১৬ আগস্ট ২০১৮

২০২৬ বিশ্বকাপ হবে কোথায়?

-

রাশিয়ার পর পরবর্তী বিশ্বকাপ কাতারে ২০২২ সালে। এরপর নিয়ম অনুসারে বিশ্বকাপ হবে ২০২৬ সালে। সে বারই ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের জন্য ৩২টি দেশের বদলে ৪৮টি দেশ খেলবে। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ কোথায় হবে?

ফিফা আগামী ১৩ জুন রাশিয়ায় জেনারেল বডির সভায় এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সংগঠনের জন্য উত্তর আমেরিকার দুটি দেশ আমেরিকা, কানাডা আর মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো একত্রিতভাবে বিড করেছে। এই তিনটি দেশের সম্মিলিত বিডের পাশে আফ্রিকান দেশ হিসাবে মরক্কোও দাবিপত্র পেশ করেছিল। ফিফার প্রতিনিধি দল আমেরিকা,কানাডা এবং মেক্সিকো ঘুরে দেখে এসেছে। ওই প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট অনুসারে দশে আট পেয়েছে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো।

উল্লেখ্য, এই তিনটি দেশের মধ্যে ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো এবং ১৯৯৪ সালে আমেরিকা এককভাবে বিশ্বকাপ সংগঠন করেছিল। তাই ওই দেশের পরিকাঠামো অনেকটাই প্রস্তুত। কানাডার পরিকাঠামোর উন্নতির কিছুটা অবকাশ আছে। পাশাপাশি হাতেও আট বছর সময় আছে। অন্যদিকে, মরক্কো ফেরত ফিফা প্রতিনিধি দল আফ্রিকান দেশটিকে দশে সাড়ে চার নম্বর দিয়েছে। তাই ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক (প্রথমবার ৪৮টি দেশ খেলবে) বিশ্বকাপ ওই তিনটি উল্লেখিত দেশে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফাইনাল হয়তো হবে আমেরিকাতে। মেক্সিকো পেতে পারে একটি সেমি-ফাইনাল।

১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট হয়েছিল ভারত,পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায়। ২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ হয়েছিল ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে। ২০০২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ হয়েছিল জাপান-কোরিয়ায়। তাই ২০২৬ সালে একসাথে তিনটি দেশে ফিফা বিশ্বকাপ হলে তা ফুটবল জগতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ফিফা সূত্রের খবর, ওই তিনটি দেশে বিশ্বকাপ হলে টিকিট বিক্রি বাবদ ফিফার তহবিলে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার আসবে। আর মরক্কোয় কাপ হলে ফিফার ঘরে আসবে ৭.২ বিলিয়ন ডলার। মরক্কোয় খেলা হলে প্রায় প্রতিটি ভেন্যুতে টুর্নামেন্ট করতে গেলে ফিফাকে বিপুল পরিমাণ অনুদান দিতে হবে। আমেরিকা-মেক্সিকোয় পরিকাঠামো তৈরি। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ‘অর্থ কোনো ফ্যাক্টর নয়। ফিফার জেনারেল বডিতে ২০৭ টি দেশের প্রতিনিধি ফুটবলের পক্ষে যাতে ভালো হয় এমনই সিদ্ধান্ত নেবে।’

ফিফা সভাপতি মরক্কোর প্রতি যেভাবে সহানুভূতি দেখিয়েছেন তাতে ২০৩০ সালে এই আফ্রিকান দেশটির ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

তবে বিশ্বকাপ পাওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে থাকলেও আমেরিকা কিন্তু চুপ করে বসে নেই। তারা একত্রে তিনটি দেশে বিশ্বকাপ করার জন্য ডেভিড বেকহ্যামকে আসরে নামিয়ে দিয়েছে। বেকহ্যাম জীবনের শেষ ছয় বছর খেলেছেন মেজর সকার লিগে। পেয়েছেন বিপুল অর্থ। তাই ফিফার সিদ্ধান্তর এক সপ্তাহ আগে মেজর সকার লিগের পক্ষ থেকে বেকহ্যাম এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ‘গত ১০ বছরে আমেরিকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা অসম্ভব বেড়ে গেছে। আমেরিকায় ফুটবলের উত্থানে আমি জ্বলন্ত সাক্ষী। লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির হয়ে আমি কানাডায় খেলতে গিয়েছি। সেখানেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা গত পাঁচ বছরে প্রচণ্ড বেড়েছে। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে। ফুটবলের জন্য মেক্সিকানদের আবেগ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রতিটি বিশ্বকাপেই আমরা দেখি বেশ কিছু মেক্সিকান গ্যালারিতে হাজির থাকেন দেশকে সমর্থন করতে। আমি চাই ওই তিনটি দেশ একত্রিতভাবে সংগঠন করুক বিশ্বকাপ।’

আগামী ১৩ জুন ওই তিনটি দেশ বিশ্বকাপ পেলে তা হবে অন্য ইতিহাস। এর আগে জাপান-কোরিয়া যৌথভাবে বিশ্বকাপ সংগঠন করলেও তারা ছিল একই মহাদেশের। এবার ফিফার মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার আমেরিকা-কানাডার পাশাপাশি মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোও থাকছে।


আরো সংবাদ