১৯ নভেম্বর ২০১৮

পুতিনের এক ফোনেই জয়ের বন্দরে রাশিয়া!

বিশ্বকাপ
রাশিয়ার মতো র‍্যাঙ্কিয়ে বহু নিচে থাকা একটি দলের পক্ষে কীভাবে এই জয় সম্ভব হলো? - সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শক্তিশালী স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে স্বাগতিক রাশিয়া। খেলার অতিরিক্ত সময়েও ফলাফল ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত রাশিয়া ৪-৩ গোলে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দল স্পেনকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়।

রাশিয়ার মতো র‍্যাঙ্কিয়ে বহু নিচে থাকা একটি দলের পক্ষে কীভাবে এই জয় সম্ভব হলো? এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কথাবার্তা হচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, একটি ফোন কলই কি রুশ দলকে জয়ের জন্যে উজ্জীবিত করেছে?

কার ফোন? প্রেসিডেন্ট পুতিনের। কখন করেছিলেন? খেলা শুরুর আগে।

বিবিসির খবরে বলা হচ্ছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে রুশ ফুটবল দলের ম্যানেজার স্টানিস্লাভ চেরকেসভকে ফোন করেছিলেন।

ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই ফোন কলের কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, "ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে, দুপুরের দিকে প্রেসিডেন্ট কোচকে ফোন করে দলের জন্যে তার শুভ কামনার কথা জানিয়েছিলেন।"

খেলাটি রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত হলেও পুতিন এই ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। সৌদি আরবের সাথে উদ্বোধনী ম্যাচে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছিলেন পুতিন। তার সাথে ছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও। ওই ম্যাচে রাশিয়া ৫-০ গোলে সৌদি আরবকে পরাজিত করেছিল।

এখন কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ফুটবলের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭০ নম্বরে থাকা রাশিয়া। বিশ্বকাপে যে ৩২টি দল খেলছে, র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে তাদের সবার মধ্যে সৌদি আরবের অবস্থান সবচেয়ে নিচে।

প্রথমে সৌদি আরব, তারপর মিসর এবং সবশেষে স্পেনকে হারিয়ে 'শেষ ৮' পর্বে পৌঁছালো তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের সময়েও প্রেসিডেন্ট পুতিন মাঠে উপস্থিত থাকবেন কিনা- সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।

পেসকভ আরো জানান, "প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন যে চেরকেসভের নেতৃত্বে আমাদের খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। গ্রুপ পর্যায় থেকে তারা পৌঁছে গেছে পরের পর্বে।"

"প্রেসিডেন্ট পুতিন অবশ্য এটাও বলেছেন, স্পেনের সাথে খেলার ফলাফল বাদ দিলেও, আমাদের দেশের কেউই এই দলকে খারাপ বলবে না," বলেন তিনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী শনিবার সচিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়বে রাশিয়া। - বিবিসি

 

আরো পড়ুন : স্পেনের হয়ে আর খেলবেন না ইনিয়েস্তা

আগের রাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হাভিয়ের মাসচেরানো। আর রোববার বললেন স্পেনের কিংবদন্তী মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। দু'জনেরই বয়স হয়েছে, তাই বিশ্বকাপের পর অবসরে যাওয়াটা অনুমেয়ই ছিলো; কিন্তু যেভাবে গেলেন সেটি তাদের ক্যারিয়ারের সাথে মোটেই মানানসই নয়।

স্পেন জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তী মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। রোববার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে রাশিয়ায় কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে স্পেন। এই ম্যাচের পরই জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।

ঘোষণাটা যে আসবে তা জানাই ছিলো। নিজেও আভাস দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের আগে। রাশিয়ার বিপক্ষে হারের পর সেটাই জানিয়ে দিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁকে আর দেখা যাবে না। এ মৌসুমেই দীর্ঘ দিনের ক্লাব বার্সেলোনা থেকেও অবসর নিয়েছেন। আর দু’একটি মৌসুম খেলবেন জাপানের ঘরোয়া ফুটবল লিগে।

স্পেনের জার্সিতে ১৩১ ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডার দেশের হয়ে জিতেছেন একটি বিশ্বকাপ ও দুটো ইউরো শিরোপা। বিদায় বেলা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘স্পেনের জার্সিতে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। অসাধারণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। যেভাবে শেষ করার স্বপ্ন দেখেন অনেক সময় তা নাও হতে পারে।’

২০০৬ সালে স্পেনের জার্সিতে অভিষেকের পর এই এক যুগে ইনিয়েস্তা অনেক কিছুই জিতেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে তার গোলেই শিরোপা জিতেছে স্পেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই বিশ্বকাপের আগে ২০০৮ সালে ও পরে ২০১২ সালে দুটি ইউরো জয়েও দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন গত এক যুগের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার। কিন্তু বিদায়টা তার সুখকর হলো না। স্পেনের মতো দলের কাছে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়াটা অপ্রত্যাশিতই।

রাশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর এই ম্যাচে ইনিয়েস্তাকে প্রথম একাদশে খেলাননি স্পেন কোচ ফার্নান্দো হিয়েরো। তাঁকে মাঠে নামিয়েছেন ৬৫ মিনিটের পর। এরপর স্পেনের খেলার ধারও বেড়েছে। কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। তবে ইনিয়েস্তার প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়ার সিদ্ধান্তটা মেনে নিতে পারেননি তাঁরই জাতীয় দল সতীর্থ সেস ফ্যাব্রেগাস। ফ্যাব্রেগাস বলেছেন, ‘এভাবে বিদায়টা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। আমি অবশ্যই মনে করি তাঁকে শুরু থেকে খেলানো যেত।’


আরো সংবাদ