মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

বলে দিলো বিড়াল, কে জিতবে আজ

বিশ্বকাপ, অ্যাকিলিস
অ্যাকিলিস - সংগৃহীত

চাকরি পেয়েছে সে, রাশিয়া বিশ্বকাপে ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার। এক এক করে প্রতি ম্যাচের ফলাফল অগ্রীম বলে দিবে সে। এরপর ফাইনালের পালা। কে জিতবে শিরোপা, তা জানাবে অ্যাকিলিস। অক্টোপাস পলের উত্তরসূরি হতে যাচ্ছে এই বিড়াল। নাকি পলের চেয়েও এগিয়ে? সেটা পরে জানা যাবে। তবে আজকের উদ্বোধনী ম্যাচের ফলাফল জানিয়েছে দিয়েছে সে। হ্যাঁ, বলেছে আজ সৌদি আরবকে হারাবে রাশিয়া! কিন্তু র‌্যাঙ্কিংয়ে কিন্তু এগিয়ে সৌদি আরব। আর শেষ আট মাসে একটা ম্যাচেও জেতেনি রাশিয়া। তাহলে কেন এমন ভবিষ্যদ্বাণী? প্রথমেই কি ভুল করে বসলো অ্যাকিলিস?

কিন্তু এবারই তো প্রথমবার নয়, এর আগেও অ্যাকিলিসকে এই ভূমিকায় দেখা গেছে। গত বছর রাশিয়ায় কনফেডারেশনস কাপের সময় একটা বাদে সব ম্যাচেই তার ভবিষ্যদ্বাণী মিলেছিল। তাই বিশ্বকাপেও এই বিড়াল তপস্বীর উপর ভরসা করা হচ্ছে।

বুধবার অ্যাকিলিসের সামনে দুটি খাবারের বাটি রাখা হয়েছিল। একটা রাশিয়ার জাতীয় পতাকা-সহ, অন্যটি সৌদি আরবের। অ্যাকিলিস কিন্তু রাশিয়ার পতাকা দেয়া বাটিটাই বেছে নিয়েছে।

এই বিশ্বকাপে সব চেয়ে কম ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা দু’দেশের লড়াই হবে আজ। রাশিয়া ৭০। আর সৌদি আরব ৬৭। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের বিচারে এগিয়ে থাকার কথা সৌদিদেরই। কিন্তু জাদুঘরের ইঁদুর মারতে পোষা বিড়াল দলের সর্দার র‌্যাঙ্কিংয়ের তোয়াক্কা করছে না। তার পছন্দ রাশিয়াই।

 

আরো পড়ুন : অ্যাকিলিসের তীক্ষ্ণ নজর থাকবে বিশ্বকাপে

অক্টোপাস পলের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? ২০১০ বিশ্বকাপে যার নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী প্রশংসা কুড়িয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় কে জিতবে জার্মানিতে বসে তা বলে দিচ্ছিল পল? তার জায়গাটি চেষ্টা করেও পরে কেউ নিতে পারেনি। এবার হয়ত তার যোগ্য উত্তরসূরি পেতে চলেছে রাশিয়া। তারা বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নিয়োগ করতে চলেছে অ্যাকিলিস নামের একটি বিড়ালকে।

কানে শোনে না এই ভবিষ্যৎবক্তা। কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা নেই। আয়োজকদের দাবি, সমস্ত ম্যাচেই নাকি তার ভবিষ্যদ্বাণী এক্কেবারে সঠিক হয়। আর সেজন্যই নতুন চাকরি পেয়েছে অ্যাকিলিস। সরকারিভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে ভবিষ্যদ্বাণী করবে সে।

ধরনটাও সেই পলেরই মতো। ম্যাচের আগে দুটি আলাদা আলাদা কৌটোতে খাবার দেয়া হতো পলকে। দুটি কৌটোয় লাগানো থাকতো দুই দেশের পতাকা। অক্টোপাস পল যে কৌটো থেকে প্রথমে খাবার খেত সেই দল জিতবে বলে ধরে নেয়া হত। অ্যাকিলিসের ক্ষেত্রেও সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। তবে, কৌটোয় কোনো খাবার থাকবে না শুধু পতাকা লাগানো থাকবে। পলের মতই দুটি কৌটোর মধ্যে জয়ী দলকে বেছে নেবে অ্যাকিলিস।

আপাতত রাশিয়ার একটি বহুতলের বেসমেন্টে থাকে অ্যাকিলিস নামের বিড়ালটি। আপাতত তার কাজ অন্য বিড়ালদের সাথে মিলে ইঁদুর শিকার করা। কিন্তু খুব শিগগিরই প্রমোশন পেতে চলেছে অ্যাকিলিস। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাকে ‘ক্যাট রিপাবলিক’ নামের একটি ক্যাফেতে জায়গা করে দেয়া হবে। সেখানেই ভবিষ্যৎ বলবে বিড়ালটি। তবে, পলের মত কী নিখুঁত হবে অ্যাকিলিসের ভবিষ্যদ্বাণী?

প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে। কারণ গত বিশ্বকাপেও একই রকম ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নিয়োগ করেছিল আয়োজকরা। সুইজারল্যান্ডের গিনিপিগ মাদাম শিবা এবং ব্রাজিলের পিরানহা পেলে দু'জনই সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

 

আরো পড়ুন : আজ মাঠে আলো ছড়াবেন তারা

রাশিয়ার গোলরক্ষক ইগোর আকিনফিভ (বামে) ও সৌদি আরবের ফরোয়ার্ড ফাহাদ আল মুয়াল্লাদ (ডানে) - সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মাঠে নামবে স্বাগতিক রাশিয়া আর সৌদি আরব। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ম্যাচটি শুরু হবে। দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আলোচনায় আছে। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তারা। এরা হলেন রাশিয়ার গোলরক্ষক ইগোর আকিনফিভ। আর সৌদি আরবের ফাহাদ আল মুয়াল্লাদ।

আকিনফিভ : রাশিয়ার হয়ে এ পর্যন্ত ১০৪টি ম্যাট খেলেছেন গোলরক্ষক আকিনফিভ। দলের নেতৃত্ব দিবেন তিনি। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে রাশিয়ার একমাত্র বিশ্বমানের প্রতিভা বলে ধরা হয়। ২০০৪ সালে রাশিয়ার হয়ে অভিষেক হয় তার। এরপর একের পর এক দুর্দান্ত পারফরমেন্স দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

রাশিয়া স্কোয়াড :

গোলরক্ষক : ইগোর আকিনফিভ, ভ্লাদিমির গাবুলোভ, আন্দ্রে লুনেভ।

ডিফেন্ডার : ভ্লাদিমির গ্রানাত, ফেদোর কুদ্রাইয়াসহোভ, ইলা কুতেপোভ, আন্দ্রে সেমেনোভ, সের্গেই ইগনাশিভিচ, মারিও ফের্নান্দেস, ইগোর স্মোলনিকভ।

মিডফিল্ডার : ইউরি গাজিন্সস্কি, আলেকজান্দার গোলভিন, অ্যালান জিগোয়াভ, আলেকজান্দার রখিন, ইউরি জিরকভ, ডেলার কুজিয়াভ, রোমান জোবনিন, আনেকজান্দার সামিডোভ, আন্তন মিরানচুক, ডেনিস চেরিশিভ।

ফরোয়ার্ড : আর্টেম জুবা, আলেক্সি মিরানচুক, ফেদরে সমোলোভ।

ফাহাদ আল মুয়াল্লাদ : সৌদি আরবের মেসি বলা হয় ফাহাদ আল মুয়াল্লাদকে। দুরন্ত গতি আর দারুণ ফুটবল সামর্থ্যের কারণে এই নামে ডাকা হয় তাকে। খুব কম বয়সেই সবার নজরে পড়ে এই ফুটবল প্রতিভা। ছয় বছর বয়সে বার্সোলোনার ফুটবল অ্যাকাডেমি লা মাসিয়াতে যাওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। কিন্তু তাতে যোগ না দিয়ে নিজ দেশের ক্লাব আল ইতিহাদের যুব উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারণে সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় নাম লেখান মুয়াল্লাদ।

সৌদি আরব স্কোয়াড :

গোলরক্ষক : মোহাম্মদ আল হারাবি, ইয়াসির আল মুসাইলেম, আব্দুল্লাহ আল-মায়ুফ।

ডিফেন্ডার : মানসুর আল-হারবি, ইয়াসির আল-শাহরানি, মোহাম্মদ আল-ব্রেইক, মোতাজ হাওসায়ি, ওসামা হাওসায়ি, ওমর হাওশাসায়ি, আলি আল বুলাইহি।

মিডফিল্ডার : আব্দুল্লাহ আল খাইবারি, আব্দুল মালেক আল খাইবারি, আব্দুল্লাহ ওতায়েফ, তাইসির আল জসিম, হোসাইন আল মুগাহুই, সালমান আল ফরজ, মোহাম্মদ কানো, হাত্তান বাহেব্রি, সালেম আল দাওসারি, ইয়াহইয়া আল সেহরি।

ফরোয়ার্ড : মোহাম্মদ আল শাহলাওয়ী, মুহান্নাদ আসসিরি, ফাহাদ আল মুয়াল্লাদ।


আরো সংবাদ