১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টাইব্রেকারও অনুশীলন করলো আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানি - সংগৃহীত

আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে নক আউটে লড়বে আর্জেন্টিনা। এই পর্বে নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্তি সময়ের খেলায় জয় পরাজয় নির্ধারিত না হলে টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয় রেফারিকে। তাই আর্জেন্টিনা দল টাইব্রেকারে গোল করা এবং গোল ঠেকোনের অনুশীলন করেছে। নির্ধারিত অনুশীলন শেষে কোচ জর্জ সাম্পাওলি ফুটবলারদের নির্দেশ দেন টাইব্রেকারের প্র্যাকটিস করতে।

আজ একাদশে থাকবেন গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানি। টাইব্রেকার অনুশীলনের সময় ছিলেন তিনি। তার সাথে ছিলেন ক্যাভালেরো এবং নিউয়েল গুজম্যানও।

উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনার টাইব্রেকার ভাগ্য বেশ ভালো। পাঁচবারের চারটিতেই টাইব্রেকারে জয় তাদের। ২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে এই স্পট কিকে হার ছাড়া বাকি সময়ে বিশ্বকাপে জিতেছে তারা। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তারা টাইব্রেকার হারিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডসেকে। ১৯৯০ সালে তাদের এই উপায়ে জয় কোয়ার্টার ফাইনালে যুগোশ্লাভিয়া এবং সেমিতে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে। দুই ম্যাচেই নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক সার্জিও গইকোচিয়া। ১৯৯৮ সালে কার্লোস রোয়ার কৃতিত্বে ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় রাউন্ডে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪তে তাদের জয় গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর প্রতিরোধে।

 

আরো পড়ুন : সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা একটি স্পন্দনের নাম। যা শিহরিত হয় স্বপ্নের মাঝেও। এই দুই দল একদিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে সেই স্বপ্ন অনেক দিনের। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু পরেও অনেকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনালের সম্ভাবনার কথা বলে ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে দ্বিতীয় রাউন্ড  ও কোয়ার্টার  অতিক্রম করতে পারলে সেমিফাইনালে প্রিয় দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকছে, সাথে ফুটবলপ্রেমীদেরও সুযোগ রয়েছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ‘গ্রেটেস্ট’ অংশটুকু দেখবার।

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকেই এবার রহস্যময়তা দেখা। শেষ ষোলো নির্ধারণ হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার রাতেই। দুর্ভাগ্যবশত গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বাদ দিয়েই নির্ধারণ যায় রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা ষোলোটি দল। সেরা ষোলোটি দলে অনেক নাটকীয়তার পরও জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, নেইমার জুনিয়রের ব্রাজিল। পাশাপাশি আছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

বর্তমান বিশ্বের সেরা তিনজন ফুটবলার যদি চান, তাহলে তারা তাদের দল নিয়ে মুখোমুখি হতে পারেন নিজেদের। এর জন্য রয়েছে কিছু অপ্রিয় সমীকরণ। শনিবার রাত ৮টায় আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্সের এবং রাত ১২টায় উরুগুয়ে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগালের। রাত ৮টার ম্যাচে আর্জেন্টিনা অথবা ফ্রান্সকে বিদায় নিতে হবে শেষ ষোলো থেকেই। রাত ১২টার ম্যাচেও তাই, রোনালদোর পর্তুগাল অথবা দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, যেকোনো এক দলকে বিদায় দেবে রাশিয়া।

এখানেই চলে আসে সমীকরণ। যদি আর্জেন্টিনা জিতে যায় ফ্রান্সের সাথে এবং পর্তুগাল জিতে যায় উরুগুয়ের সঙ্গে, তাহলে তারা মুখোমুখি হবে শেষ আটে, অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালে। বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের ক্লাসিকো ফুটবল বিশ্ব অনেকবার দেখেছে, ক্লাবের জার্সি পরে সেখানে রথের আসনে বসে ছিলেন মেসি ও রোনালদো। যদি সেটা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে হয়, তাহলে কেমন জমবে, সেটিই দেখার জন্য মুখিয়ে ফুটবল বিশ্ব। অন্যদিকে নেইমার বা ব্রাজিল দল যদি চায় তাহলে মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা অথবা পর্তুগালের সঙ্গে।

সে ক্ষেত্রে ২ জুলাই রাত ৮টার ম্যাচ জিততে হবে মেক্সিকোর সাথে। শুধু তাই নয়, সেদিন রাত ১২টায় মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম বনাম জাপান, সেই বেলজিয়াম অথবা জাপান যে কারো সাথেই কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ব্রাজিল যদি কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে, তবেই সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে আর্জেন্টিনা অথবা পর্তুগালের সঙ্গে। অর্থাৎ মেসি-নেইমার-রোনালদো তিন লিভিং অসামনেসরই সুযোগ রয়েছে নিজেদের দল নিয়ে নিজেদের মুখোমুখি হওয়ার। আর ফুটবলপ্রেমীদেরও সুযোগ রয়েছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের 'গ্রেটেস্ট' অংশটুকু দেখবার। এর জন্য সমর্থকদের করতে হবে অপেক্ষা আর খেলোয়াড়দের করতে হবে তিতিক্ষা।

 

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপেও রিয়াল-বার্সা সমতা

কাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দ্বৈরথ সবারই জানা। একে-অপরের জাত শত্রু। সাপেনেউলে সম্পর্ক। ক্রিকেটে যেমটা ভারত-পাকিস্তান মানেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কাব ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে রিয়াল-বার্সার সেই জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার মহড়া চলছে রাশিয়া বিশ্বকাপেও। গ্রুপ পর্বের সীমা পেরিয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে ১৬টি দল। তাতেও রিয়াল-বার্সার দ্বৈরথে ৯-৯ সমতা। অর্থাৎ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে রিয়াল-বার্সা, দুই দলেরই খেলোয়াড়েরা সমান ৯টি করে গোল করেছেন।

বিশ্বের কাবগুলোর মাঝে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় খেলছে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে। ইংলিশ কাবটির সর্বোচ্চ ১৬ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলছে। প্রতিনিধিত্বের সংখ্যার ভিত্তিতে ম্যানসিটির পরেই আছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। রিয়ালের ১৫ জন এবং বার্সেলোনার ১৪ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশের হয়ে চলতি বিশ্বকাপে খেলেছে।

এ ক্ষেত্রে অবশ্য রিয়াল একটু ওপরে। সংখ্যায় ম্যানচেস্টার সিটি সবার ওপরে থাকলেও গোল করার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সেই ৯ নম্বরে। ম্যানসিটির খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে গোল করেছে মাত্র ৩টি। তাদের তুলনায় টটেনহামের খেলোয়াড়েরা অনেক এগিয়ে। এই ইংলিশ কাবটির খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে গোল করেছে তৃতীয় সর্বোচ্চ আটটি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরা করেছেন ৬ গোল। তারকাখচিত পিএসজির খেলোয়াড়েরা করেছেন মাত্র ৪ গোল। গোল করার ক্ষেত্রে শীর্ষ দশে নেই বায়ার্ন মিউনিখ, জুভেন্টাসের মতো কাবগুলো। ২১তম বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ৪৮ ম্যাচে গোল হয়েছে মোট ১২২টি। আর কাবভিত্তিক খেলোয়াড় হিসেবে গোল করায় স্পেনের দুই জায়ান্ট রিয়াল-বার্সার ফুটবলাররাই এগিয়ে। রিয়ালের খেলোয়াড়দের ৯ গোলের মধ্যে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো একাই করেছেন ৪ গোল। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে লুকা মড্রিচ করেছেন ২ গোল। এ ছাড়া জার্মানির টনি ক্রুস এবং স্পেনের হয়ে নাচো ফার্নান্দো ও ইসকো করেছেন ১টি করে গোল। বার্সেলোনার প্রতিনিধিদের মধ্যে গোল করায় এগিয়ে ব্রাজিলের ফিলিপ কুতিনহো, উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ ও কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইয়ারি মিনা। তিনজনেই দুইটি করে গোল করেছেন। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার মেসি, ক্রোয়েশিয়ার ইভান রাকিতিচ ও ব্রাজিলের পাউলিনহো ১টি করে গোল করেছেন।

লিগভিত্তিক প্রতিনিধির বিচারে সবার উপরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে গণ্য করা হয়। ইংলিশ লিগের ১০৬ জন ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলছেন বিভিন্ন দেশের হয়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৮ জন ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলছেন স্প্যানিশ লা লিগা থেকে। তবে খেলোয়াড় সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও মোট ৩১টি গোল করে লা লিগার খেলোয়াড়েরাই এগিয়ে। বিপরীতে ইংলিশ লিগের খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন ৩০টি। আজ থেকে শুরু নকআউট পর্ব। ঘটতে পারে আরো অনেক কিছু।


আরো সংবাদ