৃতিত্ব রচনা করেছে!

দেখুন:

আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme