২২ জুলাই ২০১৮

নেইমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে

নেইমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে - সংগৃহীত

আর মাত্র একটি ম্যাচ। তারপরেই রাশিয়া বিশ্বকাপের পর্দা নামবে। ৩২ দল থেকে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে টিকে আছে মাত্র দুটি দল। ভাঙা মন নিয়ে ফিরে যাওয়া খেলোয়াড়দের একেকজনের চ্যালেঞ্জটা একেক রকম। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন জুভেন্টাসে। লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ-ব্যর্থতা ভুলে বার্সেলোনার জার্সিকেই পাখির চোখ করবেন। আর নেইমার? ভুলে যাওয়ার মতো তেতো এক বিশ্বকাপের পর তার জন্য সামনে বড় চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে।

অনেক দিন ধরেই মেসি-রোনালদোর পর বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী সময়ের রাজা হিসেবে নেইমারের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। ঘরের মাঠে হতাশার ২০১৪ বিশ্বকাপ পেছনে ফেলে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন নিজের কাঁধে বয়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন। কিন্তু যুবরাজ তো ‘রাজা’ হতে পারেনইনি, বরং আলোচনায় এসেছেন অফুটবলীয় সব কারণে—অদ্ভুতুড়ে চুলের কাট, ডাইভিং। বিশেষ করে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে টাচলাইনে নেইমারের ডান পা ধরে ওই কাতরানোর দৃশ্য ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ব্যাপক খোরাক হয়েছিল। ওই ঘটনার সাথে নেইমারের অকারণ ডাইভ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হয়েছে এন্তার ‘মিম’। বিশ্বকাপ শেষে তাই নেইমারকে হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধারের কঠিন এক অভিযানেই নামতে হবে।

একটা জবাব নেইমার মাঠের খেলা দিয়ে দিতে পারেন, ম্যাচ জিতে-ট্রফি জিতে। সে কাজটা যে তিনি ভালোই পারেন, ব্রাজিল-স্পেন-ফ্রান্সে লিগ জেতা, বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা তার প্রমাণ। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী নেইমারের মূল চ্যালেঞ্জ, মাঠের বাইরে নিজের সুনাম উদ্ধার করা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দিয়েগো কতসো ব্রাজিলের খেলোয়াড় কাকার জনসংযোগের দায়িত্ব সামলাতেন। কতসো নেইমারের বর্তমান অবস্থা বোঝাতে গিয়ে বললেন, ‘যোগাযোগের কথা যদি বলি, তবে নেইমার বেশ বড় সমস্যায় আছে। অন্য অনেক অ্যাথলেটের মতো সে-ও খারাপ সময়ে কাউকে পাশে পাচ্ছে না। এমনিতে নেইমারকে সবাই আগলে রাখে, নিজে থেকে কিছু বলে না। ওর হয়ে ওর মা-বাবা, বোন, প্রেমিকারা কথা বলে। (নেইমার) যা বলে সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা কোনো সাক্ষাৎকারেই। এতে করে ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর একটা দূরত্ব রয়েই যায়।’ বাজে সময় কাটানোর উপায়টাও জানিয়েছেন কতসো। তার মতে, নেইমারকে সবাই ভুল বোঝে। আসল নেইমারকে বোঝানোর দায়িত্বও নেইমারেরই, ‘নেইমারকে এখন মনের কথা বলতে হবে। মানুষের সামনে আসল নেইমারকে তুলে ধরার দায়িত্ব তারই।’

কতসো সতর্ক করেছেন, নেইমারের কাণ্ডকারখানা তাঁকে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মাঠের বাইরের আচরণে খেলোয়াড়দের থেকে পৃষ্ঠপোষকদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কতসো তাই বললেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা ফুটবল খেলে যা আয় করে, তা থেকে অনেক গুণ বেশি আয় করে ইমেজ স্বত্ব থেকে। স্পনসরদের অনাগ্রহেই হয়তো তার টনক নড়বে।’

বিশ্বকাপে নেইমারের পারফরম্যান্স বিস্তর সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তো তাকে ‘বখে যাওয়া’ ও ‘আত্মপ্রেমী’ বলেও অপবাদ দিচ্ছে। এসব অপবাদ-উপহাস ঝেড়ে ফেলতে নেইমারকে শুধু ভালো খেললেই চলছে না, সমর্থকদের আদরের পুরোনো ‘নেইমি’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জটাও যে কম নয়।


আরো সংবাদ