২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের পালা

বিশ্বকাপ, হ্যারি কেন
হ্যারি কেন - সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের শত্তিধর দল বলতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল বুঝে থাকে প্রায় সবাই। এর বাইরে বিশ্বকাপে কেউই ফেবারিটরে তালিকায় থাকে না। কিন্তু এবার ইতালির কোয়ালিফাই করতে না পারা, প্রথম রাউন্ড থেকে জার্মানি, দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে স্পেন, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ব্রাজিলের বিদায় নতুন কারো শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জাগাচ্ছে। পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপে অনেকদিন পর সেমিতে খেলার পথ প্রশস্ত হচ্ছে চার দলের, যারা আজ সচি এবং সামারায় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে।

চার কোয়ার্টার ফাইনালিস্টের মধ্যে একমাত্র ইংল্যাল্ডেরই বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা আছে। তারা ১৯৬৬ সালে নিজ মাঠের শিরোপাজয়ী। ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী লিগ তাদের। অথচ তারা গত ২৮ বছরে খেলতে পারেনি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ইতালি আসরে তারা যেতে পেরেছিল শেষ চার পর্যন্ত। কিন্তু সেমিফাইনালে তাদেরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৪-৩ গোলে ( নির্ধারিত সময়ে ১-১) বিদায় করে দেয় পশ্চিম জার্মানি। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে ইতালির কাছে ১-২ এ হেরে চতুর্থ হয়ে বাড়ী ফেরা।

আজ ইংলিশদের প্রতিপক্ষ সুইডেন। তারা এই পর্যন্ত মাত্র একবারই বিশ্ব ফুটবলের সেরা আসরের সেমিফাইনালিস্ট হতে পেরেছিল। এরপর তাদের অগ্রযাত্রা থেমে যায় রোমারিও গোলে এবং ব্রাজিলের ১-০তে জয়ে। অবশ্য শেষ ম্যাচে বুলগেরিয়াকে ৪-০তে হারিয়ে তৃতীয় স্থান জোটে তাদের।

নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন হয় ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ তে তাদেরও শেষ গন্তব্য ছিল শেষ চারে। এরপর আর সেমিতে যাওয়া হয়নি ক্রোয়েটদের। তাদেরকে ’৯৮ এর বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালেই ২-১ গোলে হারিয়ে থামিয়ে দেয় স্বাগতিক ফ্রান্স।এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ এ জয় নেদারল্যান্ডস এর বিপক্ষে।

সেমিফাইনালে খেলার স্বাদ সবচেয়ে পুরোনো রাশিয়ার। তারা ১৯৬৬ সালে সর্বশেষ শেষ চারে খেলেছিল। সেই সেমিতে তাদের ১-২ গোলে হার পশ্চিম জার্মানির কাছে। সুতরাং আজ রাশিয়া জিতলে তাদের ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান হবে। সুইডেনের ২৪ বছর, ক্রোয়েশিয়ার ২০ বছর এবং ইংল্যান্ডের ২৮ বছর।

ইংল্যান্ড এবং সুইডেন এ পর্যন্ত ২৩বার মোকাবেলা করেছে। এতে সাতবার করে জয় দুই দলেই। ড্র হয়েছে নয়টি ম্যাচ। এদিকে এই নিয়ে তিনবার বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ১-২ এ এবং ২০১৪ সালের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ১-৩ গোলে হার তাদের। আজ কি সে ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে রাশিয়া।


আরো সংবাদ