১৭ অক্টোবর ২০১৯

আফ্রিকান হুঙ্কার দিচ্ছে সেনেগাল!

আফ্রিকান হুঙ্কার দিচ্ছে সেনেগাল! - ছবি : সংগৃহীত

ঝড়ের ইঙ্গিত কি মিলতে শুরু করল? ফিরে আসছে সেই ২০০২ সালের বিশ্বকাপে আফ্রিকান সিংহের হুঙ্কার ? পোলান্ডকে দুমড়ে দেয়ার পরই ফের সেনেগালকে ঘিরে এমনই প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করেছে৷ ১৬ বছরের পর ফের শিরোনামে সেনেগাল৷ প্রথম শুরুতেই জয়৷ যেমনটা হয়েছিল জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের আসরে৷ ফরাসিদের ঝকমকে ফুটবলের গতি রুদ্ধ করে দিয়ে বড়সড় অঘটন ঘটায় সেনেগালিরা৷

২০০২ সালটি সেনেগালের ক্রীড়া ইতিহাসে সর্বাধিক সোনালি বছর হিসেবেই বিবেচ্য হয়ে আসছে৷ সেই বছরেই আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে রানার্স হয় দেশটি৷ তারপরেই বিশ্বকাপের আসরে আচমকা সেনেগালের দুরন্ত গতির ঝলক৷ সেই ধাক্কায় ১-০ গোলে হেরেছিল ফ্রান্স৷

সেই শুরু, গ্রুপ পর্বের পরপর খেলায় গোলের বদলা গোল করেই প্রতিপক্ষকে জবাব দিয়েছিল সেনেগাল৷ ডেনমার্কের সঙ্গে ১-১ এবং উরুগুয়ের মতো দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে ৩-৩ গোলে সমতা বজায় রেখেই বারবার শিরোনামে এসেছিল দেশটি৷ দ্বিতীয় পর্বেও সেই আফ্রিকান সিংহের হুঙ্কার ছিল মাঠময়৷ সুইডেনকে ২-১ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের রাস্তা পরিষ্কার করে নেয় সেনেগাল৷ সেই মুহূর্তে আফ্রিকার রঙে রঙিন বিশ্বকাপের আসর৷
কিন্তু ঝড়কেও একসময় গতি হারিয়ে মিলিয়ে যেতে হয়৷ সেই ধারা বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালেই তুরস্কের কাছে পরাজিত হয় আফ্রিকার দেশটি৷

ততদিনে বিশ্বজুড়ে সেনেগালের মারাত্মক উপস্থিতি ঘিরে চমক লেগেছে৷ দেশে ফিরে বিপুল সংবর্ধনায় আপ্যায়িত করা হয় ফুটবলারদের৷ বিশাল সেই সাফল্য পরবর্তী সময়ে কর্পূরের মতোই উবে গিয়েছিল৷ এক দশকের বেশি সময় পার করে আবারও বিশ্ব ফুটবলের আসরে এসেছে দেশটি৷ আর শুরুতেই সেই পুরনো চমক৷

আরো পড়ুন :
পোল্যান্ডকে হারিয়ে চমক সেনেগালের

বিশ্বকাপে ফেরা দুই দলের লড়াইয়ে জিতেছে সেনেগাল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে থাকা পোল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।মস্কোয় ‘এইচ’ গ্রুপের খেলায় ২-১ গোলে জিতেছে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা সেনেগাল। এবারের আসরে এটাই আফ্রিকার কোনো দলের প্রথম জয়।

২০০২ আসরে শিরোপাধারী ফ্রান্সকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরে দলটি খেলেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এবারের আসর শুরু করল র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বর দলকে হারিয়ে।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দল হিসেবে জয় পেলো সেনেগালিজরা। এর চলতি বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে মিশরকে হারিয়েছে উরুগুয়ে। পরের ম্যাচে ইরানের কাছে হেরেছে মরক্কো। নাইজেরিয়া হেরেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে। তিউনিসিয়া হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। শেষ প্রতিনিধি হিসেবে সেনেগালের কাছেই ছিল আফ্রিকান পতাকা। পোল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারিয়ে আফ্রিকার সম্মানটা ধরে রাখতে পারলো তারা।

৩৭ মিনিটেই গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন ইদ্রিসা গুইয়ে। যদিও গোলটিকে আত্মঘাতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। কারণ, ইদ্রিসা গুইয়ের দুর্দান্ত শটটির গতিপথ আটকে দিয়েছিলেন থিয়াগো সিওনেক। তার পায়ের সঙ্গে লেগেই মূলতঃ বল চলে যায় পোল্যান্ডের জালে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৮ মিনিট আগে গোল হজম করে বসে পোলিশরা। তার আগে সাদিও মানে এবং এমবায়ে নিয়াংয়ের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়েছিলেন ইদ্রিসা।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় সেনেগাল। এই গোলটায় অবশ্য পোল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কারণ, তাদের অমার্জনীয় ভুলেই এমবায়ে নিয়াং গোলটি পেয়ে যান। সেনেগালের রক্ষণ থেকে বলটা চলে আসে মিডফিল্ডে। ক্রিচোইয়াক ব্যাক পাস দিয়েছিলেন উঁচু করে। পরিবর্তিত খেলোয়াড় বেডনারেক পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলেন। বল বাঁচাতে অনেকখানি এগিয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক এসচিজনিও। কিন্তু তিনিও ক্লিয়ার করতে পারলেন না। বল ফাঁকি দিয়ে চলে যায় পোল্যান্ডের ডি বক্সে। সেখানে সামনে কেউ নেই। ফাঁকা পোস্ট। দৌড়ে বলে পেছন পেছন এলেন নিয়াং। আলতো শটে জড়িয়ে দিলেন পোল্যান্ডের জালে। সেনেগাল ২ : ০ পোল্যান্ড।

খেলার ৮৬ মিনিটে একটি গোল শোধ করে দেয় পোল্যান্ড। কামিল গ্রোসিকির ফ্রি কিক থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেড করেন গ্রেগোরিজ ক্রিচোইয়াক। সেই হেডটিই জড়িয়ে যায় সেনেগালের জালে। এরপর খেলার বাকি অংশে সমতায় ফেরার জন্য চেষ্টা করেও পারলো না আর পোল্যান্ড। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাই জয়ের আনন্দে নেচে ওঠে সেনেগাল।

ম্যাচের শুরু থেকে অবশ্য সেনেগালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে খেলার চেষ্টা করছিল পোল্যান্ড। কিন্তু ১৮ মিনিটেই গোলর দারুণ সুযোগ তৈরি করে নেয় সেনেগাল। জিয়েলিনস্কির একটি দুর্বল পাস থেকে বলের নিয়ন্ত্রন নেয় সেনেগালের সাবালি। বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে এমবায়ে নিয়াংকে বল ঠেলে দেন সাবালি। অসাধারণ পাস। কিন্তু বলটিকে শটে পোস্টের ওপর দিয়ে পার করে দেন তিনি বাইরে। দারুণ আক্রমণের একটি বাজে ফিনিশিং ছিল ওটা।

৩০ মিনিটে লেওয়ানডস্কি একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন গোল করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হলেন। একটি লং পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সেনেগাল গোলরক্ষক খাদিম এনদিয়াই তাকে ব্যর্থ করে দেন।


আরো সংবাদ

ট্রাম্পের 'অতুলনীয় জ্ঞানের' সিদ্ধান্তে বদলে গেল সিরিয়া যুদ্ধের চিত্র (৩২১৮৮)ভারতের সাথে তোষামোদির সম্পর্ক চাচ্ছে না বিএনপি (১৮৪৫৫)মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা (১৪৯৪৬)তুরস্ককে নিজ ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করতে দিন : ট্রাম্প (১৪৭০৩)আবরারকে টর্চার সেলে ডেকে নিয়েছিল নাজমুস সাদাত : নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা (১৩৮১৫)পাকিস্তানকে পানি দেব না : মোদি (১১২৭৪)১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ : ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত (৮৯৭০)তুহিনকে বাবার কোলে পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে : পুলিশ (৮৮৮৫)বাঁচার লড়াই করছে ভারতে জীবন্ত কবর দেয়া মেয়ে শিশুটি (৮৬৮৭)এক ভাই মেডিকেলে আরেক ভাই ঢাবিতে (৮৫২৩)



astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa