২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'হার-জিৎ যাই হোক, মেনে নিতে হবে'

বিশ্বকাপ
ফিলিপ কুতিনহো - সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে ব্রাজিলের। বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। এবার সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার পালা। এবং তা মেনে নিতেও প্রস্তুত ফিলিপ কুতিনহো। ম্যাচ শেষে এমনটাই জানালেন তিনি।

বললেন, 'আমরা ফাইনাল খেলতে চেয়েছিলাম। নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিয়েছি। প্রত্যেকে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু হয়নি। আমি জানি এখন চারিদিক থেকে সমালোচনার ঝড় বইবে। এটাই ফুটবল। জীবন চলতেই থাকবে। আপনি হারবেন বা জিতবেন। আপনাকে মেনে নিতে হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'আমরা দুঃখিত। কারণ আমরা খুব করে জিততে চেয়েছিলাম। ব্রাজিলের সব মানুষের জন্য জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা পারিনি।'

 

আরো পড়ুন : 'নেইমার অভিনেতা নন'

বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। বিদায় নিয়েছেন নেইমারও। এবার সমালোচকদের শুলে বিদ্ধ হওয়ার অপেক্ষায় বিশ্বের সবথেকে দামি এই ফুটবলার! কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর ব্রাজিল তারকার ‘অভিনয়’ নিয়ে যে ঝড় বইবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই দুঃসময়ে নেইমারের পাশে দাঁড়ালেন লুকাকু। রাশিয়া বিশ্বকাপে নেইমারকে যেভাবে ফাউল করা হয়েছে, তারপরও নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দলের জন্য সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন নেইমার, মত বেলজিয়ামের রোমেলো লুকাকুর।

প্রথমে মেসি, তারপর রোনালদো, আর শুক্রবার রাতে নেইমার- বিশ্বকাপের নক্ষত্রবলয় থেকে ছিটকে গেছে তিন তারাই। ‘অভিশপ্ত’ কাজান এরিনাতেই সলিল সমাধি হয়েছে আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল আর ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। একই দিনে রাশিয়া থেকে ফিরতে হয়েছে মেসি-রোনালদোকে। দেশ সফল না হলেও একার কৃতিত্বে মন জয় করেছেন সিআর সেভেন। তাই ‘সম্মান’ অক্ষতই থেকেছে পর্তুগিজ তারকার। ‘বন্যরা বনে সুন্দর আর মেসি বার্সেলোনায়’- এলএমটেন-এর জুটেছে এই কটাক্ষ। আর নেইমার পেয়েছেন ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান’।

মাঠে গড়াগড়ি খেয়ে সময় ‘নষ্ট করা’র জন্য ‘ডাইভার’ নেইমারকে ‘নাটুকে’ বলেও কটাক্ষ করেছেন ম্যারাডোনা। তবে ম্যান ইউ তারকা তা একেবারেই মনে করেন না।

বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড লুকাকুর মত, ‘নেইমার অভিনেতা নন। ওর মধ্যে বিশ্বসেরা হওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে নেইমার। আরো একবার ওর বিরুদ্ধে খেলতে পেরে আমি অভিভূত।’

 

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন দুই বন্ধু

প্রাণের বন্ধু। মানিকজোড়। একে অপরের সুখদুঃখের সঙ্গী। নেইমার এবং ফেলিপ কুতিনহো। বন্ধুত্বের পথ চলা শুরু হয়েছিল বার্সেলোনাতেই। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে। সেই সময় এক নৈশভোজে সময়মতো পৌঁছতে পারেননি নেইমার। বন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুখে খাবার তোলেননি কুতিনহোও। হোটেলের রুমে ফিরে তাই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। কুতিনহোকে জড়িয়ে ধরে সেদিন কেঁদেছিলেন নেইমার। আজও দু’জনের মধ্যে সেই আবেগ একইরকম।

চার বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপে লুই ফেলিপে স্কোলারির স্কোয়াডে বন্ধুর নাম না দেখে ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। পরে কুটিনহোই এসে তাকে বোঝান। বলেন, ‘সামনে অনেক বিশ্বকাপ পড়ে আছে। একদিন না একদিন তো দু’জনে পাশাপাশি খেলব।’

গত বছর বার্সেলোনায় এক টিভি সাংবাদিক নেইমারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কুতিনহো আপনার কতটা কাছের বন্ধু? এতটুকু সময় না নিয়ে তার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘বন্ধু কাছেরই হয়। দূরের হলে তো পরিচিত বলব! আপনার সাথে বুমের যা সম্পর্ক, আমার সাথে কুতিনহোরও তাই।’

১৯৯২’তেই জন্ম দু’জনের। নেইমার ফেব্রুয়ারিতে। চার মাস পর কুতিনহো। বার্সেলোনায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নজর কাড়েন দু’জনেই। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে কুতিনহো সিনিয়র। ২০০৮-এই তিনি ভাস্কো দা গামা অ্যাকাডেমি থেকে ইন্টার মিলানের জার্সি গায়ে চাপান। আর স্যান্টোসের ছাড়পত্র পেয়ে নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দেন ২০১৩ সালে। তবে দেরিতে ইউরোপে এলেও খ্যাতি অর্জনে তিনি কুতিনহোকে পিছনে ফেলেছেন।

কাতালন ক্লাবটিতে থাকার সময় কর্মকর্তাদের কাছে বন্ধুর জন্য সুপারিশ করতেও পিছপা হননি নেইমার। কিন্তু ক্লাব পর্যায়ে একসাথে খেলা আর হয়ে ওঠেনি দুই বন্ধুর। ভাগ্যের এমন পরিহাস, নেইমার পিএসজিতে যাওয়ার পর তারই বিকল্প হিসেবে আর্নেস্তো ভালভার্দে-ব্রিগেডে যোগ দেন কুতিনহো।

নেইমারের জার্সি নম্বর ১০। আর এক ধাপ পরেই কুটিনহো। মাঠেও তারা একে অপরের কাছাকাছি থাকেন। নেইমার লেফট উইং দিয়ে অপারেট করেন। আর কুতিনহো থাকেন তার ডান পাশে। বোঝাপড়া এতটাই মসৃণ যে একে অপরের দিকে না তাকিয়েও নির্ভুল পাস দিতে পারেন। এবারের বিশ্বকাপে নেইমার-কুতিনহোর কম্বিনেশনই প্রফেসর তিতের মূলধন। মিলের মতো অমিলও কম নেই দুই বন্ধুর। নেইমার সবসময় প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন। কুতিনহোর আবার অভ্যাস পর্দার পিছনটা।

পরিস্থিতি এমনই, বিরাট কোনো পট পরিবর্তন না হলে আগামী মৌসুমেও দু’জনের এক জার্সিতে খেলা অসম্ভব। তাই ক্লাব পর্যায়ে একসাথে খেলার দুঃখ ঘোচানোর জন্য বিশ্বকাপকেই বেছে নিয়েছেন নেইমার এবং কুতিনহো। কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত ব্রাজিলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রধান কারিগর এই জুটি। দু’জনেই দুটি করে গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ব্রাজিলের জন্য এখন এই দুই বন্ধুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ( ০৫ জুলাই ২০১৮, প্রকাশিত সংবাদ)


আরো সংবাদ