মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

আজ শুরু বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ

আজ শুরু বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ - ছবি : সংগৃহীত

লুঝনিয়াকি স্টেডিয়ামে সামনে বিশাল মূর্তি ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের। ১৯৫৬ সালে তার নামেই হয় এই স্টেডিয়ামটি। পরে ১৯৯২তে নাম বদল। কিন্তু এই সাবেক কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধানের মূর্তির দিকে তেমন একটা ভ্রƒক্ষেপ নেই আগত অতিথিদের। বরং তারা ব্যস্ত অন্য কাজে। তাদের কেউ ফ্যান আইডি সেন্টারে ছুটছেন। কেউ বা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের ঝামেলা দূর করতে ব্যস্ত। এত দিন প্রায় ফাঁকা থাকা লুঝনিয়াকি স্টেডিয়াম চত্বর গত দুই দিন ধরে গমগম করছে ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে। বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকেরা এখন বিশ্বকাপে এই ভেনুতে। তাদের বেশির ভাগেরই লক্ষ্য আজকের ম্যাচ। এই লুঝনিয়াকি স্টেডিয়ামেই আজ রাশিয়া ও সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১তম আসরের। স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজবে এই খেলার। বিশ্বের শত কোটি মানুষের চার বছর বা ১৪৩২ দিনের প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে এই ম্যাচ দিয়ে। এর আগে থাকবে ৩০ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত থাকবেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার রোনালদো নাজারিও, ইংল্যান্ডের গায়ক রবি স্মিথ ও রুশ গায়িকা আইদা গারিফুলিনা। ৫০০ রুশ স্কুলের ছেলেমেয়ে পারফর্ম করবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ‘লিভ ইট আপ’ এই গান গাওয়া হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের নিয়মিত কোনো দল নয় রাশিয়া ও সৌদি আরব। ১৯৫৮ সালের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে উপস্থিতি ছিল না রুশ বা সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের। এর পরের ১৫ আসরের পাঁচটিতে অর্থাৎ ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১০-এ তারা অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তাদের বিশ্বকাপে সেরা অর্জন ১৯৬৬তে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০-এ। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে রুশদের বিদায় হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। ৩২ দলের মধ্যে তাদের স্থান হয়েছিল ২৪-এ।

বিপরীতে সৌদি আরব তো ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বাছাই পর্বেই অংশ নেয়নি। ১৯৯৪-এর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক। সেবারই তারা প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একবারই নকআউট পর্ব বা দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পেরেছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একটানা বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ এই আসরে এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধি তারা। গত দুই আসরে তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বাছাইপর্ব ডিঙ্গানো। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে দুই দুর্বল দলের মোকাবেলা হচ্ছে আজ ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংও তাদের দুর্বলতার চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। সৌদি আরবের র‌্যাঙ্কিং ৬৭। তাদেরও পেছনে রাশিয়া। তারা আছে ৭০-এ। যদি তারা এবারের স্বাগতিক হতে না পারত কে জানে হয়তো বাছাই পর্বেই ছিটকে পড়ত।
দল দু’টির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফলও হতাশাজনক। রাশিয়া গত সাত প্রস্তুতি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি। গত অক্টোবরে তাদের সর্বশেষ জয় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। আর গ্রিন ফ্যালকন খ্যাত সৌদি আরব টানা তিন প্রস্তুতি ম্যাচেই হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। অবশ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ইতালি ও পেরুর বিপক্ষে তাদের জয়ের কথাও নয়। ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকে এই আসরে আর জয়ের সাক্ষাৎ পায়নি রাশিয়া। অন্য দিকে সৌদি আরবের জয় সেই ১৯৯৪ সালে।

সেই হিসেবে আজ এই দুই দুর্বল দলের লড়াইটা জমজমাট হবে এমনটা আশা করাই যায়। রাশিয়া অবশ্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রস্তুতি ম্যাচে বাজে রেজাল্টের কারণে। তাই আজ তাদের পাল্টা জবাব দেয়ার পালা নিন্দুকদের। বিশ্বকাপের রেকর্ড অবশ্য এগিয়ে রাখছে এবারের আয়োজকদের। উদ্বোধনী ম্যাচে কখনই হারেনি স্বাগতিকেরা। ছয়টি জয় এবং তিনটি ড্র করেছে বিভিন্ন সময়ের হোস্টরা। রাশিয়ার জন্য অবশ্য এটাই প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচ নয়। ১৯৭০ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন উদ্বোধনী খেলায় গোলশূন্য ড্র করেছিল মেক্সিকোর সাথে। রাশিয়া তাদের ফুটবলের সোনালি সময় পার করেছে সোভিয়েত আমলে। ১৯৬০-এর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন তারা। দুই বারের রানার্সআপ ১৯৬৪ ও ১৯৭২ সালে। দুইবারের অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণজয়ী ১৯৫৬, ১৯৮৮ তে। চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এবং ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা এই লুঝনিয়াকি স্টেডিয়াম। এতে আজ রুশদের জয়ই ফুটবলে আরো আগ্রহী করতে পারে স্থানীয়দের।
আজকের উদ্বোধনী ম্যাচ সৌদি আরবের জন্যও একটা রেকর্ড। প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। তাদেরও সুযোগ এই ম্যাচ এবং বিশ্বকাপে ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখা।

১৯ জুন রাশিয়ার পরবর্তী ম্যাচ মিসরের সাথে। পরের দিন সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে।


আরো সংবাদ