মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

বলে কী রে পেরুভিয়ানরা?

বলে কী রে পেরুভিয়ানরা? - সংগৃহীত

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে এল পেরু। এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা এই ল্যাতিন দেশটির। যাদের এই আসরে সর্বোচ্চ দৌড় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত। তাও ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। অবশ্য আঞ্চলিক আসর কোপা আমেরিকাতে দুই বারের চ্যাম্পিয়ান তারা। তাও এর সর্বশেষটা ৪৩ বছর আগে। সেই পেরুই কিনা এবার হতে চায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

এমনই উচ্চাকাংখা মস্কোতে আসা পেরুর সমর্থকদের। যারা পেরুভিয়ান নামে পরিচিত। এই বক্ত্যবের পক্ষে যুক্তিও দেখালেন তারা। ‘কেন আমরা শিরোপার স্বপ্ন দেখবো না। সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় আমরা ব্রাজিলকে ১-০তে হারিয়েছি। ‘বি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছি। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনার সাথে দুই দফা ড্র করেছি। যদি আমরা এই দুই সাবেক বিশ্বকাপ জয়ীদের নাস্তানাবুদ করতে পারি তাহলে কেন এবার বিশ্ব সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখবো না।’ জানান যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী পেরুর সমর্থক দানিয়েল। তার সাথে সুর মেলালেন অন্যরা।

তিন যুগ পর দল খেলছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে। তাই প্রিয় দেশের খেলা দেখতে পেরুর রাজধানী লিমা থেকে ২৪ ঘন্টার ভ্রমন শেষে মস্কোতে এসেছেন ব্রায়ান এবং আকেনেবো। সাথে তার আরো দুই বন্ধু। সবার হাতে দেশের পতাকা। মাথায় পতাকার রঙের টুপি। পেরু কি আসলেই পারবে বিশ্বকাপে অন্তত এক দুই ম্যাচ জিততে? এই প্রশ্ন করতেই মনক্ষন্নু হলেন ৫৫/৬০ বছর বয়সী রিকার্ডো। ‘অবশ্যই আমরা জিতবো। জেতার জন্যই এসেছি। আমাদের ফুটবল এখন বেশ ভালো অবস্থানে।’ এই বলেই অন্যদের সাথে নিয়ে পেরুকে নিয়ে গান গাইতে শুরু করলেন তিনি। গান শেষে জানালেন আমরা এখন মস্কো থেকে সারানস্ক যাবো। সেখানে ১৬ জুন ডেনমার্কের সাথে আমাদের প্রথম ম্যাচ।অন্য দুই দল হলো ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়া।

পেরুর এই পাগলা সমর্থকদের মতোই কথা বললেন দেশটির কারিতাস পত্রিকার সাংবাদিক রাফায়েল ক্রিসেসতোমে। তার মতে,‘ দেখুন পেরুর কোনো চাপ নেই। এই চাপ আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ও জার্মানদের। কেউ আমাদের হিসেবেও ধরে না। এটাই আমাদের বাড়তি সুবিধা। সবাই আমাদের দুর্বল ভাববে। আর এই সুযোগে তাদের ফাটিয়ে দেবো।’ আরো জানান, ব্রাজিল বিশ্বকাপে আমরা মাত্র এক গোলে পিছিয়ে থেকে কোয়ালিফাই করতে পারিনি। আমাদের টপকে চলে যায় চিলি। তিনি তথ্য দেন, অনেকদিন পর পেরু বিশ্বকাপে। তাই দেশের খেলা দেখতে প্রায় ৬০ হাজার পেরুভিয়ান আসছে রাশিয়ায়। ৪০ হাজার টিকেটতো পেরুতেই বিক্রি হয়েছে। বাকীরা যুক্তরাস্ট্র, এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসবে।

পেরু এবারের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিউজিল্যান্ডের সাথে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের প্লে-অফ জিতে রাশিয়া আসা নিশ্চিত করে। হোমে ২-০তে জিতে অ্যাওয়েতে গোলশূন্য করে তবেই আসা। মূল বাছাই পর্বে তারা ১৮ ম্যাচের ৭টিতে জিতেছে। ড্র পাঁচ খেলায়। তাদের জয় ছিল দুই দফা ইকুয়েডর এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। একবার করে জয় উরুগুয়ে, ভেনিজুয়েলা এবং বলিভিয়ার বিপক্ষে। আর্জেন্টিনার সাথে ২-২ এবং গোলশূন্য ড্র। গত দুই কোপা আমেরকিায় তাদের বিদায় হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৩৯ এবং ১৯৭৫ সালের কোপা আমেরিকা জয়ী পেরু এর আগে ১৯৩০, ১৯৭০, ১৯৭৮ এবং ১৯৮২ এর বিশ্বকাপে খেলেছিল। ৭৮ এ আর্জেন্টিনার কাছে ৬-০তে হার আজো সন্দেহের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। যে ম্যাচে আর্জেন্টাইনদের পরের রাউন্ডে যেতে দরকার ছিল ৪-০তে জয়। রাফায়েলও নিশ্চিত করলেন, সে খেলা ছিল পাতানো।

 


আরো সংবাদ