১৫ নভেম্বর ২০১৮

কতক্ষণ মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছেন নেইমার? (ভিডিও)

বিশ্বকাপ, নেইমার, ব্রাজিল,
চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার - সংগৃহীত

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই 'অভিনয়ের' কারণে হাসিরপাত্র হয়েছেন নেইমার। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের অল্প বাধায় মাটিতে চিৎপটাং হয়ে পড়ে যান, চিৎকার করে মাঠে গড়াগড়ি খেতে থাকেন। সেই থেকে শুরু, এরপর থেকে প্রতি ম্যাচেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। ফলে ভালো পারফরমেন্সের প্রশংসার চেয়ে মাঠে এই কাণ্ডের জন্য সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তিনি। এখন তো এই হিসেবও করা হচ্ছে, এ পর্যন্ত কতক্ষণ মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই ফুটবলার?

গ্রুপ পর্ব ও নক আউট মিলে ব্রাজিলের মোট চারটি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। আর এই সময়ে তিনি মাঠে পড়ে ছিলেন ১৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। এর মধ্যে শুধু মেক্সিকোর বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি সময় পড়ে ছিলেন। সাড়ে পাঁচ মিনিট মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছেন তিনি।

তবে এ কথাও ঠিক, চলতি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৩বার প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের শিকার হয়েছেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই তাকে ১০বার ফাউল করা হয়েছে।

এই ঘটনার জন্য সমালোচনার পাশাপাশি সতীর্থ ও সাবেকদের সমবেদনাও পাচ্ছেন নেইমার। তাকে সমর্থন করছেন দলের সাবেক ফুটবলাররা, দিচ্ছেন পরামর্শও। এই তালিকায় আছেন রোনাল্ডো ও রিভাল্ডোর মতো কিংবদন্তিরা।

দেখুন ভিডিও-

 

আরো পড়ুন : বিতর্কিত সেই রিভাল্ডো এবার পরামর্শ দিলেন নেইমারকে

ঘটনা ২০০২ সালের বিশ্বকাপের। ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল তুরস্ক। সেদিন ম্যাচ জয়ের জন্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার রিভাল্ডো। কর্নার কিক নিতে যাচ্ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই বলটি কিক করে তার দিকে দিচ্ছিলেন তুর্কি স্ট্রাইকার হাকান উনসাল। তখনই তার ছোড়া বলে আঘাত পাওয়ার নাটক শুরু করেন রিভাল্ডো। মুখ চেপে পড়ে যান তিনি। সাথে সাথেই উনসালকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি আসলে লেগেছিল রিভাল্ডোর হাঁটুতে, মুখে নয়! এই ঘটনার জন্য কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রিভাল্ডো। পরে জরিমানাও গুণতে হয়েছিল তাকে। সেই বিতর্কিত রিভাল্ডো এবার পরামর্শ দিলেন নেইমারকে, যিনি চলতি বিশ্বকাপে একই ধরণেই ঘটনার জন্য কড়া সমালোচনার শিকার হচ্ছেন।

গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নক আউট পর্ব, সব ম্যাচেই সামান্য আঘাতেই মাঠে গড়াগড়ি শুরু করেন নেইমার। যা নিয়ে অনেক কথাও শুনতে হচ্ছে তাকে। ফুটবলবিশ্বের তাবড় তাবড় খেলোয়াড়রা তার সমালোচনা করছেন। তবে বরাবরই তাকে সমর্থন করছেন ব্রাজিলের সাবেক এবং বর্তমান ফুটবলাররা। কিংবদন্তি রোনাল্ডো বলেছেন, ‘নেমারকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে সবই ভুল। তাকে ইচ্ছাকৃত ফাউল করা হচ্ছে, যাতে সে সেরা পারফরমেন্স করতে না পারে। তারপরও তাকে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নেইমারের সমালোচনা করে তাকে আটকে রাখা যাবে না।’

রোনাল্ডোর পর নেইমারের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার রিভাল্ডো। পরামর্শ দিয়েছেন, দলের প্রযোজনে যে কোনো কিছু করতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেইমারের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিতে লিখেছেন, 'যদি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের হাত থেকে তোমাকে পালাতে হয়, পালিয়ে যাও। যদি তোমাকে বাড়তি কিছু করে দেখাতে হয়, দেখাও। যদি ফাউলের কারণে তোমাকে পড়তে হয়, পড়ে যাও। পড়ে গিয়ে যদি বাড়তি কিছু পাও তাহলে তো ক্ষতি নেই। সুযোগটা নিয়ে নাও।'

তিনি আরো লেখেন, 'নেইমার, তুমি তোমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যাও। লোকে কে কি বলছে তা পাত্তা দিও না। অনেক মানুষই অনেক কথা বলবে, কারণ তাদের দেশ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে।'

সবশেষে তিনি বলেছেন, 'তোমার ভালো খেলাই মূলত মানুষকে এতো হয়রান করে তুলেছে। তুমি তাদের কথায় কান দিও না। বরাবরেই মতো আক্রমণ করতে থাকো এবং পায়ের জাদুতে আমাদের বিমোহিত করো।'

 

আরো পড়ুন : নেইমারের 'অভিনয়' : এবার মুখ খুললেন রোনাল্ডো

মাঠের ভেতর ব্যাথা পাওয়ার 'অভিনয়' করে এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শিরোনাম ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে মাঠের ভেতর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ফাউলে ব্যাথা পেয়ে যেভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন নেইমার, সেটিকে অভিনয় বলছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়া-কোচ, সাবেক খেলোয়াড়রাসহ আরো অনেকে। তবে এই সমালোচনায় কান দিতে রাজি নন নেইমার, তা আগেই জানিয়েছেন। এবার নেইমারের পক্ষ নিয়ে কথা বললেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনাল্ডো। তিনি বলেন, ‘নেমারকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে সবই ভুল। তাকে ইচ্ছাকৃত ফাউল করা হচ্ছে, যাতে সে সেরা পারফরমেন্স করতে না পারে। তারপরও তাকে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নেইমারের সমালোচনা করে তাকে আটকে রাখা যাবে না।’

মাঠের ভেতর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ফাউলে ব্যাথা পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এমন আচরন করেন, যাতে অন-ফিল্ড রেফারি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কার্ড দেখাতে বাধ্য হন বা ব্রাজিলের পক্ষে পেনাল্টি-ফ্রি কিক দিয়ে দেন।
তেমনই একটি ঘটনা চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে। গত ২২ জুন সেন্ট পিটার্সবুর্গে মুখোমুখি হয়েছিলো ব্রাজিল-কোস্টারিকা। ওই ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বল নিয়ে কোস্টরিকার ডি-বক্সের ভেতর ঢুকে যান ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। এসময় তাকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন কোস্টারিকার ডিফেন্ডার জিয়ানকার্লো গঞ্জালেজ। ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। সাথে সাথে ফাউলের কারণে পেনাল্টির নির্দেশ দেন ওই ম্যাচের অন-ফিল্ড রেফারি।

রেফারির এই সিদ্বান্তের প্রতিবাদ করে কোস্টারিকার খেলোয়াড়। ফলে মাঠের ভেতর থাকা টিভিতে ভিডিও রেফারির সহায়তা নিয়ে পেনাল্টি বাতিল করে দেন অন-ফিল্ড রেফারি। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, কোস্টারিকার গঞ্জালেজ বাঁধা দেয়ার সময় নেইমারের গায়ে স্পর্শই করেননি। ব্যাথার ভান করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। যাতে পেনাল্টির পাওয়া যায়। পেনাল্টি ঠিকই পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু ভিডিও রেফারির সহায়তায় সেই পেনাল্টি বাতিল হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রিও ডি জেনিরিও’তে সার্বিয়ার বিপক্ষেও ম্যাচের আগে ব্রাজিলের একটি রেস্টুরেন্ট মজার ঘোষণা দেয়। তাহলো- সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নেইমার যতবার মাঠে লুটিয়ে পড়বেন ততবার সেদেশের ক্রেতাদের ফ্রি বিয়ার দেয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, সাবেক খেলোয়াড়-কোচ ও বর্তমান কোচরা নেইমারের কর্মকাণ্ডে বেশ ক্ষিপ্ত। নেইমারকে পাক্কা অভিনেতা হিসেবে অভিহিত করছেন তারা। এসব অভিমতের সাথে একমত নন রোনাল্ডো।

ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদ মাধ্যমেরও এক হাত নিলেন তিনি, ‘নেইমারকে নিয়ে এইসব সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। রেফারি নেইমারকে রক্ষা করতে পারছেন না। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউল করছে নেইমারকে। টিভির অনুষ্ঠানে সময় পূর্ণ করতে বা খবরের কাগজের শিরোনাম আর্কষণীয় করতেই এই সমালোচনা। তবে এসব সমালোচনা আমলে নিচ্ছেন না নেইমার। ঠিকই নিজের সেরা পারফরমেন্স করছে সে।’

নেইমারের বুদ্ধিমত্তার কারণে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা তাকে আটকে রাখতে পারছে না। নয়তো বড় ধরনের ইনজুরিতে নেইমার পড়তো বলে মনে করেন রোনাল্ডো।

তিনি বলেন, ‘নেইমার একজন বুদ্ধিমান ও চৌকস ফুটবলার। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে বিপক্ষের খেলোয়াড়দের ট্যাকল থেকে নিজেকে বাঁচাতে হয়, এ ব্যাপারে ভালো জানে নেইমার। নয়তো অনেক আগেই বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়তে পারতো সে। নেইমারের মত অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের সাথে এমন আচরণ করে না প্রতিপক্ষে খেলোয়াড়রা।’


আরো সংবাদ