২১ জুলাই ২০১৯

২০৬ বছর পর খোঁজ মিলল সম্রাট নেপোলিয়নের লুকিয়ে রাখা বিপুল গুপ্তধন!

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন - সংগৃহীত

সম্রাট নেপোলিয়নের সোনা। ২০৬ বছর যার সন্ধানে হন্যে হয়ে খুঁজছেন বহু মানুষ। প্রায় ৮০ টনের সেই বিপুল স্বর্ণ ভাণ্ডারের হদিশ কি মিলল অবশেষে? রাশিয়ার এক বিজ্ঞানী সম্প্রতি সেই দাবিই করলেন। ভায়াচেসলাভ রিজকোভ দাবি করলেন, সন্ধান পাওয়া গিয়েছে সেই সোনার।

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, স্মোলেনস্ক এলাকার সেমলেভো বা নেপোলিয়ান লেকে সোনা রয়েছে। বহু ইতিহাসবিদের দাবি এমনই।

রিজকোভের দাবি, সেমলেভো নয়, সম্রাট আসলে এই জায়গা থেকে ৪০ মাইল দূরে লুকিয়েছিলেন এই সোনা। আসল এই সোনা রয়েছে লেক বোলশায়ায়।

নেপোয়িলনই রাজা আলেকজান্ডার ১-এর দৃষ্টি ঘোরাতে লেক সেমলোভোর কাছে পাঠিয়েছিলেন। আসলে নাকি ১৮১২ সাল থেকে মস্কোর কাছে এই অঞ্চলেই রয়েছে সোনা।

নেপোলিয়ানের ঘনিষ্ঠরাই এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেন বলেও দাবি রিজকোভের। বেলারুশ সীমান্তের কাছেই সেই সোনা লুকিয়ে রাখা রয়েছে।

রুডনিয়ার কাছে মস্কো থেকে প্রায় ৪০০ কিমি দূরে বোলশায়া রুতাভেচ লেকে এই সোনা ও গুপ্তধন ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন ইতিহাসবিদ। বেশ কিছু সোনা গলিয়ে বার তৈরি করেও জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল আলেকজান্ডার ১ কে ধোঁকা দিতে।

ইতিহাসবিদদের বহু দিনের দাবি, ৪০০টি ওয়াগন ভর্তি সোনা নেপোলিয়নের ৫০০ জন ঘোড়সওয়ার ও ২৫০ জন এলিট ওল্ড গার্ডের প্রহরায় ছিল।

নেপোলিয়ন নিজে এই গুপ্তধন ও সোনার সমাধিস্থ হওয়া দেখতে গিয়েছিলেন, জানান রিজকোভ। ডিসেম্বরের ঠান্ডায় ওয়াগন ভর্তি সোনার সবটাই ফেলে দেওয়া হয়েছিল জলাশয়ে। ১৯৮০ সালে এই লেকের জলেই প্রচুর পরিমাণে রুপো মিলেছিল।

ওয়াল্টার স্কট তাঁর ‘দ্য লাইফ অব নেপোলিয়ন বোনাপার্ট’-এ উল্লেখ করেছেন এই সোনার কথা। এই বিপুল পরিমাণ সোনা নিয়ে উৎসাহ আরও বেড়েছে এর পর থেকেই।

তবে এখনও পর্যন্ত সেমলেভো লেকে থেকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হলেও কোনও দিনই সোনাদানা উদ্ধার হয়নি। ৬০ ও ৭০ এর দশকে রাশিয়া এই সোনা উদ্ধারের চেষ্টা করেছে অসংখ্যবার, কিন্তু সফল হয়নি।

বহু বছর ধরে এই এলাকায় সোনার সন্ধান করছেন ভ্লাদিমির পোরিভেইভ নামে এক ইতিহাসবিদ। তিনি বলছেন, রিজকোভের দাবি ভিত্তিহীন।

পোরিভায়েভ বলেন, ডিসেম্বরের মাঝে বরফ জমা লেকে কেন সোনা রাখা হবে? এর কোনও যুক্তি নেই। তবে প্রাচীন আমলের সোনার সন্ধানে লেকগুলি নিয়ে উৎসাহ বেড়েই চলেছে ২০০ বছর পেরোলেও।

 

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi