১৬ আগস্ট ২০১৮

বিচিত্র ফ্যাশনে ফুটবল সমর্থকরা

বিচিত্র ফ্যাশনে ফুটবল সমর্থকরা - নয়া দিগন্ত

মানুষে গিজগিজ করছে লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে চত্তর। এরা সবাই ফুটবল পাগল। তবে সবাই টিকিটধারী নয়। কেই এসেছেনে ঘুরতে। এরা ছবি তুলছেন অন্য দেশের সমর্থকদের সাথে । আনন্দ ভাগাভাগি করে টিকিট না পাওয়ার কস্ট লাঘবের চেষ্টা করছেন আর বাকীরা। তারা ভাবছেন নিজেদের পরম ভাগ্যবান। তাদের কাছে টিকিট আছে উদ্বোধনী ম্যাচের। একটি ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে থাকছেন তারা। সাথে উপভোগ করবেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই উদ্বোধনী খেলা স্বাগতিক রাশিয়া এবং এশিয়ার দেশ সৌদি আরবের মধ্যে। তবে শুধু যে এই দুই দেশের দর্শকরাই ভীড় করেছেন তা নয়। মনে হল বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যে দেশের নাগরিক পাওয়া যাবে না এই স্টেডিয়াম এলাকায়।

 

যারা এসেছেন সবার মধ্যেই ফ্যাশনের ছড়াছড়ি। সবাই তাদের পোশাকের মাধ্যমে নিজ দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। হোম টিমের খেলা। রাশিয়ানদেরই ভীড় বেশী। তবে আনন্দ উদযাপনে এগিয়ে ছিলেন মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ার সমর্থকরাই। তাদের চিৎকার চেঁচামেচির কাছে হার মানতে হয়েছে ম্যাচের দুই প্রতিদ্বন্ধী দেশের সমর্থকদের। সৌদিরা তাদের নিজ ভাষায় আল্লাহর নাম দলকে উৎসাহ ব্যাঞ্জক গান গাইতে থাকেন। তবে মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ানদের মুখে সেই চিরাচরিত স্প্যানিশ ভাষার গান। সাথে না নাচলে তাদের চলে না। মেক্সিকানদের মাথায় ঐতিহ্যগত বিশাল হ্যাট। সাথে চকচকে রঙের পোশাক। যা অনেকটা চাদরের মতো। এক রাশিয়ান মহিলা নানা পাথর বসানো মুকুট পরে চলে এলেন। কলম্বিয়ান মহিলার মাথায় রেড ইন্ডিয়ানদের ব্যবহার করা পাখির পালকের মুকুট। ভিয়েতনামীর এসছেন তাদের পাতাকার রঙের গেঞ্জী পরে।

আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের খেলা যথাক্রমে আগামী কাল এবং পরশু দিন। কিন্তু তাদের সমর্থকরাও এসেছেন এই আসরের পর্দা উঠানো ম্যাচ দেখতে। এই ম্যাচ দেখে ব্রাজিলিয়ানরা চলে যাবেন রোস্তভ অন ডনে। যেখানে তাদের দেশের খেলা সুইজারল্যান্ডের সাথে। আর্জেন্টাইনরা থেকে যাবেন মস্কোতেই। শুক্রবার আইসল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম খেলা মস্কোরই অপর স্টেডিয়াম স্পার্টাক মস্কোতে। তবে স্পেন ,ইরান, মরক্কো, পতর্’গাল ,মিসর এবং উরুগুয়ের কাউকে দেখা যায়নি জন কোলাহলে। বৃহস্পতিবার তাদের খেলা অন্যত্র।তাই তাদের গন্তব্য সেখানেই।

এই আগত দর্শকদের নিয়ে ব্যবসায় শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানী। কোকাকোলা তাদের পানীয় বিক্রি করছে। দুই শত রুবলে এক বোতল পানি, কোমল পানীয় । সাথে বিশ্বকাপের লোগো লাগানো গ্লাস। স্যুভেনীর শপে চড়া দামে, বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন পন্য। দলগুলোর মাফলার বা র্স্কাফ, ক্যাপ, জার্সী, মাস্ক, বিশ্বকাপের রেপলিকা ফুটবল ইত্যাদি। এর কোনোটা ছোট। কোনোটা আর্ন্তজাতিক মানের। তবে বাংলাদেশী টাকায় কোনো পণ্যেরই দাম ২ হাজারের নীচে নয়।

এই দর্শকদের আনন্দ দেয়ার পাশাপাশি ধান্ধাও করছেন সঙ্গীত শিল্পীরা। তাদের সামনে কাগজ বা প্লাসটিকের প্যাকেট। এটা রাখা হয়েছে টাকা পয়সা দেয়ার জন্য। কেই তাদের গান শুনে বা না শুনেই কেউ ধাতব মুদ্রা বা কাগুজে নোট দিচ্ছেন। কে কত দিচ্ছেন তা আবার আড়চোখে দেখছেন গায়করা। এটা আধুনিক ভিক্ষাবৃত্তি আর কি।

 


আরো সংবাদ