১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'মেসি আর্জেন্টিনাকে শতভাগ দেন না, এটা সত্য না'

মেসি, বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনা
জয়সূচক গোলের পর মার্কোস রোহোর কাঁধে চড়ে মেসির উদযাপন - সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের পর লিওনেল মেসি বলেছেন, "এর আগে কখনো তিনি এতটা ভোগেননি।"

বিশ্বকাপ থেকে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়েই যাচ্ছিল। শেষমুহূর্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার মার্কোস রোহো আর্জেন্টাইনদের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন।

টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো হয়নি আর্জেন্টিনার। নিজেদের দুর্বলতা দূর করে টুর্নামেন্টের পরবর্তী অংশে কি শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরে আসতে পারবে তারা? সেটা সময়ই বলে দিবে।

তবে আর্জেন্টিনার পুরো দলকেই এবার নানা ধরণের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারার পর এই দলকে আর্জেন্টিনার "ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে" দলও বলা হয়েছে।

কোচ সাম্পাওলি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এমন গুজবও উঠেছে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে টানেলে মেসিকে দেখা যায় দলের খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিতে। মেসি বলেন, "খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম আমরা।"

"আমাদের জন্য এটি বড় ধরণের একটি পরিত্রাণ ছিল বলা যায়। শেষ ম্যাচে হারের পর এই জয় দলের সবার জন্যই দারুণ স্বস্তি এনে দিয়েছে। সৌভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।"

ম্যাচ শেষে কোচ সাম্পাওলি ও প্রশংসা করেন।

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের বিরতিতে সতীর্থদের সাথে মিটিংয়ে মেসি

 

মেসি তার জাতীয় দলের হয়ে শতভাগ খেলেন না, এমন গুজব সত্য নয় বলে মন্তব্য করেন সাম্পাওলি।

সাম্পাওলি বলেন, "মেসি প্রত্যেক ম্যাচেই প্রমাণ করেন যে, তিনি অন্য সবার চেয়ে উঁচুমাপের খেলোয়াড়। কিন্তু তারও দলের সদস্যদের কাছ থেকে সমর্থন প্রয়োজন।"

"মেসির মানবিক দিকগুলো অসাধারণ। দলের খারাপ সময়ে তিনিও কষ্ট পান, অনেক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে বলেন, তিনি আর্জেন্টিনার জন্য খেলা উপভোগ করেন না, কিন্তু আমি এই ধারণার সাথে একমত পোষণ করি না।"

সাম্পাওলি বলেন, "আমার দলের খেলোয়াড়রা প্রত্যেকে হৃদয় দিয়ে খেলে, তারা প্রত্যেকে সত্যিকারের যোদ্ধা।"

প্রতি দশকে গোল - মেসির পরিসংখ্যান

- কৈশোরে অর্থাৎ টিনএজে, বিশের কোঠায় ও ত্রিশের কোঠায় বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় মেসি।

- নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোলটি ছিল মেসি'র ষষ্ঠ বিশ্বকাপ গোল। বিশ্বকাপে করা মেসি'র ৬টি গোলের তিনটিই নাইজেরিয়ার বিপক্ষে (২০১৪'তে দু'টি আর এই বিশ্বকাপে একটি)

- গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (১৯৯৪,১৯৯৮ ও ২০০২) আর ডিয়েগো ম্যারাডোনার (১৯৮২,১৯৮৬ ও ১৯৯৪) পর তৃতীয় আর্জেন্টাইন হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপে গোল করলেন মেসি (২০০৬,২০১৪ ও ২০১৮)

- নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি'র গোলটি ছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের ১০০তম গোল।

- ম্যাচে ৭টি ড্রিবল পূর্ণ করেন মেসি, যার ফলে বিশ্বকাপে মোট ১০৭টি ড্রিবল পূর্ণ করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার ড্রিবল পূর্ণ করার রেকর্ড করলেন তিনি। ১০৫টি পূর্ণ ড্রিবল নিয়ে এর আগের রেকর্ডটি ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার।

 

আরো পড়ুন : বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তকে বিশ্বকাপজয়ের আনন্দে ভাসাতে চাই : মেসি

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড এখনও নিশ্চিত হয়নি আর্জেন্টিনার। প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সাথে ড্র আর দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর সমালোচনার ঝড় বইছে। গত আসরের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর অঝোর ধারায় কাঁদা মেসি অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। এবার দুই ম্যাচের এই ফলাফলের পর হতাশায় ডুবে গেছে আর্জেন্টাইনরা। কোচ সাম্পাওলির সাথে কেউ কেউ তো মেসিকে অবসরও নিতে বলছেন। তবে মেসি বলছেন অন্য কথা। বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নিবেন না তিনি। কারণ তার স্বপ্ন যে, দুই হাতে বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরা।

এই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আর্জেন্টিনাকে শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জিততেই হবে। পাশাপাশি নজর রাখতে হবে আইসল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের দিকে। আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতে তাহলে পরের রাউন্ডে যেতে পারবে না আর্জেন্টিনা। এই দুঃস্বপ্ন নিয়ে এখনই ভাবতে চান না মেসি। শুধু ভক্তদের আশ্বস্ত করেত চান, বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নিবেন না তিনি। 

ফুটবলের এই জাদুকর বলেন, 'আমি সব সময় বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে রাখার স্বপ্ন দেখেছি। এরপর আনন্দে ভেসে যাওয়ার স্বপ্নও দেখেছি। এ মুহূর্তটি মনে হলে আমার মাথার চুল পর্যন্ত দাড়িয়ে যায়। আমি বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তকে এই আনন্দে ভাসাতে চাই। এই স্বপ্ন কিছুতেই বিসর্জন দিতে পারব না।'

মেসি আরো বলেন, 'আমি গুরুত্বপূর্ণ সব কয়টি টুর্নামেন্ট জিতেছি। দিন শেষে আমি কিন্তু উচ্চবিলাসীই। আমি আমার দেশের জন্য বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নিবো না।'


আরো সংবাদ