১৭ জুন ২০১৯

বন্ধুদের সাথে রাতভর পার্টিতে মাতল ‘লাশ’

রাশিয়ার সাথে ভদকার একটা বড় ধরনের মেলবন্ধন রয়েছে। রাশিয়া থাকবে আর ভদকা থাকবে না, তা হতেই পারে না। কিন্তু সব কিছুরই তো একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে তো বিপদ।

রাশিয়ায় বন্ধুদের সাথে পার্টি করতে গিয়ে ভদকার সেই সীমা অতিক্রম করেছিলেন এক ব্যক্তি। পার্টি চলা অবস্থাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তারপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন তার ঠিকানা হয় মর্গে।

মর্গে গেলেও এর পরের ধাপে আর তার যাওয়া হয়ে ওঠেনি। কারণ ধারণা করা হচ্ছে, মাত্রাতিরিক্ত ভদকা খাওয়ায় তার মস্তিষ্কের ক্রিয়া হয়তো থেমে গিয়েছিল। আর সে জন্যই তাকে মৃত মনে হয়েছিল। এক্ষেত্রে ডাক্তারদেরও করার তেমন কিছু ছিল না। ফলে তাকে মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মর্গের ঠান্ডা পরিবেশে তার মস্তিষ্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করেন।

পুলিশের মুখপাত্র আলেক্সে স্টোয়েভ জানান, স্থানীয় মর্গ সেদিন প্রায় ভর্তি ছিল। এমনকী মর্গের মেঝে ও ফ্রিজার রুমেও ভর্তি ছিল লাশ। আর সেখানেই ঘটে এই প্রায় অলৌকিক ঘটনা। অন্ধকার লাশঘরের ভিতরেই জীবন ফিরে পান ওই ব্যক্তি।

‘লাশ’ থেকে জলজ্যান্ত মানুষ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ওই ব্যক্তি জানান, অন্ধকারে মধ্যে আছন্ন অবস্থা থেকে উঠে প্রথমে তিনি বুঝেই উঠতে পারছিলেন না তিনি ঠিক কোথায় আছেন। ঘোর কাটতে হাতে লাগে মানুষের ঠান্ডা লাশের স্পর্শ। তখনই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান তিনি৷ চিৎকার করে মর্গ থেকে বেরিয়ে আসেন। মর্গের দারোয়ানরাও বিস্ময়ে দেখেন, চিৎকার করতে করতে লাশঘর থেকে জীবন্ত হয়ে ছুটছে এক ‘লাশ’। ঘটনাটি জানানো হয় পুলিশকে। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানতে পারে এই অদ্ভুত ঘটনা।

জীবন ফিরে পেয়ে ওই ব্যক্তি আবারো ফিরে যান বন্ধুদের সে আড্ডায়। বন্ধুরা সেখানে তাকে দেখে বন্ধুরা নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তবে এক সময় সুন্দর এ বাস্তবকে মেনে নেন তারা। তাই আবারো শুরু হয় পার্টি। মৃত বন্ধুর ফিরে আসার চেয়ে বড় তো আর কোনো উপলক্ষ হতে পারে না। আর সেই পার্টিতে মেতে ওঠেন ঘণ্টাকয়েক আগে ঘোষিত ‘লাশ’ও।


আরো সংবাদ