২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'নেইমার অভিনেতা নন'

বিশ্বকাপ, নেইমার
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভাঙার পর নেইমার - সংগৃহীত

বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। বিদায় নিয়েছেন নেইমারও। এবার সমালোচকদের শুলে বিদ্ধ হওয়ার অপেক্ষায় বিশ্বের সবথেকে দামি এই ফুটবলার! কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর ব্রাজিল তারকার ‘অভিনয়’ নিয়ে যে ঝড় বইবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই দুঃসময়ে নেইমারের পাশে দাঁড়ালেন লুকাকু। রাশিয়া বিশ্বকাপে নেইমারকে যেভাবে ফাউল করা হয়েছে, তারপরও নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দলের জন্য সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন নেইমার, মত বেলজিয়ামের রোমেলো লুকাকুর।

প্রথমে মেসি, তারপর রোনালদো, আর শুক্রবার রাতে নেইমার- বিশ্বকাপের নক্ষত্রবলয় থেকে ছিটকে গেছে তিন তারাই। ‘অভিশপ্ত’ কাজান এরিনাতেই সলিল সমাধি হয়েছে আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল আর ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। একই দিনে রাশিয়া থেকে ফিরতে হয়েছে মেসি-রোনালদোকে। দেশ সফল না হলেও একার কৃতিত্বে মন জয় করেছেন সিআর সেভেন। তাই ‘সম্মান’ অক্ষতই থেকেছে পর্তুগিজ তারকার। ‘বন্যরা বনে সুন্দর আর মেসি বার্সেলোনায়’- এলএমটেন-এর জুটেছে এই কটাক্ষ। আর নেইমার পেয়েছেন ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান’।

মাঠে গড়াগড়ি খেয়ে সময় ‘নষ্ট করা’র জন্য ‘ডাইভার’ নেইমারকে ‘নাটুকে’ বলেও কটাক্ষ করেছেন ম্যারাডোনা। তবে ম্যান ইউ তারকা তা একেবারেই মনে করেন না।

বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড লুকাকুর মত, ‘নেইমার অভিনেতা নন। ওর মধ্যে বিশ্বসেরা হওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে নেইমার। আরো একবার ওর বিরুদ্ধে খেলতে পেরে আমি অভিভূত।’

 

আরো পড়ুন : কতক্ষণ মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছেন নেইমার?

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই 'অভিনয়ের' কারণে হাসিরপাত্র হয়েছেন নেইমার। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের অল্প বাধায় মাটিতে চিৎপটাং হয়ে পড়ে যান, চিৎকার করে মাঠে গড়াগড়ি খেতে থাকেন। সেই থেকে শুরু, এরপর থেকে প্রতি ম্যাচেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ফলে ভালো পারফরমেন্সের প্রশংসার চেয়ে মাঠে এই কাণ্ডের জন্য সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তিনি। এখন তো এই হিসেবও করা হচ্ছে, এ পর্যন্ত কতক্ষণ মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই ফুটবলার?

গ্রুপ পর্ব ও নক আউট মিলে ব্রাজিলের মোট চারটি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। আর এই সময়ে তিনি মাঠে পড়ে ছিলেন ১৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। এর মধ্যে শুধু মেক্সিকোর বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি সময় পড়ে ছিলেন। সাড়ে পাঁচ মিনিট মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছেন তিনি।

তবে এ কথাও ঠিক, চলতি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৩বার প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের শিকার হয়েছেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই তাকে ১০বার ফাউল করা হয়েছে।

এই ঘটনার জন্য সমালোচনার পাশাপাশি সতীর্থ ও সাবেকদের সমবেদনাও পাচ্ছেন নেইমার। তাকে সমর্থন করছেন দলের সাবেক ফুটবলাররা, দিচ্ছেন পরামর্শও। এই তালিকায় আছেন রোনাল্ডো ও রিভাল্ডোর মতো কিংবদন্তিরা।


আরো সংবাদ