১৮ নভেম্বর ২০১৮

নেইমারের 'অভিনয়' : এবার মুখ খুললেন রোনাল্ডো

বিশ্বকাপ, নেইমার, রোনাল্ডো
নেইমার একজন বুদ্ধিমান ও চৌকস ফুটবলার - নয়া দিগন্ত

মাঠের ভেতর ব্যাথা পাওয়ার 'অভিনয়' করে এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শিরোনাম ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে মাঠের ভেতর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ফাউলে ব্যাথা পেয়ে যেভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন নেইমার, সেটিকে অভিনয় বলছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়া-কোচ, সাবেক খেলোয়াড়রাসহ আরো অনেকে। তবে এই সমালোচনায় কান দিতে রাজি নন নেইমার, তা আগেই জানিয়েছেন। এবার নেইমারের পক্ষ নিয়ে কথা বললেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনাল্ডো। তিনি বলেন, ‘নেমারকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে সবই ভুল। তাকে ইচ্ছাকৃত ফাউল করা হচ্ছে, যাতে সে সেরা পারফরমেন্স করতে না পারে। তারপরও তাকে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নেইমারের সমালোচনা করে তাকে আটকে রাখা যাবে না।’

মাঠের ভেতর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ফাউলে ব্যাথা পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এমন আচরন করেন, যাতে অন-ফিল্ড রেফারি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কার্ড দেখাতে বাধ্য হন বা ব্রাজিলের পক্ষে পেনাল্টি-ফ্রি কিক দিয়ে দেন।
তেমনই একটি ঘটনা চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে। গত ২২ জুন সেন্ট পিটার্সবুর্গে মুখোমুখি হয়েছিলো ব্রাজিল-কোস্টারিকা। ওই ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বল নিয়ে কোস্টরিকার ডি-বক্সের ভেতর ঢুকে যান ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। এসময় তাকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন কোস্টারিকার ডিফেন্ডার জিয়ানকার্লো গঞ্জালেজ। ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। সাথে সাথে ফাউলের কারণে পেনাল্টির নির্দেশ দেন ওই ম্যাচের অন-ফিল্ড রেফারি।

রেফারির এই সিদ্বান্তের প্রতিবাদ করে কোস্টারিকার খেলোয়াড়। ফলে মাঠের ভেতর থাকা টিভিতে ভিডিও রেফারির সহায়তা নিয়ে পেনাল্টি বাতিল করে দেন অন-ফিল্ড রেফারি। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, কোস্টারিকার গঞ্জালেজ বাঁধা দেয়ার সময় নেইমারের গায়ে স্পর্শই করেননি। ব্যাথার ভান করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। যাতে পেনাল্টির পাওয়া যায়। পেনাল্টি ঠিকই পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু ভিডিও রেফারির সহায়তায় সেই পেনাল্টি বাতিল হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রিও ডি জেনিরিও’তে সার্বিয়ার বিপক্ষেও ম্যাচের আগে ব্রাজিলের একটি রেস্টুরেন্ট মজার ঘোষণা দেয়। তাহলো- সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নেইমার যতবার মাঠে লুটিয়ে পড়বেন ততবার সেদেশের ক্রেতাদের ফ্রি বিয়ার দেয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, সাবেক খেলোয়াড়-কোচ ও বর্তমান কোচরা নেইমারের কর্মকাণ্ডে বেশ ক্ষিপ্ত। নেইমারকে পাক্কা অভিনেতা হিসেবে অভিহিত করছেন তারা। এসব অভিমতের সাথে একমত নন রোনাল্ডো।

ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদ মাধ্যমেরও এক হাত নিলেন তিনি, ‘নেইমারকে নিয়ে এইসব সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। রেফারি নেইমারকে রক্ষা করতে পারছেন না। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউল করছে নেইমারকে। টিভির অনুষ্ঠানে সময় পূর্ণ করতে বা খবরের কাগজের শিরোনাম আর্কষণীয় করতেই এই সমালোচনা। তবে এসব সমালোচনা আমলে নিচ্ছেন না নেইমার। ঠিকই নিজের সেরা পারফরমেন্স করছে সে।’

নেইমারের বুদ্ধিমত্তার কারণে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা তাকে আটকে রাখতে পারছে না। নয়তো বড় ধরনের ইনজুরিতে নেইমার পড়তো বলে মনে করেন রোনাল্ডো।

তিনি বলেন, ‘নেইমার একজন বুদ্ধিমান ও চৌকস ফুটবলার। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে বিপক্ষের খেলোয়াড়দের ট্যাকল থেকে নিজেকে বাঁচাতে হয়, এ ব্যাপারে ভালো জানে নেইমার। নয়তো অনেক আগেই বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়তে পারতো সে। নেইমারের মত অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের সাথে এমন আচরণ করে না প্রতিপক্ষে খেলোয়াড়রা।’

 

আরো পড়ুন : বোমা ফাটালেন ম্যারাডোনা!

সব সময় মিডিয়ায় আলোচনায় থাকেন তিনি। বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়োগো ম্যারাডোনার। সর্বশেষ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের পর তার উল্লাস নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এরপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে উঠে ছিলেন শিরোনামে। এবার আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ নয়, শিরোনামে এসেছেন নক আউটে কলম্বিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি নিয়ে। এই ম্যাচে কলম্বিয়া 'পুকুর চুরি'র খপ্পরে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন, ডাকাতির শিকার হয়েছে কলম্বিয়া।

এর আগে ম্যাচ শেষে রেফারির বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার রাদামেল ফালকাও। তিনি বলেন, 'রেফারি আমাদের অনেক বিরক্ত করছিল। ৫০-৫০ অবস্থায় সে সবসময় ইংল্যান্ডের পক্ষে বাঁশি বাজাচ্ছিল। এটা আমাদেরকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছিল। দুই দলের প্রতি তিনি সমান আচরণ করছিলেন না।'

এরপরই টেলেসুরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা এই মন্তব্য করেন। তিনি ম্যাচটি পরিচালনায় আমেরিকান রেফারি নিয়োগ দেয়ার ইস্যুতে কলম্বিয়ানদের ফিফার প্রধান রেফারির কলিনাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর আহ্বানও রেখেছেন ম্যারাডোনা। তার বিশ্বাস, ইংল্যান্ডের লিড নেয়ার পেনাল্টিটি ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

মঙ্গলবার রাশান বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের সর্বশেষ খেলায় টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ড নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে ম্যাচটিতে তাদের জয় ছাপিয়ে শিরোনামে রেফারির একতরফা সিদ্ধান্ত দেয়ার ঘটনা।

ম্যারাডোনা বলেন, ‘মাঠে আমি পুকুর চুরির ঘটনা দেখেছি। ক্ষমা প্রার্থনা করছি কলম্বিয়ার ভক্তদের কাছে। ফুটবলারদের কোনো দোষ দেখি না। কলিনাকে ভদ্রলোক বলেই জানি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে তিনি কিভাবে এ রকম একজন রেফারিকে বেছে নিয়েছেন তা বুঝতে পারছি না।’

দ্বিতীয়ার্ধের সূচনায় হ্যারি কেনের পেনাল্টি গোলে লিড নিলেও জয়ের জন্য টাইব্রেকারের নাটকীয়তা পাড়ি দিতে হয়েছে ইংলিশদের। নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমে কলম্বিয়ানদের খেলায় ফেরান বার্সেলোনা ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনা। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় কোনো দলটি গোল আদায় করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের শুটআউটে ৪-৩ গোলের জয়ে থ্রি লায়ন্স খ্যাত ইংল্যান্ড উঠেছে ফিফার ২১তম মেগা আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইংলিশদের পাওয়া পেনাল্টিকে পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন ম্যারাডোনা। কলম্বিয়ার ফুটবলারদের ভিএআর প্রার্থনা সত্ত্বেও রেফারির প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে হাস্যকর বলেও অভিমত দেন আর্জেন্টাইন ফুটবলঈশ্বর। তার মতে, নিজের ভুলেই ডি-বক্সের মধ্যে পড়ে গেছেন হ্যারি কেন।

ম্যারাডোনা বলেন, ‘রেফারির পেনাল্টি আদেশ সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। এটি পেনাল্টি ছিল না। নিজের ভুলেই পড়ে গেছেন কিন। কলম্বিয়ার অলিপ সত্ত্বেও রেফারি কেন ভিএআর ব্যবহার করেননি তা আমার বোধগম্য হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্যই ভিএআর প্রযুক্তির সংযোজন ঘটেছে বিশ্বকাপে। কিন্তু রেফারি এড়িয়ে গেলেন। এ ধরনের ঘটনা দেখার পর চুপ থাকলে চলবে না। প্রতিবাদ করতে হবে।’


আরো সংবাদ