১৩ নভেম্বর ২০১৮

ব্রাজিলের বিপক্ষে বেলজিয়ামের 'স্বপ্নের ম্যাচ'

বিশ্বকাপ
ব্রাজিল-বেলজিয়ামের জয়োৎসব - সংগৃহীত

দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার ফেবারিট ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। এবারের টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত জয়ের ধারা ধরে রাখা দু’দলই একইভাবে নিজেদের প্রমাণ করে সামনে এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাসী মনোভাব পোষণ করেছে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১২টি গোল দিয়ে বেলজিয়াম যেমনভাবে নিজেদের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আরো একবার সামনে নিয়ে আসতে চায়, ঠিক সেভাবেই এ পর্যন্ত মাত্র এক গোল হজম করা ব্রাজিল তাদের রক্ষণভাগের উপর পুরো আস্থা নিয়েই মাঠে নামবে।

বেলজিয়ামের কোচ রবার্তো মার্টিনেজও দলের পারফরমেন্সে আস্থা রেখে ব্রাজিলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। দলীয় শক্তিকে আরো বৃদ্ধি করার তাগিদেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা মিডফিল্ডার মারোনে ফেলাইনিকে মূল একাদশে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্টিনেজ।

জাপানের বিপক্ষে শেষ ১৬’র ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও স্টপেজ টাইমের শেষ মিনিটে নাকের চাডলির গোলে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় মার্টিনেজের দল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ফেলাইনি ও চাডলি মাঠে নামার পরে অন্য রকম এক উদ্দীপনা ফিরে পায় রেড ডেভিলসরা। ড্রিয়েস মার্টিনস ও ইয়ানিক কারাসকোর জায়গায় এই দু’জন নামার সাথে সাথে শারিরীকভাবেই জাপানিজরা শক্তিতে পিছিয়ে পড়ে। বদলি হিসেবে নেমে ফেলাইনি ও চাডলি দু'জনেই গোল করেছেন। সে কারণেই কাজানে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে মূল একাদশে ফেলাইনির খেলার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মার্টিনেজ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে মার্টিনেজ বলেছেন, ‘একজন কোচ হিসেবে এই দলে আমার সামনে অনেক উপায় খোলা আছে। কিন্তু আমি ভালভাবেই জানি আমাকে কি করতে হবে। আমাদের শক্তির প্রয়োজন। সোমবার আমরা যেভাবে খেলেছি সেই একই ধরনের মানসিকতা দেখাতে পারলে আমাদের বড় সুযোগ রয়েছে। এটা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য স্বপ্নের ম্যাচ। তারা এই ধরনের ম্যাচ খেলার জন্য জন্ম নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামবো। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে অবশ্যই সেটা প্রত্যাশিত নয়।’

এদিকে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ১৬’র ম্যাচে ব্রাজিল খুব সহজে জয় পায়নি। যদিও ম্যাচের শেষটা ছিল দাপুটে। ম্যাচটিতে যথারীতি নেইমার ছিলেন কেন্দ্রবিন্দুতে। নিজে একটি গোল করা ছাড়াও অপর গোলটিতে এসিস্ট করেছেন। সাথে সাথে আরেকবার প্রমাণ করেছেন দলের প্রয়োজনে নিজের ফর্মের শীর্ষেই সবসময় থাকেন এই সুপারস্টার। যদিও এটাই তার অসম্ভব প্রতিভার শেষ সীমানা নয়, এখনো তার অনেক কিছুই দেয়ার বাকি আছে। ম্যাচ শেষে মেক্সিকান খেলোয়াড় ও কোচ হুয়ান কার্লোস ওসোরিও’র ব্যপক সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয়েছে নেইমারকে। বিশেষ করে ওসোরিও অভিযোগ করে বলেছেন অযথাই ‘অভিনয়’ করে নেইমার রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু ব্রাজিলের সাবেক তারকা রিভাল্ডো মনে করেন এই সমস্ত সমালোচনা উপেক্ষা করে নেইমারের শুধুমাত্র নিজের খেলার উপর মনোনিবেশ করা উচিত। বেলজিয়ামও নিশ্চিতভাবে সব গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নেইমারকেই রাখবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিভাল্ডো লিখেছেন, ‘নেইমার তুমি তোমার স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যাও। অন্যদের সমালোচনা নিয়ে তোমার চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ অনেকেই ইতোমধ্যেই দেশে ফিরে গিয়েছে। তুমি যদি ড্রিবল করতে চাও তবে তাই করো। তুমি যদিও বল মাথার উপর দিয়ে নিয়ে যেতে চাও তবে সেটাও করো, তুমি যদি গোল করতে চাও, করো। ফাউলের বিপরীতে যদি পড়ে যাও, যাও। মাটিতে পড়ে গিয়ে কিছুটা সময় নিতে হলে সেটাও করো, কারণ সবাই তাই করে। সমস্যা হলো তুমি আমাদের দেশের আইডল এবং এটাই কিছু কিছু মানুষের সহ্য হয় না। আমি জানি না কেন। সবসময়ের মতই সব কিছুকে পিছনে ফেলে শুধুমাত্র আমাদেরকে ভাল ফুটবল উপহার দাও।’

বহিষ্কারাদেশের কারণে ব্রাজিল দলে থাকছেন না মিডফিল্ডার কাসেমিরো। এদিকে থাইয়ের ইনজুরির কারণে ডগলাস কস্তার খেলা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

নেইমার যদিও ভাল খেলে ব্রাজিল সাফল্য পাবে, এটাই মূল কথা। মেক্সিকোর বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের পরে এই কথাটা আরো বড় করে সামনে চলে এসেছে। তাই বরাবরের মতই ব্রাজিলের অন্য সবার থেকে নেইমারের দিকেই দৃষ্টি থাকবে। এই নিয়ে টানা সাতটি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে ব্রাজিল। এর মধ্যে দুইবার তারা এই পর্যায় থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০৬ সালে ফ্রান্স ও ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। এর আগের তিনটি টুর্নামেন্টেই ইউরোপীয়ান কোনো দলের বিপক্ষে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে ব্রাজিল (২০০৬-ফ্রান্স, ২০১০- নেদারল্যান্ড, ২০১৪-জার্মানি)।


আরো সংবাদ