২০ নভেম্বর ২০১৮

আর্জেন্টিনার মতো দলকে হারানো বিশেষ কিছু : ফ্রান্স

বিশ্বকাপ, ফ্রান্স
ফ্রান্সের জয়োল্লাস - সংগৃহীত

ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব শুরু হচ্ছে আজ। কাজানে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির মাধ্যমে অতীত অভিজ্ঞতা ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চায় ফ্রান্স। এর আগে বিশ্বকাপে কিংবা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করতে পারেনি ফ্রান্স। কিন্তু সমালোচকদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিকে পেছনে ফেলে নিজেদের প্রমাণে এবার বদ্ধ পরিকর লেস ব্লুজরা।

যদিও এ পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপে দিদিয়ের দেশ্যমের দল সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। তারপরেও অবশ্য তিন ম্যাচে সাত পয়েন্টসহ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই নক আউট পর্বে গেছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্স ডেনমার্কের সাথে গোলশূন্য ড্র করে প্রথম রাউন্ড শেষ করেছে। আর এতেই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে ডেনমার্কের পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়েছে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে ফ্রান্স যে দারুণ সতর্ক অবস্থায় আছে তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের সেন্টার ব্যাক স্যামুয়েল উমতিতি। নক আউট পর্বের আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটা সময়ই উমতিতিতে তার বার্সেলোনা সতীর্থ লিওনেল মেসিকে নিয়ে কথা বলতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দুই দলের লড়াইয়ে সবার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন আর্জেন্টাইন এই সুপারস্টার। তবে উমতিতি মনে করেন সব কিছুর পরে ফলাফলই মূখ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নতি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমরা জানি এটা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ম্যাচে জয়ী হওয়া। অনেকেই আমাদের খেলা নিয়ে সন্তুষ্ট না হলেও ম্যাচে জিততে পারলে তারাও খুশি হবে। আমি আর শুনতে চাই না যে আমাদের মধ্যে ফুটবলীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে। আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে সামনে এগিয়ে যাওয়া অবশ্যই পুরো দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে। এখন আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্য, সামনে এগিয়ে যাওয়া। আমার কাছে ব্রাজিল, পেরু কিংবা মেক্সিকোকে বিদায় করা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ তার থেকে আর্জেন্টিনার মত দলকে বাদ দিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়া সত্যিই বিশেষ কিছু।’

ফ্রান্সের নক আউট পর্বটা সহজ হলেও আর্জেন্টিনার জন্য সেটা ছিল দারুণ নাটকীয়। গ্রুপের শেষ ম্যাচে যেখানে জয় ভিন্ন বিকল্প কিছু ছিল না সেখানে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত নাইজেরিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র চলছিল। মার্কোস রোহো সেই সময় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। দারুন এক ভলিতে গোল উপহার দিয়ে তিনি জর্জ সাম্পাওলির দলকে নক আউট পর্বে নিয়ে যান।

দারুণ উত্তেজনাকর এক ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার গিওভানি লো সেলসো বলেছেন, ‘আমি এটাকে অকল্পনীয় কোনো ম্যাচ বলব না। তবে নক আউট পর্বে যাওয়ার পথটা মোটেই সহজ ছিল না। অবশ্যই এই মুহূর্তটা কিছুটা অস্বস্তিদায়ক ছিল। কারণ সবকিছুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছিল। কিন্তু একটি দল হিসেবে যা যা ব্যবহার করা প্রয়োজন আমরা করেছি। ম্যাচে জয়লাভের জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন ফ্রান্সকে মোকাবেলা করার জন্য আমরা আরো বেশি শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছি।’

ডেনমার্কের বিপক্ষে ফ্রান্সের হতাশাজনক পারফরমেন্সে পরে আবারো মূল একাদশে ফিরেছেন পল পগবা। আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠ এখনো সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। আর সেই সুযোগটাই কাল কাজে লাগাতে পারেন পগবা। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি রাশিয়ায় নিজের পারফরমেন্স দিয়ে সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে না পারলেও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে যে গোলটি তিনি করেছেন তাতে আরো একবার প্রমান হয়েছে কেন মেসি সেরা।

এই নিয়ে ১২বারের মত ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকান জায়ান্টরা ছয়টিতে জয়ী ও দুটিতে ড্র করেছে। আর্জেন্টিনা তাদের শেষ ১৩টি বিশ্বকাপের ১২টিতেই প্রথম পর্ব পার করেছে। শুধুমাত্র ২০০২ সালে নক আউটের আগে তাদের বিদায় ঘটেছিল। শেষ চারটি নক আউট ম্যাচে তারা মাত্র দুটি গোল দিতে পেরেছে। নক আউট পর্বে আর্জেন্টাইন তারকা মেসি এখন পর্যন্ত কোন গোল করতে পারেননি। ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে তিনিই গোল করেছিলেন। ২০০৯ সালের প্রীতি ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ফ্রেঞ্চ তারকা অলিভার জিরুদ বড় কোনো টুর্নামেন্টে ৩৫৭ মিনিট কোনো গোলের দেখা পাননি। সর্বশেষ আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো ২০১৬’র কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি গোল করেছিলেন। এই ম্যাচের মাধ্যমে ফ্রান্সের কোচ দেশ্যমও অনন্য এক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ৮০টি ম্যাচে দায়িত্ব পালনের নতুন রেকর্ডে তিনি আজ পিছনে ফেলবেন রেমন্ড ডমিনিককে।

 

আরো পড়ুন : আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স : একাদশে জায়গা হবে কাদের

গ্রুপ ডি থেকে ফেভারিট ছিল আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া। এই দুটি দলই দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু দুটি দেশ দুই রকম উপায়ে। পূর্ব ইউরোপের ক্রোয়েশিয়া নিজেদের তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই জয়ী হয়ে শতকরা শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপ ফেভারিট হিসেবে আর্জেন্টিনার সহজেই দ্বিতীয় পর্বে যাওয়াটা ধরেই নিয়েছিলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এবং পৃথিবীজুড়ে তাদের ভক্ত-সমর্থকেরা। কিন্তু সাম্পাওলির দলের কিছুটা অগোছালো পারফরম্যান্স তাদেরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল অনেক হিসাবের সামনে। শেষ পর্যন্ত সে সব হিসাব-নিকাশ ও পাহাড়কে ডিঙিয়ে আলবেসেলেস্তেরা জায়গা করে নেয় দ্বিতীয় পর্বে। নক-আউট পর্ব বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেসির আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে পগবার ফ্রান্সের।

ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা এবং হিসেবি ফ্রান্স এখনো নিজেদের ক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত নয় যে, তারা ১৫ জুলাই রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা নিয়ে উৎসব করতে পারবে কি না। তবে আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে বেশ কিছু অনিশ্চয়তা ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এই বিশ্বকাপে মোকাবেলা করে সামনে এগিয়েছে। তাই তাদেরকে ফ্রান্সের বিপক্ষে কিছুটা এগিয়ে থাকতেই দেখা যাবে। তবে গ্রুপ থেকেই অনেকটা হিসেবি ফুটবল খেলা ফ্রান্সকে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরো একটু মেলে ধরতে হবে, না হলে নিজেরাই বিপদের সম্মুখীন হবে। নিজেদের গ্রুপ থেকে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হলেও তারা দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং একটিতে ড্র করেছে। পয়েন্ট টেবিলে তারা সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও গ্রুপ পর্বে মাত্র তিনটি গোল করতে পেয়েছে গ্রিজম্যান, জেরু, এমবাপ্পে ও ডেম্বেলের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও।

অপরদিকে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মার্কাস রোহর ভলির দরকার হয়েছিল জয়ের জন্য। নিজেদের গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিলে সেই দেশকে নিয়ে উচ্চাশা বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক; কিন্তু ফ্রান্সের বেলায় তেমনটি ভাবা যাচ্ছে না। তারা অনেক হিসেবি এবং লড়াকু ফুটবল খেলে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। নিজেদের তিন ম্যাচ থেকে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিলেও ফ্রান্সের খেলা তাদের ভক্ত-সমর্থকদের মনমতো বিবেচিত হয়নি। ফ্রান্সের যে খেলোয়াড়দের রাশিয়া বিশ্বকাপে আগুন ঝরানোর কথা ছিল তারা নিজেদের তেমনভাবে প্রকাশই করতে পারেনি। লেস ব্লুসরা তাদের গ্রুপে একমাত্র পেরুর বিপক্ষে নিজেদের ক্লাস দেখাতে সক্ষম হয়েছিল; কিন্তু সকারুজদের বিপক্ষে তাদের দুটি গোলই ছিল বিতর্কিত একটি পেনাল্টি থেকে এবং একটি আত্মঘাতী গোল ছিল।

তিনটি অর্ধ বা সপ্তাহ কেটে গেছে যখন ফ্রান্স তাদের সর্বশেষ গোল করেছিল। দিদিয়ের দেশম অবশ্য নিজের দলের এই অবস্থা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়। তার সব চিন্তা ৯৮ বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয়া। তার দলে প্রতিভা বা তারকা ফুটবলারের বেশ প্রাচুর্য আছে। বর্তমান বিশ্বফুটবলে ফ্রান্সেরই সবচেয়ে বেশি ফসল বা ফুটবল তারকা আছে; কিন্তু এটি নিশ্চিত করে বলা যায় ফ্রান্সের তারকারা গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সব সময় যে সুসংহত ও শক্তিশালী জয় নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেয় না।

আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের লড়াইয়ে যে দেশ জয়ী হবে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল কিংবা উরুগুয়ের মুখোমুখি হতে পারে যা তাদের সামনে আরো ক্ষয়কারী লড়াই হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশমের দলে বেশির ভাগই ফ্রান্স ২০ কিংবা ২৩ দলের সদস্য। যারা বিভিন্ন পর্যায় ঘুরে এখন জাতীয় দলে। দেশমের সামনে এখন বড় চিন্তা হলো আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে একাদশ গঠন করা, যারা অনেক সমালোচনা ও হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা দুই দেশ নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করবে। শনিবারের ম্যাচে ফ্রান্সকে তাদের ইচ্ছার আরো প্রকাশ ঘটাতে হবে এবং নিজেদের খেলায় আরো উন্নতি ঘটাতে হবে। কেন জানি আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে দেশমের দলের বিপক্ষে একটি ভালো করার বাতাস বয়ে চলেছে। দেশম ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে সে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসে। তাই এটি বলা যায় না আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কাজান এরিনায় ফ্রান্সের কোন ফুটবলাররা একাদশে থাকবে। হুগো লরিস গোলবারের নিচে আবার ফেরত আসবে। রক্ষণভাগে স্যামুয়েল উমতিতি এবং মাঝমাঠে পল পগবার খেলা নিশ্চিত। আক্রমণভাগে কিলিয়েন এমবেপ্পে ফেরত আসতে পারেন উসমান ডেম্বেলের স্থানে। ওলিভার জিরু খেলার শুরু থেকেই না থাকতে পারে এবং এন্টনিও গ্রিজম্যান আক্রমণভাগের মাঝে স্থান পেতে পারেন। নাবিক ফেকিরকে একাদশে দেখা যেতে পারে শুরু থেকেই। বেঞ্জামিন পাভার্ডের পরিবর্তে জিব্রেল সিদিবেকে দেখা যেতে পারে। নিজেদের সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচে ফ্রান্স চারটিতে জয় পেয়েছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ফ্রান্স যদিও গ্রুপ পর্ব থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে; কিন্তু আর্জেন্টিনার বেলায় সেটি মোটেও ছিল না এবং তাদেরকে নিজেদের শেষ ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি গোলের দরকার ছিল শেষ ষোলতে আসতে। আর্জেন্টিনার বেলায় বেশির ভাগ সময়ই তাদের ও বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসির খেলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সার্জিও অ্যাগুয়েরোর খেলা গোলরক্ষক উইলি কারবালোর কিছু ছেলেমানুষী ভুল এবং মার্কাস রোহর শেষ মুহূর্তের গোল গ্রুপ পর্বে এই ছিল আর্জেন্টিনা; কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোহর গোল সাম্পাওলিকে যেন কারাগার থেকে বের করে দ্বিতীয় পর্বে এনেছে। লে আলবেসেলেস্তেদের ভক্ত- সমর্থকেরা তাদের প্রিয় দলের খেলা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট ছিল না। তারা আশাই করেনি মেসি যে দলে আছে তাদেরকে এভাবে শেষ ষোলোতে আসতে হবে। তারা নিজেদের ধারা থেকেও কিছুটা নিচু ছিল; কিন্তু নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি জয় পুরো দলকে একত্র করেছে এমনটিই দেখা যাচ্ছে।

সাম্পাওলি এবং ফুটবলারদের মাঝের সম্পর্ক নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে। কোচ সাম্পাওলি তার চাকরি হারানোর খুব কাছেই ছিল; কিন্তু রোহর গোল নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সেটি প্রতিহত করেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মনে হচ্ছে শেষ চেষ্ট করতে প্রস্তুত বিশ্বকাপ শিরোপার জন্য। ফ্রান্সের বিপক্ষে সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে আক্রমণভাগে আবার দেখা যেতে পারে। গঞ্জালো হিগুয়েনের ফর্ম খুব ভালো না থাকায়। ফ্রাংকো আরমানি একাদশে তার জায়গা ধরে রাখবে। এঞ্জেল ডি মারিয়ার একাদশে থাকা নিয়েও সন্দেহ করা হচ্ছে। তার জায়গায় আসতে পারে পাওলো দিবালা। যদিও জুভেন্টাসের এই স্ট্রাইকার মেসির পজিশনে খেলে থাকেন এবং তাদের খেলার ধরনও এক। আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়েছে দু’টিতে পরাজিত হয়েছে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের কাজান এরিনায় শনিবারের ম্যাচটি হবে ১২তম ম্যাচ। আর্জেন্টিনা এর মধ্যে জয় পেয়েছে ছয়বার এবং ফ্রান্স দুইবার ও তিনটি খেলা ড্র হয়েছে। শনিবারের খেলাটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকতে পারে। তবে জয়ের জন্য আর্জেন্টিনা বেশি চেষ্টা করবে; কিন্তু টাইব্রেকারে ফ্রান্সের জয়েরই সম্ভাবনা বেশি এমনটিই মনে করেন ফুটবল পণ্ডিতেরা; কিন্তু আসল ফলাফলের জন্য আমাদের শনিবারের ম্যাচটি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


আরো সংবাদ