মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

সালাহর অবস্থা এখন কেমন?

সালাহ
মোহাম্মদ সালাহ - সংগৃহীত

১৯৯০ সালের পরে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মিসর। আগামীকাল গ্রুপ-এ’র লড়াইয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দেশটি। এই ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মেদ সালাহ খেলবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত করেনি আফ্রিকান দেশটি। তার অবস্থা দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে বলা হচ্ছে, সালাহ আগের চেয়ে ভালো আছেন। গতকাল দলের হয়ে প্রথমবারের মতো অনুশীলনও করেছেন তিনি।

গত মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের হয়ে খেলতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক সার্জিও রামোসের বাজে ট্যাকেলে কাঁধে আঘাত পান সালাহ। তখন থেকেই বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এনফিল্ডে প্রথম মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সালাহ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৪৪ গোল করে প্রিমিয়ার লীগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছে। শুক্রবার একাতেরিনবার্গের ম্যাচের আগে নিজের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। দলের প্রধান কোচ হেক্টর কুপারও সালাহকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন। এই প্রথমবার বিশ্বকাপের কোন দলে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন কুপার।

দলের মূল ভরসা সালাহকে নিয়ে কুপার বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় দলটি শুধুমাত্র সালাহকে নিয়ে গঠিত নয়। সম্ভাব্য সেরা ফলাফল পাওয়ার জন্য এখানে সব খেলোয়াড়ই একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকে। এই প্রজন্মের একজন সেরা খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে মিসর সত্যিকার অর্থেই অনেক সৌভাগ্যবান। কিন্তু আমাদের কৌশল শুধুমাত্র তাকে ঘিরে নয়। কাল তার দলে থাকার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। গত কয়েকদিনের তুলনায় তার ফিটনেসের বেশ উন্নতিও হয়েছে।’

অন্যদিকে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ছিল। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে লা সেলেস্তারা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। এই নিয়ে চতুর্থবারের মত বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন অস্কার তাবারেজ। সে কারণে তাবারেজের ওপর বাড়তি একটা চাপ ও প্রত্যাশাতো রয়েছেই। গ্রুপের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে উরুগুয়ের নক আউট পর্বে যাওয়াটাও অনেকটাই নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছে সমর্থকরা। এই গ্রুপের বাকি দুটি দল হলো সৌদি আরব ও স্বাগতিক রাশিয়া।

২০১০ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছানো উরুগুয়ে চার বছর আগে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিয়ে হতাশ করেছিল। অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে থাকলেও অধিনায়ক দিয়েগো গোডিন মনে করেন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ভাল হলে পরবর্তীতে এগিয়ে যাবার আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়।

রাজধানী মন্টেভিডিও থেকে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগের আগে গোডিন বলেছেন, ‘উরুগুয়ের সবার মত আমরাও প্রথম ম্যাচে মিসরের চ্যালেঞ্জকে কাটিয়ে বিশ্বকাপে সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। এই ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবার মনে এখন এই একটি ম্যাচ নিয়েই যত চিন্তা।’

এই ম্যাচকে সামনে রেখে মিসর যেমন তাদের তারকা মোহাম্মেদ সালাহকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তেমনি উরুগুয়েও দলের এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লুকাস টোরেইরার ফর্মের দিকে তাকিয়ে আছে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারের সিরি-আ মৌসুমে সাম্পদোরিয়ার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। ইতালিয়ান লিগে চার গোল করা এই মিডফিল্ডারের দিকে তাই তাকিয়ে আছে উরুগুয়ে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আফ্রিকান কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরাজিত হয়নি উরুগুয়ে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে মিসর এখনো জয়ের দেখা পায়নি। এর আগে বিশ্বকাপে খেলা চারটি ম্যাচে দুটিতে ড্র ও দুটিতে পরাজিত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের আফ্রিকান বাছাইপর্বে সব মিলিয়ে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন সালাহ, যা একটি রেকর্ড। অন্যদিকে বিশ্বকাপে উরুগুয়ের শেষ ১৩টি গোলের সাতটিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন লুইস সুয়ারেজ। এর মধ্যে পাঁচটি গোল নিজে করেছেন, এ্যাসিস্ট করেছেন দুটিতে।

স্কোয়াড :

মিসর :
গোলরক্ষক : এসাম এল হাদারি (১), মোহামেদ এল-শেনাউই (২৩), শেরিফ একরামি (১৬)।
রক্ষণ ভাগ : আহমেদ ফাতি (৭), সাদ সামির (২০), আইমান আশরাফ (১২), আহমেদ হেজাজি (৬), আলি গাবর (২), আহমেদ এল মোহাম্মদী (৩) মোহামেদ আব্দেল- শফি (১৩), মাহমুদ হামদি (১৫)।
মধ্য মাঠ : ওমর জাবের (৪), মোহামেদ এলনেনি (১৭), ত্রেজেগুয়েট (২১) তারেক হামেদ (৮), স্যাম মোরসি (৫), আব্দুল্লাহ এল সাইদ (১৯)।
আক্রমণ ভাগ : মোহাম্মদ সালাহ (১০), মারওয়ান মোহসেন (৯) কাহরাবা (১১), রামাদান সোভি (৪), শিকাবালা(১৮) আমর ওয়ার্দা(২২) ।
কোচ: হেক্টর কুপার।

উরুগুয়ে :
গোলরক্ষক : মার্টিন কামপানা (১২), ফার্নান্দো মুসলেরা (১), মার্টিন সিলভা (২৩)।
রক্ষণ ভাগ : মার্টিন ক্যারোস (২২), সেবাস্টিন কোটস (১৯), হোসে মারিয়া গিমেনেজ (২), দিয়েগো গোডিন (৩), ম্যাক্সিমিলিয়ানো পেরেইরা (১৬), গ্যাস্টন সিলভা (১৩), গুইলারমো ভারেলা (৪)।
মধ্য মাঠ : জোনাথন উরেটাভিসকায়া (২০) গিওর্গিয়ান ডি আরাসকায়েটা (১০), রডরিগো বেনটানচার (৬), দিয়েগো লাক্সাল্ট (১৭), নাহিটান নানডেজ (৮), ক্রিস্টিয়ান রডরিগুয়েজ (৭), কার্লোস সানচেজ (৫), লুকাস টোরেইরা (১৪), মাটিয়াস ভেসিনো (১৫)।
আক্রমণ ভাগ : এডিনসন কাভানি (২১), ম্যাক্সিমিলিয়ানো গোমেজ (১৮), লুইস সুয়ারেজ (৯), ক্রিস্টিয়ান স্টুয়ানি (১১)।
কোচ: অসকার তাবারেজ।

 

আরো পড়ুন : প্রথম ম্যাচে খেলার লোভ সামলাতে পারছেন না সালাহ

এমনটা হবে তা কল্পনাও করেননি মোহাম্মদ সালাহ। রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলবেন - সেটা কল্পনাও করে ফেলেছিলেন তিনি। অথচ একটি ঘটনা সব উলট-পালট করে দিলো। এখন ইনজুরিতে ভুগছেন তিনি। তবুও দেশের হয়ে প্রথম ম্যাচে খেলতে নামার লোভ সামলাতে পারছেন না তিনি। তাই তো বল নিয়ে নেমে গেলেন মাঠে। মিসরের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দিলেন এই রাজপুত্র।

বুধবার গ্রোনজির বেস ক্যাম্পে দলের সাথে পুরোদমে অনুশীলন করেন লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ড। কাঁধের চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা সালাহ এদিন প্রথমবারের মতো ড্রিবলিং অনুশীলন করেন। বল নিয়ে অনুশীলনের আগে দীর্ঘক্ষণ শারীরিক কসরত করেন তিনি। সহ-খেলোয়াড়দের পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি হাসিঠাট্টাও করতে দেখা যায় তাকে।

রাশিয়া পৌঁছে দলের প্রথম দিনের অনুশীলন থেকে সরে দাঁড়ালেও বুধবার সালাহকে মাঠে ফিরতে দেখে মিসর সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধছেন। তবে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১৫ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলা নিয়ে সংশয় পুরোপুরি দূর হয়নি বলে জানিয়েছেন মিসরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এহাব লেহিতা। তিনি বলেন, ‘সালাহ অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। তারপরও আমি তার প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছি না। শুধু এটুকু বলতে পারি, তার প্রথম ম্যাচটি খেলার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’

লেহিতা আরো জানিয়েছেন, উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রথম একাদশ ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার। দলের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবু আল-এলাও টিমের সেরা তারকার চোট নিয়ে জানিয়েছেন, ‘সালাহর চোটের দারুণ উন্নতি হয়েছে। সেই কারণেই তিনি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। তবে এখনই বেশি চাপ দেয়া যাবে না। ওকে ধীরে ধীরে ম্যাচ কন্ডিশনে পৌঁছাতে হবে। তাই পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত সালাহকে আমরা খেলানোর ঝুঁকি নেব না।’

গত মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোসের বাজে ট্যাকেলে কাঁধে চোট পান সালাহ। ম্যাচরে প্রথমার্ধেই কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর তার বিশ্বকাপে খেলাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। তবে দ্রুত সেরে উঠছেন তিনি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর মিসরকে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে দেয়া সালাহ তার বাম পায়ের জাদুতে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্ন দেখছেন তার ভক্তরাও।


আরো সংবাদ