১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইনালের আগে দুশ্চিন্তায় ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপ
ইভান পেরিসিচ - সংগৃহীত

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। এ ম্যাচের আগে মিডফিল্ডার ইভান পেরিসিচকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে ক্রোয়েশিয়া। উরুর চোটে পড়েছেন তিনি। তাই ফাইনাল ম্যাচে পেরিসিচের খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে উরুর ইনজুরিতে পড়েন পেরিসিচ। ব্যাথা পাওয়ার পর মাঠেই তাকে চিকিৎসা করা হয়। ম্যাচ শেষে স্থানীয় একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয় পেরিসিচকে। কিন্তু পেরিসিচের কোনো উন্নতি হয়নি।

এ ব্যাপারে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জালাটকো ডেলিচ বলেন, ‘পেরিসিচকে নিয়ে আমরা চিন্তায় রয়েছি। শুধু পেরিসিচ নয়, অনেকেই কিছু না কিছু সমস্যায় আছে। তবে ছেলেরা এখনও ফাইনালে ওঠার আনন্দ উপভোগ করছে। এখনই তাই ফুটবলারদের সুস্থতা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আরো কিছু সময় লাগবে তাদের ব্যাপারে সর্বশেষ আপডেট দিতে।’

 

আরো পড়ুন : ক্রোয়েশিয়ার শিরোপা উৎসব করার ৩ কারণ

লুজনিকি স্টেডিয়াম প্রস্তুত তার ২১তম বিশ্বকাপ ফুটবল শিরোপাজয়ীকে বরণ করে নেয়ার জন্য। অনেক ঘটনা-অঘটনের জন্ম দিয়ে শেষ লড়াইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে এ স্টেডিয়াম। যেখানে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা উৎসব করার জন্য মুখোমুখি হবে বিশ্বফুটবলের অন্যতম শক্তিধর ফ্রান্স কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ একেবারেই নবীন বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে কিংবা বিশ্বফুটবলে প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে। যেখানে ফ্রান্স তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল ফ্রান্স এবং সেবারই তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বফুটবলের সেরা আসরের শিরোপাটি নিজেদের ঘরে তুলে। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপেও তারা ফাইনাল খেলেছিল কিন্তু সেবার তাদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয় ক্যানাভারোর ইতালি। জিদানের সাথে মাতেরেজ্জির বিষয় নিয়ে কত ঘটনাই না দেখল সেবারের ফাইনালটি। তৃতীয়বারের মতো এমবাপ্পে, পগবা এবং গ্রিজম্যানদের নৈপুণ্যে ভর করে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ফ্রান্স। অপর দিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার এসেই ক্রোয়েশিয়া তৃতীয় হয়েছিল। ড্যাভর সুকার এবং বোবানদের সেই ক্রোয়েশিয়া ৪০ লাখ জনসংখ্যার এ দেশটির প্রথম সোনালি প্রজন্ম কিন্তু মডরিচ, র্যাকিটিচ, পেরিসিচ এবং মান্দজুকিচদের নিয়ে গড়া জøাটকো ডালিচের এই ক্রোয়েশিয়াকে বর্তমান সময়ের সোনালি প্রজন্ম বলা হচ্ছে এবং তাদের নিয়েই শিরোপা উৎসব করতে প্রস্তুত ক্রোয়েশিয়ার জনগণ। জাগরেব তার ছেলেদের বরণ করে নিতে ডালা সাজিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ক্রোয়েশিয়া ফ্রান্সের মতোই ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে এসেছিল কিন্তু প্রথম আসরেই তারা তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তিনটি কারণে পূর্ব ইউরোপের ক্রোয়েশিয়া এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা নিয়ে উৎসব করতে পারে!

১. অলৌকিকভাবে একাগ্রতা এবং সম্পূর্ণ প্রত্যয়

দা ব্লেজারস ছদ্মনামের অধিকারী ক্রোয়েশিয়ার হয়ে তাদের কোচ জøাটকো ডালিচ অসাধারণ কাজ করে চলেছেন। তাদের ড্রেসিংরুমে একাগ্রতা এবং প্রত্যয়ী ভাব মনে হয় এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। যেকোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাদের আছে এই বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছেন কোচ ডালিচ তার ফুটবলারদের মধ্যে। রাউন্ড অব সিক্সটিনে ডেনমার্ক এবং শেষ আটে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে তাদের টাইব্রেকারে জয় এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের থ্রি লায়ন্সের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় তাদের সেই বিশ্বাসে আরো পোক্ত ভাব এনে দিয়েছে। খেলোয়াড়েরা নিজেদের একই পরিবারের সদস্য মনে করছে। ৫০ দিন ধরে তারা একসাথে আছে। তিনটি অতিরিক্ত সময়ের খেলায় জয়লাভ করে তারা দেখিয়েছে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার সুফল।

২. মানসিক শক্তি এবং চরিত্র

দা ব্লেজারসরা ডেনমার্ক, রাশিয়া এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও খেলায় জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। যেখানে তারা দুইবার টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছে। এতেই তাদের মানসিক শক্তি এবং চরিত্রের দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। অনেকেই বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্লান্তি তাদের ভোগাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা লড়াই করেই সাউথগেটের দলের বিপক্ষে জয়ী হয়। মডরিচ মনে করেন প্রত্যেকটি বিশ্বকাপ জয়ী দলের কিছু মানসিক শক্তি এবং চরিত্র ছিল। মনে হয় ক্রোয়েশিয়া এবার নিজেদের মধ্যে এ গুণগুলো পেয়েছে, যা তাদের উৎসব করার রসদ এনে দিতে পারে।

৩. অভিজ্ঞতা এবং নিজেদের প্রতি বিশ্বাস

লুকা মডরিচ ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক। এ মাঝমাঠের সেনা স্প্যানিশ লা-লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলে। তার সাথী বার্সেলোনার র্যাকিটিচের খেলাও অসাধারণ। ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস এবং লিভারপুল ইউরোপের সেরা লিগগুলোতে খেলে থাকে তাদের ফুটবলাররা। ২৭ বছর ১০ মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়েরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। নিজেদের ওপর বিশ্বাসের কারণেই তারা জানে, তাদের ক্ষমতা কতটুকু এবং তারা কী করতে পারে। বিশ্বকাপ জয় করার মধ্য দিয়েই তারা সেটা প্রমাণ করতে চায়। এ কারণগুলোই কি তাদের শিরোপা এনে দেবে, না আরেকটি কান্নার সাগরে ভাসাবে তা ফাইনালের পরেই জানা যাবে।


আরো সংবাদ