২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টুকিটাকি

-

কাজানে শামিল-কামিলের জার্সি গায়ে ঘুরে বেড়ায় ছেলে বুড়োরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

ফুটবল ব্যাপক জনপ্রিয় রাশিয়ার তাতারস্তানের রাজধানী কাজানে। মুসলিম এই অঞ্চলের দল রুবিন কাজান রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ফুটবলে নাম করা ক্লাব।

কাজানে দেখা গেছে, রুবিন কাজানের ফুটবলার শামিল এবং কামিলের জার্সি গায়ে ছেলে বুড়োদের ঘুরে বেড়াতে।

কিন্তু এই কাজানের মাঠ অপয়া হিসেবে থাকলো তিন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য।

এই মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে গ্রুপের শেষ ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা এই মাঠে হারে ফ্রান্সের কাছে। আর সর্বশেষ গত পরশু এই মাঠে ব্রাজিল সমর্থকদের কান্নার সাগরে ভাসায় বেলজিয়াম।

অবশ্য এই তিন দলের জন্য মাঠটি কুফা হলেও আর্শীবাদ জয়ী তিন দলের জন্য।

 

নেইমারকে নিয়ে টু শব্দও করলেন না ওচোয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

এক নেইমারের কাছেই হেরে গেল মেক্সিকো। স্বপ্ন পূরণ হলো না তাদের শেষ আটে যাওয়ার। ব্রাজিল বিশ্বকাপে এই নেইমারের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে মেক্সিকোকে এক পয়েন্টে এনে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক গুইলেরমো ওচোয়া। সেবার লড়াইটা হয়েছিল মূলত নেইমার এবং ওচোয়ার মধ্যে। গতকাল সামারায়ও প্রথমার্থে ব্রাজিলের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান এই কিপার। কিন্তু বিরতির পর ডিফেন্ডারদের ভুলে দুটি গোল হজম এবং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় দুইবারের বিশ্বকাপের আয়োজকদের। দুটি গোলেই অবদান নেইমারের। এই ব্রাজিলিযান সুপারস্টার নিজে করেছেন এক গোল। এরপর অপর গোলে তার অবদান। সাথে মাঠে নেইমারের অভিনয়ও ছিল ফাউলের ক্ষেত্রে। তাই ম্যাচ পরবর্তী মিক্সড জোনে মেক্সিকান কিপারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল নেইমার প্রসঙ্গে। কিন্তু এই বিষয়ে কোনো কথাই বললেন না বেলজিয়াম লিগে খেলা ওচোয়া।

নেইমারকে নিয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকার করলেন স্ট্রাইকার জাভিয়ের হার্নানদেজও। নেইমারের অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার জবাব, ‘এ জন্য তো রেফারি ছিলেন। রেফারি তার কাজ করেছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে নিয়ে কথা বললেও মিক্সড জোনে কোনো কথা বলেননি। হাসি মুখে আর সতীর্থদের সাথে দুষ্টামি করতে করতে পার হন মিক্সড জোন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকেরা কোচ তার বিরুদ্ধে অভিনয়ের যে অভিযোগ করেছিলেন তার জবাবে নেইমার বলেন, ‘মাঠে আমি কোনো অভিনয় করি না। যা সত্য তাই করি।’

মেক্সিকোর কোচ হুয়ান কার্লোস ওসারিও অভিযোগের সুর, মাঠে নেইমার যে অভিনয় করেন তা থেকে নতুন প্রজন্ম ভালো কিছু শিখবে না।

নেইমার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেও ওচোয়া সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে। তার বক্তব্য, আমি আমার পারফরম্যান্সে খুশি। কিন্তু দলতো জিততে পারেনি। এই হারকে আমি বলবো দুঃখজনক। এরপর যোগ করেন, আমি ভালো খেললেও তো তা পরাজয় ঠেকোনো জন্য যথেষ্ট ছিল না।

মিডফিল্ডার গুয়ারদাদোর মতে, আমরা প্রথম পর্বে জার্মানিকে হারিয়েছি। এই নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলে চলবে না। নতুন ফুটবলার তৈরিতে হাত দিতে হবে দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে।

 

সাম্প্রতিক রেকর্ড মেক্সিকোর পক্ষে

ব্রাজিল মেক্সিকোর ৪০ ম্যচে ল্যাতিন দেশটি ২৩ ম্যাচে জিতলেও সাম্প্রতিক রেকর্ড মেক্সিকোর পক্ষে। মধ্য আমেরিকান দেশটি গত ১৫ খেলার ৭টিতেই জয় পেয়েছে। হেরেছে পাঁচটিতে। ড্র বাকী তিনটি।

মেক্সিকানরা ১৯৯৯ সালের ফিফা কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। কনকাকাফ গোল্ড কাপে দুই বারেই জয় মেক্সিকোর। কোপা আমেরিকা ও কনফেডারেশন কাপে তাদের বিপক্ষে দুইবার করে জয় মেক্সিকোর। হেরেছে একবার করে। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র খেলা ২০১৪ সালে গোলশূন্যতে ড্র হয়েছিল। ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিযা থেকে

আর্জেন্টিনার ম্যাচের পর দুই সাংবাদিকের মারামারি 
আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে মারামারি করেন দুই সাংবাদিক। ফ্রান্সের টিভি সাংবাদিক আবেল ক্রিস্টোফারকে ঘুষি মেরে ফেলে দেন রাশিয়ার সাংবাদিক ঈসা আলী। পরে অন্যদের হস্তক্ষেপে থামানো হয় তাদের।

নিরাপত্তাকর্মীরা পরে রুশ মিডিয়া কর্মীকে তার অ্যাক্রিডিটেশন কেড়ে নিয়ে মিক্সড জোন থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনা নিয়ে আলীর বক্তব্য, ওই সাংবাদিকই আমাকে প্রথমে ধাক্কা দেয়। পরে আমি তাকে ঘুষি মারি। আমি দর্শকদের জন্য ফুটবলারদের অটোগ্রাফ নিচ্ছিলাম। এতেই ওর আপত্তি ছিল। ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

মহিলা সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরলেন মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

আগের দুই দিন মিক্সড জোনে দেখা যায়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাওডিও তাপিয়াকে। নাইজেরিয়ার সাথে জয়ের পর পুরো দলের আগে থেকে মিক্সড জোন পার হলেন তিনি। আর সবার পরে কোচ জর্জ সাম্পওলি। এদের মাঝে ছিলেন অধিনায়ক লাওনেল মেসি

ফুটবলের এই রাজপুত্র বেশ হাসি খুশি ছিলেন। চোখ মেরে ভাব বিনিময় করলেন কয়েকজনের সাথে। মিক্সড জোনে কোনো প্রিন্ট মিডিয়াকে সময় দিলেন না মেসি। অল্প কিছু সময় ব্যয় করলেন টিভি মিডিয়ার জন্য। তবে পত্রিকা এবং অনলাইনের মিডিয়া কর্মীদের অতিক্রম করার সময় মেসি জড়িয়ে ধরলেন আর্জেন্টিনার এক মহিলা সাংবাদিককে।

ওই মহিলাই আগে দুই হাত বাড়িয়ে দেন। কোমর সমান থাকা ব্যারিকেডের এপাড় ওপাড় থেকে দু'জনের কোলাকুলি করতে কোনো সমস্যাই হয়নি। যা উপভোগ করেছেন উপস্থিত সকলে।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময়ও মেসি সবাইকে এড়িয়ে গেলেও কলম্বিয়ার মহিলা সাংবাদিককে আর হতাশ করেননি। তাকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন।

 

মেসিদের জয়ের পর কেন এমন কাণ্ড করলেন ম্যারাডোনা?

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারানোর পর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে দুই হাতের দুই মধ্যাঙ্গুলি কেন দেখালেন কিংবদন্তির ফুটবলার দিয়োগো ম্যারাডোনা, তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিশ্বকাপে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ বিজয়, মেসির গোল - এসব কিছু ছাপিয়ে গেছে ম্যারাডোনার মধ্যাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং ম্যাচের পরপরই তার হাসপাতালে ভর্তি।

ম্যাচ চলার সময় কিছুক্ষণ পরপরই ক্যামেরা চলে যাচ্ছিল ম্যারাডোনার ওপর। কারণ পুরো ম্যাচজুড়েরই সরব ছিলেন তিনি।

দুটো গোলের সময় তার উচ্ছ্বাস, শট মিস হলে তার আক্ষেপ এবং ক্রোধের ভঙ্গিমা এবং একটা সময় তার চোখ বুঁজে থাকা - খেলার সাথে সাথে বিশ্বের কোটি কোটি টিভিতে দর্শক তা দেখেছেন।

সাধারণত কাউকে অপমান করতে বা বিরক্তি প্রকাশ করতে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়। এটাকে খুবই অশিষ্ট অঙ্গভঙ্গী বলে গণ্য করা হয়।

সে কারণে ম্যাচের পরপরই পত্র-পত্রিকায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষজন বিস্ময় এবং একইসাথে বিরক্তি প্রকাশ করছেন, কেন তার দেশে জেতার পরও, ম্যারাডোনা এই কাণ্ড করলেন?

তার মধ্যাঙ্গুলির লক্ষ্যই বা কে ছিল বা কারা?

'নিজেকে নিয়েই মশকরা করতে মজা পান তিনি'

কেন ম্যারাডোনা প্রায়ই অদ্ভুত আচরণ করেন - তা নিয়ে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তার সাবেক এজেন্ট জন স্মিথ।

"১৯৮০ এবং ৯০-এর দশকে আমি যখন তার সাথে ছিলাম, তখন তার খ্যাতি যেমন ছিল, তেমনি ছিলেন প্রাণোচ্ছল।"

"কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে তার ঘুম হয় না, ফলে তিনি প্রচুর ঘুমের বড়ি খান। তারপর যদি সেইসাথে পেটে মদ বা অন্য কিছু (নেশার) দ্রব্য পেটে পড়ে, তখন প্রতিক্রিয়া হয়।"

"তিনি মাঝেমধ্যে নিজেকে নিয়ে মশকরা করতে উপভোগ করেন।"

"আমি বুঝতে পারি কেন মানুষ তার সমালোচনা করে, কিন্তু খুবই উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ তিনি। অন্যকে যথেষ্ট সম্মান করেন।"

শিরোনামে বার বার

শুধু মঙ্গলবারের ম্যাচ নয়, এই বিশ্বকাপে এর আগেই অন্তত দুইবার বিতর্কিত আচরণের জন্য খবরের শিরোনাম হয়েছেন ম্যারাডোনা।

১৬ জুন আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে চুরুট টেনেছেন।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার একজন ফ্যান তার নাম ধরে চিৎকার করে হাত নাড়লে, জবাবে ম্যারাডোনা আঙ্গুল দিয়ে নিজের চোখে টেনে ধরে সরু করে ফেলেন। এই আচরণকে অনেকেই তখন বর্ণবাদী বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

মঙ্গলবার তার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনকেও টুইটারে অনেকেই বর্ণবাদী বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের বক্তব্য, তার উদ্দেশ্য ছিল নাইজেরিয়ার সমর্থকরা - যারা কৃষ্ণবর্ণের।

তবে তার মতো একজন খ্যাতনামা ফুটবল ব্যক্তিত্ব কীভাবে এমন "অনাকাঙ্ক্ষিত" "কুৎসিত" ভঙ্গি করতে পারেন- বহু মানুষই তা নিয়ে বিস্ময় এবং নিন্দা প্রকাশ করেছে।

ল্যাটিন আমেরিকার একটি পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে, "ঈশ্বরের হাত থেকে লজ্জার আঙ্গুল।"

প্রোলাকটানিকা নামে একজন টুইট করেছেন, "এই লোকটিকে স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা উচিৎ, আর্জেন্টিনার জন্য তিনি একটি লজ্জা।"

সাবেক ইংলিশ ফুটবলার এবং বিবিসির ফুটবল ভাষ্যকার গ্যারি লিনেকার বলেছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন ম্যারাডোনা।

"তিনি নিজেই নিজেকে ছোটো করেছেন। সবাই জানে তিনি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন, কিন্তু তাই বলে এতটা?...এমন করলে হাসির পাত্র হয়ে উঠবেন তিনি।"

আর্জেন্টিনা দল কী বলছে ম্যারাডোনার এই কাণ্ড নিয়ে? তা এখনো শোনা যায়নি।

তবে ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছিলেন, ২০১০ সাল থেকে তার সাথে ম্যারাডোনার কোনো কথা হয়নি।

"তার যেমন নিজস্ব জীবন রয়েছে, আমারও তেমন রয়েছে। যেহেতু আমরা দু'জন দু'জনের সাথে কথা বলি না, সুতরাং আমাদের সম্পর্ক ভালো।"

আর্জেন্টিনা দল এবং ফ্যানরা আশা করছে ফ্রান্সের সাথে নক আউট ম্যাচের দিন ম্যারাডোনা যেন আবার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর মত আচরণ না করেন।

 

মেসির গোল চান নাইজেরিয়ানরাও

মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গগামী কোনো এডিশনাল ট্রেন খালী নেই। একদিন আগ থেকেই আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ দেখতে মস্কোসহ অন্য শহর থেকে সেন্ট পিটার্সবাগ আসা শুরু ফুটবলপ্রেমীদের। সোমবার সকালেও দলে দলে সমর্থকরা নেমেছে ট্রেন থেকে। সেন্ট পিটার্সবাগে তারা মঙ্গলবার উপভোগ করবে ডি’ গ্রুপের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই দর্শকদের সিংহভাগই আর্জেন্টিনার। নাইজেরিয়ান হাতে গোনা কিছু। আজ এই দুই দলেরই বাঁচা-মরার লড়াই। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে আর্জেন্টিনাকে জিততেই হবে। নাইজেরিয়ার ড্রও পর্যাপ্ত হতে পারে। যদি ক্রোয়েশিয়ার সাথে ড্র করে বা হেরে যায় আইসল্যান্ড। এদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নাইজেরিয়ান সমর্থকদের মধ্যে পাওয়া গেল প্রবল মেসিভক্ত তিন জনকে। এরা চান নাইজেরিয়ার জয়। তবে মেসি গোল পায় এটা তাদের কামনা। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গ রেল স্টেশনে এমন মেসির অন্ধভক্তদের পাওয়া গেল।

নাইজেরিয়া থেকে এসেছেন মোবারক। তার খুব প্রিয় খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে মেসি এখনও গোল পাননি এটা তাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। তাছাড়া এই ফুটবল তারকার চলমান বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সে ব্যাথিত তিনি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মেসি। প্রিয় তারকা এমন খারাপ সময় পার করবেন- আরো অনেকের মতো এটা মানতে পারছেন না মোবারক। তাই তার প্রত্যাশা আজ নাইজেরিয়া যেন ২-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আর আর্জেন্টিনার সেই গোল যেন আসে মেসির পা থেকে। তার মতে, মেসি বিশ্বে সেরা ফুটবলার। পাঁচবার ব্যালন ডি অর জিতেছে। সে কেন গোল পাবে না? কেন বাজে খেলবে? ‘তাই আমি চাই মেসি গোল করুক। তবে জয় যেন আসে নাইজেরিয়ার পক্ষে।’ একই সূরে কথা বললেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা নাইজেরিয়ার নাগরিক ইবে।

আরেক নাইজেরিয়ান লিও মারে । তিনিও এসেছেন নাইজেরিয়া থেকে নিজ দেশের খেলা দেখতে। নিজের লিও নামকে লিওনেল মেসির ‘লিওনেলের’ সাথে তুলনা করে বলেন, মেসিকে আমি খুব পছন্দ করি। আমরা তো আজ নাইজেরিয়ার জয়ই চাইবো। তবে মেসি একটি গোল করুক এটা প্রত্যাশা।

অবশ্য আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার আহমেদ মুসা বা অন্য কারো ব্যাপারে কোনো আবেগ দেখা যায়নি। বরং তাদের চিন্তায় কিভাবে দল নাইজেরিয়া বাধা ডিঙ্গাবে সেটাই। ফ্রঙ্কো ও আরিয়েল এর মতে, আজ আর্জেন্টিনা ২/৩ গোলে জিতবে। অবশ্য হোসে এ জন্য মেসির ভালো পারফরম্যান্স আশা করেছেন। ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

‘এমন গোল হতেই পারে ’
এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তিউনিসিয়ার। তবে বেলজিয়ামের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে দলটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের সক্ষমতা ও গোররক্ষক কোরতোয়াকে। অবশ্য দল ৫-২ গোলে জেতায় এই গোল জয় পরাজয় নির্ধারণে কোন প্রভাব ফেলেনি। তবে ইংল্যান্ডের সাথে শেষ ম্যাচ ড্র হলে গ্রুপ সেরা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই দুই গোল নেতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে। অবশ্য দুই গোল হজম নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন দেখা গেল না গোররক্ষক কোরতোয়াকে। বরং তার মতে, এমন গোল হতেই পারে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তিনি আরো বলেন, আমরা আক্রমণে যাওয়ার পর তিউনিসিয়াও আক্রমণে এসেছে। ফলে গোল পেয়েছে তারা।
কোরতোয়া বলেন, আসলে আমাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ছিল জয়ের ব্যাপারে। তা আমরা বেশ ভালো ভাবেই পেয়েছি। আমরা দুই ম্যাচে জয় পেয়েছি এখন আমাদের ধাপে ধাপে আগানোর পালা। আমাদের সাথে দারুণ লড়াই হবে ইংল্যান্ডের। ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ সার্বিয়ার
সুইজারল্যান্ডের কাছে হার সার্বিয়ার। যা তাদেরকে বেশ বিপদে ফেলে দিয়েছে। নক আউটে যেতে তাদের জিততে হবে পরের ম্যাচে। এদিকে সুইসদের কাছে হারের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপিত স্লাভিসা কোকেজা। তার মতে, ম্যাচে জার্মান রেফারির পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়েছে সার্বিয়া। ‘আমরা নিষ্ঠুর ডাকাতির শিকার হয়েছি রেফারি কর্তৃক। তারা আমাদের ন্যায্য পেনাল্টি দেয়নি।’ তিনি তথ্য দেন- আসলে সুইজারল্যান্ডের অর্ধেক জনগোষ্ঠিই জার্মান। তাই ম্যাচের জার্মান রেফারি সুইজারল্যান্ডকে সমর্থন করেছে। আমরা এই বিষযে ফিফায় অভিযোগ করেছি।
একই সাথে তিনি দুই সুইস গোলদাতার গোল উৎসবের সমালোচনা করেন। এই দুই জনই আলবেনয়িান বংশদ্ভুত সুইস নাগরিক। আর আলবেনিয়ার সাথে পুরনো দ্বন্ধ সার্বিয়ার। কসভোকে কেন্দ্র করে সার্বিয়ার সাথে যুদ্ধ হয়েছিল আলবেনিয়ানদের। ক্রীড়া প্রতিবেদক, রাশিয়া থেকে

 

মা নাকি বাবা’র দলের সাপোর্ট করবে, বুঝতে পারল না ছেলেটি
রাশিয়া বিশ্বকাপের ১৮তম ম্যাচে গতকাল মুখোমুখি হয়েছিলো পর্তুগাল ও মরক্কো। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচ ছিলো সেটি। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচে পর্তুগাল ১-০ গোলে হারায় মরক্কোকে।

স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল পরিপূর্ণ। প্রায় ৭৮ হাজার দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে উপভোগ করেছে পর্তুগাল-মরক্কো ম্যাচটি। প্রায় সকলের হাতেই ব্যানার-ফেস্টুন-পতাকা-খাবার-জার্সি ছিল। নিজ নিজ দলকে সমর্থন যুগিয়েছেন ফুটবলপ্রেমিরা।

তবে এরমধ্যে এক তরুণ ছিল ব্যতিক্রম। ওই তরুণ খেলা দেখতে এসে সমস্যায় পড়ে যান। কী সমস্যা সেটি ব্যানারে তুলেও ধরেন ওই তরুণ।
ব্যানারে সেই তরুণ নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘মা মরক্কান, বাবা পর্তুগিজ। মা ও বাবার মধ্য থেকে আমি কাউকে বেছে নিতে পারছি না।’

১০০ ডলারের টিকেট ৫০০ ডলার, তবুও...

রফিকুল হায়দার ফরহাদ, রাশিয়া থেকে

দফায় দফায় টিকিট বিক্রি করেছে বিশ্বফুটবলের পরিচালনা সংস্থা ফিফা। এরপরও সবার কপালে জোটেনি রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট। তাই তারা স্টেডিয়ামে খেলার সময় খুঁজছে টিকিট। গত কয়েক দিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে মস্কোর লুজনিয়াকি স্টেডিয়াম ও স্পাটার্ক স্টেডিয়ামে। এই টিকেট পেতে টাকা দিতে কার্পণ্য করছে না তারা। টিকিটের জন্য কাগজে লিখে বলছে, আমার টিকিট দরকার। সাথে মুখেও বলছে, কারো কাছে কী টিকিট আছে। আমি ১০০ ডলারের টিকিট প্রয়োজনে ৫০০ ডলার দিয়ে কিনব। আর্জেন্টিনা- আইসল্যান্ড ম্যাচে এই টিকিটের জন্য হয়ে ঘুরতে দেখা গেছে কয়েক আর্জেন্টাইনকে। জার্মানির কয়েকজনকে দেখা গেল হাতেম কাগেজর লেখা প্লাকার্ড।‘' আমার টিকিট লাগবে।’

যাদের কাছে বেশি টিকিট আছে তারা এগিয়ে আসছে বিক্রির জন্য। দামে বনিবনা হলেই হচ্ছে লেনদেন। তবে সবার ভাগ্যে জোটে না এই মহামূল্যবান বিশ্বকাপের টিকিট। এক জার্মানকে মেক্সিকো ও জার্মানির ম্যাচের টিকিটের জন্য ৫০০ ডলার পর্যন্ত দিতে রাজি হতে দেখা গেল। কিন্তু মিলল না। আরেক জার্মান কাস্তার কাছে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট আছে। সে ওই টিকিটের বিনিময়ে জার্মানির প্রথম ম্যাচের টিকিট বিনিময় করতে চাইল। হলো না। এক মেক্সিকানের কাছে হসপিটালিটি বক্সের টিকিট আছে। তিনি আবার খুঁজছেন ক্রেতা। ২ হাজার ডলার হলে বিক্রি করবেন। এক ক্রেতা তা ১৮০ ডলার প্রস্তাব করায় বেচারা মনক্ষুন্ন হয়ে অন্য ক্রেতার দিকে চলে গেলেন।

তবে ভালো কাস্টমার পাওয়া গেলে চড়া দামে বিক্রি করা যায় এই টিকেট। আর্জেন্টিনা- আইসল্যান্ড ম্যাচে এরকম এক টিকিট বিক্রি করে বেশ খুশি দেখা গেল তাকে। তবে বলতে চাইলেন না কম লাভ হলো তার।

এই সব প্রথম রাউন্ডের টিকিট মূল্য সর্বনিম্ন ১৩০ ডলার পর্যন্ত ছিল। কালোবাজারিতে তাতে কত লাভ। কমপক্ষে ২০০ ডলার। তবে৫০০ ডলার পর্যন্তও বিক্রি হচ্ছে তা। আগামী ম্যাচগুলোতে তা আরো বেশি দামে বিক্রি হবে। অবশ্য তা ম্যাচ বুঝে।

 

ফুটবলারদের আজব বাতিক, বিবিসি

ফুটবলারের অনেক রকম সংস্কার থাকে যা তারা প্রতি খেলার সময়ই পালন করে থাকেন। কোনো কোন ফুটবলার এটা স্বীকার করেন, তবে অনেকেই এ নিয়ে পালন করেন নীরবতা। তবে এটা এখন অনেকেই জেনে গেছেন যে বহু পেশাদার ফুটবলারেরই আছে বিচিত্র সব বাতিক ও কুসংস্কার, যা তারা নিষ্ঠার সাথে প্রতিটি ম্যাচেই পালন করে থাকেন।

এসব সংস্কারে আসলেই কোনো কাজ কাজ হয় কিনা - তা বলা নিশ্চয়ই খুবই মুশকিল। তবে ফুটবলাররা নিশ্চিত যে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, এতে কাজ দেয়।

খেলায় সৌভাগ্য এনে দেবে - এই আশায় পৃথিবীর সেরা ফুটবলাররা কী ধরণের বিচিত্র সব কাজ করেন - তা কিছু দেখে নিন এখানে।

খেলার আগে যা করবেন : একটি রুশ 'ক্লাসিক'
গেন্নারো গাত্তুসো ছিলেন ইতালি আর এসি মিলানের দুর্দান্ত মিডফিল্ডার। জার্মানিতে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে তার খেলা ইতালির শিরোপা জয়ের পেছনে বড় ভুমিকা রেখেছিল।

খেলার আগে গাত্তুসো করতেন এক বিচিত্র কাজ। তিনি ম্যাচ শুরু হবার আগে রুশ লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির বই পড়তেন। দস্তয়েভস্কির 'ক্রাইম এ্যান্ড পানিশমেন্ট', 'দি ব্রাদার্স কারামাজভ' ও 'দি ইডিয়ট।' তিনি কেন এটা করতেন তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু এটা তার জন্য নিয়ম হয়ে গিয়েছিল।

তিনি ফিফাকে বলেছেন, তিনি নিজে খেলার সময় যে সব সংস্কার মেনে চলতেন - বিশ্বকাপে সেগুলো করা কঠিন।

"প্রতিদিন আমি সেই একই সোয়েটার পরে থাকতাম - যা আমি প্রথম দিন পরেছিলাম। আমি দরদর করে ঘামতাম, কিন্তু ওটা আমি গা থেকে খুলতেও পারতাম না। তাই আমার মেজাজ সব সময় খিঁচড়ে থাকত।"

"আমার মনে ছিল কুসংস্কারের বাসা। যেমন, চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে খেলার আগে আমি দেশে ফিরে যাবার জন্য ব্যাগ গুছিয়েছিলাম। আর এর পর থেকে প্রতিটি খেলার আগেই আমি এ কাজ করতে শুরু করলাম। কিছুতেই নিজেকে থামাতে পারছিলাম না। এটা চলেছিল টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত।

সব সময় ডান পা
ব্রাজিলের উজ্জ্বলতম ফুটবল তারকাদের একজন রোনালদো। তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন, গোল্ডেন বল আর বর্ষসেরা খেলোয়াড়সহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন।
তার সংস্কার ছিল: মাঠে ঢোকার সময় প্রথম ডান পা ফেলা।

অন্য আরো কিছু ফুটবলার এটা মেনে চলেন। তাদের একজন ব্রাজিলিয়ান আরেক তারকা রবার্টো কার্লোস।

এমনকি আরেক রোনালদো - পর্তুগাল ও রেয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো - তিনিও এক সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন যে তিনিও এটা মেনে চলেন।

"অন্য অনেক খেলোয়াড়ের মতো আমারও কিছু কুসংস্কার আছে" - ২০১৬ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এর একটা হলো প্রথম ডান পা ফেলে মাঠে ঢোকা।"

"আমি আরো কিছু রুটিন অনুসরণ করি। বিশেষ করে আগের ম্যাচে যেসব মানায় ভালো ফল হয়েছে - সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করি।"

জাদুর ব্যান্ডেজ
চিলির ফুটবলার হুয়ান কার্লোস পেরাল্টা বলেছিলেন, তার সংস্কার হচ্ছে ডান পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখা। এটা এই জন্য নয় যে আমি আহত হয়েছি। কিন্তু প্রথম যেদিন আমি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে নেমেছিলাম - সেদিন জিতেছিলাম। তার পর থেকে আমি এটা করে আসছি।

তার দল কোলো কোলো-র আরেক খেলোয়াড় ইভান জামোরানোও ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে নামতেন - তবে পায়ে নয়, ডান হাতে কব্জিতে।

জামোরানো হাতে চোট পাবার কারণে একদিন ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন, এবং সেদিন তিনি তিনটি গোল করেছিলেন। তার পর থেকেই এটা তার স্থায়ী বাতিকে পরিণত হয়।

মাঠে চিহ্ন দিয়ে রাখা
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জেতা স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদের গোলকিপার ইকার কাসিয়াসও নানা রকমের কুসংস্কার মেনে চলেন।

তার নানা রকমের বাতিক এতই বেশি যে মারকা নামে একটি স্প্যানিশ ওয়েবসাইট একবার মন্তব্য করে, কাসিয়াস হচ্ছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কুসংস্কারাচ্ছন্ন খেলোয়াড়দের অন্যতম।

"তিনি তার জার্সির হাত কেটে বাদ দেন, মোজা উল্টা করে পরেন, আর প্রতি খেলার আগে তিনি গোল লাইন পর্যন্ত তার এলাকায় বাঁ পা দিয়ে দাগ টেনে চিহ্নিত করে রাখেন।"

"তা ছাড়া তার দল যখনই গোল করে, তখন তিনি গোল মুখে ফিরে এসে ছোট একটা লাফ দেন এবং বাঁ হাত দিয়ে গোল পোস্ট স্পর্শ করেন।

'মুড আনার জন্য' প্রতিবার একই গান শোনা
নিজের মাঠে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছিল ১৯৯৮ সালে। ওই দলে ছিলেন লরাঁ ব্লাঁ, জিনেদিন জিদান, ফ্যাবিয়ান বার্থেজ-এর মতো তারকারা।

এই দলেরও সৌভাগ্যের পেছনে কিছু সংস্কারের ভুমিকা ছিল, এমনই মনে করতেন তাদের অনেকে।

তার একটা হলো - চেঞ্জিং রুমে এই দলের খেলোয়াড়রা একটি মাত্র গান বাজাতেন। সেটা হলো গ্লোরিয়া গেনরের 'আই উইল সারভাইভ'।

পরেই গানটি বিশ্বকাপজয়ী ফেঞ্চ দলের প্রতীকী গানে পরিণত হয়।

শুধু ফরাসি ড্রেসিংরুমে নয়, টিম বাসে এবং ট্রেনিংএর সময়ও এটা বাজানো হতো।

নীল অন্তর্বাস
এটা একটা খুবই সাধারণ সংস্কার। কলম্বিয়ার গোলকিপার ছিলেন রেনে হিগুইতা। তিনি প্রত্যেক খেলায় পরতেন নীল আন্ডারওয়্যার।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি ফিফার ওয়েবসাইটে একবার বলেছিলেন, ১৯৮০র দশকের শেষ দিকে তাদের দল এটলেটিকো নাসিওনাল যাতে মিলোনারিওসের বিরুদ্ধে জিততে পারে - সে জন্য আমরা এক মহিলা গণকের কাছে গিয়েছিলাম - যিনি ভাগ্যে কি আছে বলতে পারেন।

তিনি বললেন, "আমাদের ওপর অভিশাপ লেগেছে। তিনি একটি বেল্ট এবং সব খেলোয়াড়ের পরার জন্য নীল আন্ডারওয়্যার পাঠালেন।"

"এর পরই সব ঠিক হয়ে গেল । আমরা কাপও জিতেছিলাম ।"

মারিও গোমেজ ছিলেন দারুণ গোলস্কোরার। তিনি স্টুটগার্ট, বায়ার্ন মিউনিখ, ফিওরেন্টিনা, আর বেসিকটাসের হয়ে খেলেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিতেছেন।

তাকে বলা হয় জার্মান ফুটবলের 'সুপার মারিও'।

তবে তার অভ্যাস যে শুধু গোল করার ক্ষেত্রেই তা নয়। ফিফার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের চেঞ্জিং রুমে তিনি সবসময়ই প্রস্রাব করার জন্য বাঁ দিকের একেবারে শেষ ইউরিনালটি ব্যবহার করেন।

সাবেক আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সেরজিও গয়কোচিয়া হলেন আরেক ফুটবল তারকা - যার টয়লেট 'বাতিক' রয়েছে।

ইতালিতে ১৯৯০ বিশ্বকাপে যুগোশ্লাভিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে পেনাল্টির আগে তার বাথরুমে যাবার দরকার হয়েছিল, কারণ তিনি প্রচুর পানীয় খেয়েছিলেন। গয়কোচিয়া বলছিলেন, কিন্তু তার টয়লেটে যাবার সময় সময় ছিল না। তাই তিনি মাঠের মধ্যেই প্রস্রাব করেছিলেন।

এর পর আর্জেন্টিনা পেনাল্টিতে ম্যাচটি জিতে গেল। এর পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলা ছিল ইতালির বিরুদ্ধে, এবং সে খেলাও পেনাণ্টিতে চলে গেল। তখন গয়কোচিয়া করলেন ঠিক সেটাই - যা তিনি আগের ম্যাচে করেছিলেন।

তিনি আবার মাঠের মধ্যে প্রস্রাব করলেন।

পেনাল্টিতে আবার আর্জেন্টিনাই জিতেছিল। গয়কোচিয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি এমনভাবে কাজটা করতেন যে কেউ তা বুঝতে পারতো না।

টেপ প্যাঁচানো মোজা পরেন টেরি
ইংলিশ ডিফেন্ডার জন টেরি ইংল্যান্ডের হয়ে কোন ট্রফি জেতেন নি। তবে তার ক্লাব চেলসির হয়ে তিনি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ - সবই জিতেছেন।

"আমি সব সময়ই টিম বাসে নির্দিষ্ট একটি সিটে বসি। আমার প্রতিটি মোজার চারদিকে তিনটি পাক দিয়ে টেপ লাগাই। আমি স্টেডিয়ামে যাবার পথে একটি নির্দিষ্ট সিডিই বাজিয়ে গান শোনেন। খেলার আগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এসে একই জায়গায় তার গাড়ি পার্ক করেন।

এর পর আরো আছে।

টেরিও খেলার দিন চেলসির চেঞ্জিং রুমে একই ইউরিনাল ব্যবহার করতেন। তবে সেটা মারিও গোমেজের মতো বাঁ দিকেরটা নয়, ডান দিকে একেবার শেষ মাথার ইউরিনাল।

সবার শেষে বেরুতেন ববি মুর
ইংলিশ ফুটবল কিংবদন্তী ববি মুর চাইতেন সবার শেষে চেঞ্জিং রুম থেকে বের হতে।

কারণ তিনি তার শর্টস পরতেন সবার শেষে - যাতে ভাঁজ পড়ে না যায়।

আরেক ইংলিশ খেলোয়াড় পল ইন্স-ও ড্রেসিংরুম থেকে বেরুতেন সবার শেষে। তিনি বেরিয়েই মাঠের দিকে দৌড় দিতেন এবং তার মধ্যেই তিনি গায়ে জার্সিটি পরতেন। একবার ২০০৯ সালে আর্সেনালের হয়ে লিগে খেলার সময় তাকে উইলিয়াম গালাসের বদলি হিসেবে নামানো হয়েছিল।

কিন্তু তিনি মাঠে ঢোকেন দু'মিনিট পর। তার ফলে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দুই মিনিট আর্সেনালকে ৯ জন নিয়ে খেলতে হয়েছিল।

শটের 'অপচয়' করতেন না লিনেকার
ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার। তিনি ওয়ার্ম-আপের সময় গোলে শট নিতেন না। কারণ তার ধারণা ছিল, এতে আসল খেলার সময় তার গোল করার সম্ভাবনা কমে যাবে।

একই বাতিক ছিল মেক্সিকো আর রেয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তী হুগো সানচেজের। তিনিও ওয়ার্ম-আপে গোলে শট নিতে চাইতেন না। কারণ তিনি মনে করতেন, এতে শটের 'অপচয়' হবে।

মুরগি নিষিদ্ধ! বিপাকে নাইজেরিয়া

খেলা কি কেবল মাঠে হয়? খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভক্তদের হৃদয় মোচড়ানো আবেগ ও পাগলামি ছাড়া কিছুতেই সম্পূর্ণ হতে পারে না কোনো খেলার ইতিবৃত্ত। সারা বিশ্বেই এ ধরনের কুসংস্কার দেখা যায়। এবারের বিশ্বকাপে নাইজিরিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর ঠিক আগে সামনে এলো তেমনই এক বিচিত্র পাগলামির খবর।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, শনিবার গ্রুপ ডি-তে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ম্যাচের আগে মনমেজাজ ভালো নেই নাইজিরিয়ার সমর্থকদের। কেননা, তারা যে মাঠে নিয়ে যেতে পারবে না তাদের ‘লাকি চার্ম’। কী সেটা? সেটা হলো জ্যান্ত মুরগি। মুরগি সঙ্গে করে নিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ ‘মুরগি’ হবে, সেই কারণেই এমন চিন্তার জন্ম কি না, তা জানা নেই। মোদ্দা কথা হলো এমনই তাদের কুসংস্কার।

নাইজিরিয়ার এটা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর আগেও মুরগি নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে তাদের সমর্থকরা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গের এলিস পার্কে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচের আগে নাইজিরিয়ার রঙে রাঙানো মুরগি নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়া হয়নি তাদের। এবারও তাদের ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আন্দ্রেই এরমার্ক।

এখন দেখার, ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে বেগ দিতে পারলে নাইজিরিয়ার ভক্তদের মন ভালো হয় কি না।

দলের খেলোয়াড়কে চেরশেভের স্যালুট
ফুটবল বিশ্বকাপের ২১তম আসরের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে স্বাগতিক রাশিয়া। দলের পক্ষে ডেনিস চেরিশেভ ২টি, ইউরি গাজিন্সকাই-আরটেম দিজিউবা ও আলেক্সান্ডার গোলেভিন ১টি করে গোল করেন।
ম্যাচের ৭১ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন দিজিউবা। গোল করেই রাশিয়ার ডাগ-আউটের দিকে ছুটে যান দিজিউবা। রাশিয়ার কোচ স্তানিস্লাভ চেরশেভের সামনে পড়তেই চমকে উঠনে দিজিউবা। গোলের জন্য তাকে স্যালুট দেন চেরেশভ। এই ছবিটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এমন দৃশ্য নজর কেড়েছে ফুটবল প্রেমিদের।
আগামী ১৯ জুন ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে রাশিয়া।

 

প্রথম ম্যাচ : রাশিয়া-সৌদি আরব

প্রথম ম্যাচের ফলাফল : রাশিয়া ৫-সৌদি আরব ০

প্রথম ম্যাচের রেফারি : নেস্টর পিটানা (আর্জেন্টিনা)

প্রথম গোল : ইউরি গাজিন্সকাই (রাশিয়া)


আরো সংবাদ

দেশে প্রতি ১০ মিনিটে একজন করে যক্ষ্মা রোগী মারা যায় মঞ্চে ড. কামাল-মির্জা ফখরুলসহ সিনিয়র রাজনীতিবিদরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে গাজীপুরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ ক্যান্সার চিকিৎসায় কত লাগে? ‘নৌকা মার্কা চান ভালো কথা, হুমকি ধামকি বন্ধ করেন’ রাফায়েল বিমান নিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে মোদি সরকার! সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় যুবলীগ সভাপতি আটক ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে পার্থক্য গড়েছে যে বিষয়গুলো সমালোচকদের জন্য মিসর উন্মুক্ত কারাগার সাদ্দামের পরিণতি ভোগ করতে হবে ট্রাম্পকে: রুহানি

সকল