১৬ নভেম্বর ২০১৮

আজ নবম অল ইউরোপিয়ান ফাইনাল

বিশ্বকাপ
রাতে ফাইনারে লড়বে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া - সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলে এই নিয়ে নবমবারে মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অল ইউরোপিয়ান ফাইনাল। এর মধ্যে গত চার আসরে তিনবার। উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত ১৯৩০ এর প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ছিল আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়ে। এই দুই দলই ল্যাতিন আমেরিকান। ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮ সালে হয়েছে অর ইউরোপিয়ান ফাইনাল। এরপর আরো ছয়বার ফাইনালের দুই দল খেলেছে ইউরোপের। মাত্র দুইবার হয়েছে অল ল্যাতিন ফাইনাল। তা ১৯৩০ এবং ১৯৫০। ৫০এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল উরুগুয়ে। দুই ল্যাতিনের লড়াইয়ে জয় উরুগুয়েরই।

১৯৩৪ এ অল ইউরোপিয়ান ফাইনালে নিজ মাঠে ইতালি ২-১ গোলে হারায় চেকোশ্লাভিয়াকে। নির্ধারিত সময় ১-১ এ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে জয় স্বাগতিকদের। ১৯৩৮ সালে ফের চ্যাম্পিয়ন ইতালি। সেবার তারা ফ্রান্সের মাঠে ৪-২ গোরে হারায় হাঙ্গেরিকে। ১৯৫৪ এর সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানি ৩-২ গোলে জয় পায় হাঙ্গেরির বিপক্ষে। ১৯৬৬ তে আবার অল ইউরোপিয়ান ফাইনাল। এবার নিজ মাঠে ইংল্যান্ড ৪-২ গোল পরাজিত করে পশ্চিম জার্মানিকে। ১৯৭৪ এ ও ফাইনালের দুই দল ইউরোপের। এবার প্রতিপক্ষ পশ্চিম জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস। নিজ মাঠে জার্মানদের জয় ২-১ এ।

১৯৮২ এর স্পেন বিশ্বকাপেও ইউরোপিয়ানদের দাপট। এবার ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় ইতালির। এরপরের পাঁচ আসরে ফাইনাল ছিল ল্যাতিন ও ইউরোপের দল। ২০০৬ সালে আবার ফাইনালে উপস্থিতি ইউরোপের দলগুলোর। এবার জার্মানিতে অনুষ্ঠিত খেলায় ইতালি টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারায় ফ্রান্সকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ এ শেষ হয়। যা তাদের চতুর্থ শিরোপা।

২০১০ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার অতিরিক্ত সময়ের গোলে স্পেন ১-০কে নেদারর‌্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

আরো পড়ুন : ফ্রান্সের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠত্বে বাধা ক্রোয়েশিয়া

চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে আজ। আগামী চার বছরের জন্য নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। আজ রাতেই এর ফয়সালা। কোন দেশ হচ্ছে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী। ফ্রান্স নাকি ক্রোয়েশিয়া। বিশ্ব ফুটবলে জার্মানির শ্রেষ্ঠত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান হয়েছে ২৭ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে তাদের হারের মাধ্যমে, যা তাদের ছিটকে ফেলে দেয় ২১তম বিশ্বকাপ থেকে। এখনো ফিফা র্যাংকিংয়ে সেরা জার্মানি। কিন্তু আজকের ফাইনাল শেষে তারা আর এ অবস্থান নাও থাকতে পারে। নতুন হিসেবে অবস্থানের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের। পেছনের কাতারে চলে যেতে পারে জার্মানরা। আজ মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ৬৪তম ম্যাচ। এ ফাইনাল শেষে ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিচ বা ক্রোয়েট দলপতি লুকা মডরিচের হাতে উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবল ট্রফি। ফরাসিরা লুজনিকিতে খেলা শেষে বিজয় উৎসবে মাতলে তা হবে তাদের দ্বিতীয়। অন্য দিকে নতুন ইতিহাস গড়তে পারলে ক্রোয়েশিয়ার হবে প্রথম বিশ্ব জয়।

এ পর্যন্ত একবারই বিশ্বকাপ জয় করেছিল ফ্রান্স। তা ১৯৯৮ সালে নিজ মাঠে। সেই মিশনে তারা সেমিফাইনালে পেরিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া বাধা। লিলিয়ান থুরামের জোড়া গোলে তারা ২-১ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। যদিও ডেভর সুকার প্রথমে লিড এনে দিয়েছিলেন অতিথি দলকে। আজ বলকান অঞ্চলের দেশটির একটি জয়েই দুই লক্ষ্য পূরণ হবে। ২০ বছর আগে হারের প্রতিশোধ এবং এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি বিশ্বকাপ জয়। নতুন ইতিহাস গড়া কি সম্ভব হবে জøাতকো ডালিচের দলের।

বিশ্ব ফুটবলে দারুণ সময় পার করছে ফ্রান্স। ২০ বছরে তিন বার তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে। গত ২০ বছরে এ রেকর্ড নেই অন্য সাবেক চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পশ্চিম জার্মানি, স্পেন ও ইতালির। ফরাসিরা ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। ব্রাজিল ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। জার্মানি ২০০২ ও ২০১৪ সালের শেষ দুই এর দল। ইতালি ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী। স্পেন ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন। সুতরাং এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে আজ ফ্রান্সই ফেবারিট। বিশ্বকাপের বাইরে ইউরোতেও তারা মোটামুটি সফল। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটি ২০১৬ সালের সর্বশেষ ইউরোর রানার্সআপ। গত ১৮ বছরে তারা দু’বারের ফাইনালিস্ট। যদিও সম সংখ্যকবার তাদের বিদায় হয়েছিল কোয়ার্টার থেকে। একবার গ্রুপ পর্বই টপকাতে পারেনি। অবশ্য ফরাসিদের সবাই প্রথম থেকেই এবার ফেবারিটের তালিকায় রেখেছিল। সে ধারা তারা অব্যাহত রাখে এবার রাশিয়ায় একের পর এক ম্যাচ জিতে। গ্রুপে তারা ২-১ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে, ১-০ গোলে পেরুকে হারায়। শেষ ম্যাচে তাদের গোলশূন্য ড্র ডেনমার্কের সাথে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে, কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলে উরুগুয়েকে এবং সেমিফাইনালে ১-০ গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ইতিহাসে তিনবারের মতো ফাইনালে ওঠে।

অন্য দিকে একবারেই দৃশ্যের আড়ালে ছিল ক্রোয়েশিয়া। এমনকি গ্রুপে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারানোর পরও কারো কল্পনায় ছিল না তারা যে ফাইনাল পর্যন্ত চলে আসবে। গ্রুপের অপর দুই দল নাইজেরিয়াকে ২-০ ও আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় তারা। এরপর নকআউটের তিন ম্যাচেই তাদের ১২০ মিনিটের ম্যাচ। দ্বিতীয় রাউন্ডে পিছিয়ে পড়েও তারা ১২০ মিনিটে ১-১ গোলে ড্র করে ডেনমার্কের সাথে। শেষ পর্যন্ত জিতেছে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় ক্রোয়েটরা। এ ম্যাচে ১২০ মিনিট শেষ হয়েছিল ২-২ গোলে। সেমিতে তারা ইংল্যান্ড বাধা পেরিয়েছে ২-১ গোলে জিতে। ১-১ গোলে ৯০ মিনিট সমাপ্ত হওয়ার পর ১২০ মিনিটে ২-১ গোলে জয়। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া দু’বারই নক আউট পর্বে পৌঁছাতে পেরেছিল। প্রতিবারই তারা শেষ চার পর্যন্ত এসেছিল। ১৯৯৮ সালে সেমিতে বিদায়। এবার উঠেছে ফাইনালে।

ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে ফ্রান্স একটি জায়গায় এগিয়ে। তা হলো ফরাসিরা কোনো ম্যাচই ৯০ মিনিটের বেশি খেলেনি। তাদের জালে বল গেছে চারবার। দিয়েছে ১০ গোল। ক্রোয়েশিয়া নক আউটের টানা তিন ম্যাচ ১২০ মিনিট খেলে দু’টিতে জয় টাইব্রেকারে। আগের ৬ ম্যাচে দিয়েছে ১২ গোল। হজম করেছে চার গোল। গোল দেয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার দেশটি।

দেখুন:

আরো সংবাদ