১৮ এপ্রিল ২০১৯

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা!

ফুটবল
দল বিদায় নিলেও বিশ্বকাপের ফাইনালে আলোচনায় থাকছে আর্জেন্টিনা - ছবি: সংগৃহীত

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে হোঁচট খেতে খেতে কোনোমতে স্থান হয় দ্বিতীয় রাউন্ডে। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় মেসি-মারিয়াদের। দলের এ পরিণতির পরও আর্জেন্টিনা আলোচনার বিষয় হয়ে থাকছে ফাইনালে। আর এর কারণ আর্জেন্টাইন রেফারি নেস্তর পিতারা।

নেস্তর পিতারা বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

আগামী রোববার রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স। সহকারী হার্নান মাইদানা ও জুয়ান পাবলোকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করবেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রেফারি পিতারা।

এটাই প্রথম নয়। এর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এই রেফারি। উদ্বোধনী দিনে রাশিয়া বনাম সৌদি আরবের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বে মেক্সিকো বনাম সুইডেন, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া বনাম ডেনমার্ক ও কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ে বনাম ফ্রান্সের ম্যাচও পরিচালনা করেছেন তিনি।

৪৩ বছর বয়সী পিতানা ২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ম্যাচ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নরবার্তো কোয়েরেজার পর তিনি দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন, যিনি দুটি বিশ্বকাপে রেফারির দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষাদান করা পিতারা একসময় অভিনয়ের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

আরো পড়ুন :
কেন শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় ভাসে বাংলাদেশ?
বিবিসি, ১৪ জুন ২০১৮
বাংলাদেশের বিশ্বকাপের সিংহভাগ জুড়ে থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিয়ে উন্মাদনা। বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই রাস্তাঘাট পতাকায় ছেয়ে যায়। জার্মানি, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো দলের সমর্থক থাকলেও মূলত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিয়েই আলোচনা বেশি হয় বাংলাদেশে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঢাকার ছোট-বড় পোশাক কারখানা থেকে শুরু করে পাড়ার দর্জির দোকানেও যেসব পতাকা তৈরি হয় তার সিংহভাগই ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার।

চায়ের দোকানের আড্ডায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব, অফিসের সহকর্মীরাও এই এক মাস ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মত টেলিভিশনে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানো হয় ১৯৮৬ সালে। তাও শুধুমাত্র নকআউট পর্বের খেলাগুলোই দেখানো হয়। প্রবীণ ফুটবল ভক্তদের মতে, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে ব্যাপক উম্মাদনার শুরুটা তখন থেকেই।

সে সময় আবাহনী-মোহামেডানের খেলা ছিল তরুণ ফুটবল ভক্তদের আলোচনার প্রধান বিষয়। তাই স্বভাবতই ছিয়াশির বিশ্বকাপ সেসময়কার তরুণদের মনে দাগ কাটে।

প্রবীণ সাংবাদিক নাজমুল আমিন কিরণ বলেন, বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণালী যুগ যখন শুরু হয় তখনই এই ফুটবল নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়। ব্রাজিল আর্জেন্টিনা বরাবরই এদেশে ফেভারিট।

‘একটা সময় পেলের কারণে ব্রাজিল, ম্যারাডোনার কারণে আর্জেন্টিনা।’

‘তখন টিভি বলতেই ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। চার বছর পর বিশ্বকাপ দেখাতো তাও সবগুলো ম্যাচ দেখাতো না।’

কিরণ বলেন, জার্মানি বা ফ্রান্সও তখন ভালো খেলতো কিন্তু ব্রাজিল অথবা আর্জেন্টিনার মতো তারকা খেলোয়াড় ছিল না। আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা, ব্রাজিলের পেলে প্রথমে, পরে রোনালদো, এখন আর্জেন্টিনার মেসি।

মূলত ৮৬ ও ৯০'র বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার প্রদর্শনী মানুষকে আর্জেন্টিনার সমর্থনে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর ম্যারাডোনার সমর্থকরাই আর্জেন্টিনার সমর্থন দিয়ে আসছে। এরপরের যুগটাই ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলে রাজত্ব করে।

১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জেতে শক্তিশালী ইতালিকে হারিয়ে, ১৯৯৮ সালে ফাইনালে উঠে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে যায়, ২০০২ সালে আবারো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল।

মূলত: বাংলাদেশে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখানোর পর থেকে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দাপট থাকার কারণেই এই সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি হয় ও এই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কখনো এটা খুনসুটির পর্যায়ে থাকলেও, মারামারির মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে বাংলাদেশে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক দশক যাবত চা বিক্রি করছেন আব্দুল জলিল স্বপন, তিনি ঢাকায় আসেন ১৯৮৪ সালে। তিনি বলেন, ছিয়াশির বিশ্বকাপে খেলা দেখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে টিভি নিয়ে আসা হয়। প্রচুর মানুষ আসতো তখন খেলা দেখতে। তখনই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠী দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ব্রাজিলের ভক্তরা আর্জেন্টিনার ভক্তদের পছন্দ করে না, তেমনি আর্জেন্টিনার ভক্তরাও ব্রাজিলের ভক্তদের পছন্দ করতো না। ‘এটা অনেকটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থনের মতো হয়ে যায়।’

আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক জাহিদ হাসানের মতে, আর্জেন্টিনার সমর্থক তৈরিতে টেলিভিশনেরর একটি বড় ভূমিকা আছে।

তিনি বলেন, টেলিভিশন আসার পর যে দুটি বিশ্বকাপ দেখতে পেরেছে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা। তার প্রথমটিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, পরেরটিতে ফাইনাল খেলেছে। তাই এই দুটি বিশ্বকাপ এখানে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

শুরুতে ম্যারাডোনার ব্যক্তিত্ব, খেলার ধরণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করে। জাহিদের মতে, ম্যারাডোনাই আর্জেন্টিনার এতো বড় সমর্থক গোষ্ঠী তৈরির অন্যতম প্রভাবক।

ব্রাজিলের একজন সমর্থক শান্ত কৈরির মতে, ব্রাজিলের সমর্থক তৈরি হয়েছে দুটো প্রজন্মকে ঘিরে। প্রথমটি পেলের যুগ, ষাটের দশকে অনেকেই পেলের খেলার কারণে ব্রাজিল সমর্থন করতো কিন্তু তখন প্রচার বেশি ছিল না। তাই মাতামাতি কম ছিল।

এরপর নব্বইয়ের দশকে ফুটবল অঙ্গনে ব্রাজিলের উত্থান বড় ভূমিকা রাখে সমর্থক গোষ্ঠী তৈরিতে।

তবে খেলা ছাড়াও অনেকেই পারিবারিক কারণে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা সমর্থন করে আসছেন।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al