২২ নভেম্বর ২০১৮

তেলে সতেজ ত্বক

-

চুল ও ত্বকের যত্নে তেলের উপকারিতার কথা সবার জানা। নারিকেল, সরিষাসহ নানা ধরনের তেল চুল, ত্বক ও বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় প্রাচীনকাল থেকেই। বাদাম তেল রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় আগে থেকেই। তবে রূপচর্চায় বাদাম তেলের রয়েছে অনেক উপকারিতা। কারণ, এই তেল হচ্ছে হালকা এবং ত্বক সহজেই এই তেল শুষে নিতে পারে। তাই ত্বকের যত্নে সহজেই এই তেল ব্যবহার করা যায়। এমনকি শিশুদের ত্বকেও এই তেল ভালো কাজ করে।

বাদাম তেলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট : এই তেল নিয়মিত ম্যাসাজে মাসল রিলিফ হয়, ইউভি রেডিয়েশনের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বককে রাখে নরম ও সতেজ। তাই ত্বক থাকে মসৃণ ও সজীব। ত্বকের ডিপ ক্লিনজিংয়ে সাহায্য করে। হালকা হওয়ার কারণে আমন্ড অয়েল ত্বকের গভীরে পৌঁছে। ত্বক থেকে ময়লা ও মরাকোষ রিমুভ করা সহজ হয়। এই তেলে রয়েছে ভিটামিন-এ। এই ভিটামিন ব্লাকহেডস ও ব্রণ দূর করতে খুবই কার্যকর। সেনসেটিভ স্কিনেও এই তেল ব্যবহার করা যায় সহজেই। কারণ, এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

মেকআপ তোলার ক্ষেত্রে : মেকআপ তুলতে এটি ভালো কাজ করে। একটা কটন বলে তেল নিয়ে ত্বকে মেখে রাখুন। ৫ মিনিট পর আরেক টুকরা তুলা দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন। এটি চোখের চার পাশের নরম ত্বকেও লাগাতে পারবেন।

স্ক্র্যাবার হিসেবে : স্ক্র্যাবার হিসেবেও আমন্ড অয়েল খুব ভালো কাজ করে। দুই চা চামচ তেলের সাথে মিহি চিনি মিশিয়ে ত্বকে স্ক্র্যাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক হয়ে উঠবে সুন্দর ঝকঝকে।

ডার্ক সার্কেল ও ট্যান দূর করে : যদি চোখের নিচে কালি বা ফোলা ভাব থাকে তাহলে আমন্ড অয়েল ব্যবহার করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের নিচে এই তেল ম্যাসাজ করুন। ১৫ দিনের মধ্যে উপকার পাবেন। রোদের কারণে যদি ত্বকে কালছে ভাব বা জ্বালাপোড়া হয়, তাহলেও আমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে পাবেন। এক চা চামচ মধুর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রসও আমন্ড অয়েল মেশান। এই মিশ্রণ ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ফাইন লাইনস ও এজিং রোধ করে : সতেজ টানটান ত্বক তারুণ্যনির্ভর ত্বকের মূলকথা। ত্বকের নিচে থাকা কোলাজন ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখে। ত্বক পাতলা হয়ে গেলে এই ইলাস্টিসিটি কমতে থাকে। আমন্ড অয়েল ত্বককে পাতলা হওয়া রোধ করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় থাকে। একই সাথে ত্বকে ময়েশ্চার বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চুল পড়া রোধ করে : ত্বকের মতো চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করতেও আমন্ড অয়েলের তুলনা নেই। চুল পড়া রোধ করতে নিয়মিত আমন্ড অয়েলের ম্যাসাজ খুবই ভালো কাজ করে। কারণ, চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় যেসব উপাদান প্রয়োজন যেমন জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এসব উপাদান রয়েছে এই তেলে। এই তেল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন প্রতি রাতে, চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া প্রতিদিন কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল বা আমন্ড যদি খেতে পারেন তাহলেও ভালো ফল পাবেন। চুল পড়ার সাথে সাথে চুলকে ঝলমলে করতেও এই তেলের জুড়ি নেই।


আরো সংবাদ