২৩ জুলাই ২০১৮

শিরোপা ফ্রান্সই জিতবে : স্যাভিওলা

শিরোপা ফ্রান্সই জিতবে : স্যাভিওলা - সংগৃহীত

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে হঠাৎ দেখা কোট টাই পরা এক লোকের সাথে। চেনা চেনাই লাগছিল। পাশে থাকা আর্মেনিয়ার সংবাদ কর্মী নিশ্চিত করলেন তার পরিচয়। উনি আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার হাভিয়ার স্যাভিওলা। তখনই তার সাথে অল্প একটু কথা বলার সুযোগ। খুব তাড়া ছিল তার। সেমি ফাইনাল জেতা ফ্রান্স দল সম্পর্কে সাভিওলার মন্তব্য, এবার চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্সই। তারা ভালো ম্যাচ খেলেই জিতেছে। আমার দৃস্টিতে ফাইনালের ফেবারিট ফ্রান্সই।

আরো জানান, বেলজিয়ামের সাথে কঠিন ম্যাচ খেলেছে ফরাসীরা। যেহেতু তারা বেলজিয়ামের মতো শক্ত বাধা পেরুতে পেরেছে এর অর্থ ফাইনালেও জিতবে ফ্রান্স। ৮ জুলাই আর্মেনিয়ায় প্রীতি ম্যাচ খেলে এসেছেন স্যাভিওলা। সাথে ছিলেন অন্য বড় ফুটবলারেরা। এতে ল্যাতিন দলের কোচ ছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো। ইউরোপোর কোচ পাওলো মালদিনি। সেই প্রসঙ্গে বলেন আর্মেনিয়ার মানুষগুলো বেশ ভালো।

স্যাভিওলাকে বলা হতো নতুন ম্যারাডোনা। ২০০৬ বিশ্বকাপে তার গোল ছিল আইভোরিকোস্টের বিপক্ষে। সার্বিয়ার বিপক্ষে দলের ৬-০তে জয়ের দুটি হয়েছে তার পাস থেকে। ২০০৪ সালের অলিম্পিক গেমস ফুটবলে স্বর্ন জয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ে খেলেছেন বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদে। ২০১৬ সালে আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেট থেকে অবসর নেয়া স্যাভিওলা ক্লাব লেভেলে ৪৩৪ ম্যাচে ১৬৯ গোল করেন। আর্জেন্টিনার জার্সী গায়ে তার গোল ৩৯ ম্যাচে ১১টি। তবে ২০০১ সালে অনূর্ধ্ব -২০ যুব ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে ৭ খেলায় করেন ১১ গোল। মূলত এই স্ট্রাইকারের কৃতিত্বেই শিরোপা জয় তাদের। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। জয় করেন সেরা ফুটবলারের পুরস্কারও।

 

আরো দেখুন : এমনটা ভাবেননি এমবাপে

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। আর এই ফ্রান্সের কান্ডারি বলা হয় তরুণ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেকে। অথচ শুরুর দিকে নাকি তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে পারবে তার দেশে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সামুয়েল উমতিতির একমাত্র গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। লুজনিকি স্টেডিয়ামে আগামী রোববার তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের জয়ী দল।

সেমি-ফাইনালে পুরো ম্যাচজুড়েই নিজের গতির ঝলক দেখিয়েছেন এমবাপে। দলের জন্য ছয়টি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই ফাইনালে পৌঁছানোর ঘোর কাটাতে পারছেন না তিনি। এমবাপে বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। এটা স্বপ্নেরও স্বপ্ন, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সবকিছুই।’

‘আমার বলার ভাষা নেই। এমনকি আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি খুব বড় স্বপ্নবাজ, আমিও কি এমনটা কল্পনা করতে পেরেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘এখনও আর একটি ম্যাচ বাকি আছে। কিন্তু আমরা যা কিছু করেছি তার জন্য আমরা গর্বিত।’

বিশ্বকাপে দারুণ খেললেও এখন ব্যালন ডি’অর নিয়ে ভাবতে চান না এমবাপে। ‘আমি বিশ্বকাপটা জিততে চাই- ব্যালন ডি’অর আমার মাথাব্যথা নয়।’

সেন্ট পিটার্সবার্গে দলকে প্রেরণা জ়োগাতে হাজির ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে হাজির হন ড্রেসিংরুমে। তিনি বলেন, ‘চেঞ্জিং রুমে কোচ ও আমরা সবাই খুব খুশি ছিলাম। সবাই একে অপরকে আলিঙ্গন করছিলাম। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ আমাদের দেখতে এসেছিলেন। সবাই আমাদের সঙ্গে আছে।’

অন্যদিকে ফ্রান্সের এই সাফল্যকে দলগত চেষ্টার ফল বলে মনে করেন সেমি-ফাইনালের গোলদাতা উমতিতি।

‘অনেক গর্বের, আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি।…গোলটা আমি করেছি। কিন্তু আমরা একটা ভালো ম্যাচ খেলেছি এবং আমি সবার জন্য গর্বিত।…আমরা প্রতিদিন কাজ করেছি, ফাইনালে পৌঁছে আমরা আমাদের লক্ষ্য স্পর্শ করেছি। আমি খুবই সস্তুষ্ট।’


আরো সংবাদ