১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্যান্সারে মারা গেলেন প্রিন্সেস ডায়ানার সেই প্রেমিক

ক্যান্সারে মারা গেলেন প্রিন্সেস ডায়ানার সেই প্রেমিক - ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রিন্সেস ডায়ানার থেকে অন্তত ১৬ বছরের বড় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাতে অবশ্য প্রেম আটকায়নি। ক্যান্সারে ভুগে ৭৩ বছর বয়সে ফ্রান্সে মারা গেছেন ডায়ানার সেই সাবেক প্রেমিক অলিভার হোর।

ডায়ানার বাকি যে ক’জন প্রেমিকের কথা জানা যায় (জেমস হেউইট, জেমস গিলবে, উইল কার্লিং, হাসনাত খান এবং ডোডি আল ফায়েদ) তার মধ্যে অলিভারকেই সব চেয়ে সৌম্য দর্শন বলে মনে করা হতো। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ডায়ানা-অলিভারের সম্পর্ক নিয়ে হইচই শুরু হলেও প্রেমিকপ্রবর কখনো তা স্বীকার করেননি।

শোনা যায়, কেনসিংটন প্যালেসে ঢোকার সময়ে ডায়ানা এক বার অলিভারকে গাড়ির ডিকিতে নিয়ে এসেছিলেন। এক বার রাজপ্রাসাদের রক্ষীরা অর্ধনগ্ন অবস্থায় অলিভারকে খুঁজে পেয়েছিলেন একটি তেজপাতা গাছের পিছনে। সে বার মাঝরাত্তিরে হঠাৎ ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠায় তৎপর হয়ে উঠেছিলেন রক্ষীরা। তার পরেই ওই কাণ্ড!

বিভিন্ন সূত্রে দাবি, ডায়ানা একটা সময়ে অলিভারকে নিয়ে রাতদিন মগ্ন ছিলেন। সাবেক প্রিন্সেসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী লেডি বোকারকে (এক কূটনীতিকের স্ত্রী) ডায়ানা বলেছিলেন, যে তিনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন, সুপুরুষ অলিভারের সঙ্গে ইটালিতে জীবন কাটাচ্ছেন। তিন সন্তানের জনক অলিভার অবশ্য তার ধনকুবের স্ত্রীকে ছেড়ে যাওয়ার কথা কোনো দিনই ভাবেননি। অলিভার ছিলেন শিল্পসামগ্রীর ব্যবসায় জড়িত। শিল্পকলার ইতিহাসের এই ছাত্র সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ক্রিস্টিজ-এ যোগ দেন। পরে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন ইসলামি শিল্পকলায়। স্ত্রী ডায়ান ছিলেন তেল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী। ১৯৯৪ সাল নাগাদ সাবেক প্রিন্সেসের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন অলিভার। কিন্তু ডায়ানা সেই সময় অলিভারের বাড়িতে ফোন করে করে পাগল করে দিতেন বলে দাবি।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, স্ত্রীর জোরাজুরিতে পুলিশে খবর দিতে বাধ্য হন অলিভার। তদন্তে দেখা যায়, কেনসিংটন প্রাসাদের ব্যক্তিগত ফোন লাইন থেকে ৩০০টি কল এসেছে অলিভারের বাড়িতে। অন্য বেশ কিছু কল এসেছিল কেনসিংটন এলাকার সাধারণ ফোন থেকে। পরে অবশ্য অলিভারের অনুরোধেই তদন্ত বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ১৯৯৫ সালে মার্টিন বশিরের কাছে এক সাক্ষাৎকারে ডায়ানা মেনে নিয়েছিলেন যে, তিনি অলিভারকে কখনো-সখনো ফোন করেছেন। ছয় থেকে ৯ মাসের মধ্যে বেশ কয়েক বার। তা বলে ৩০০ বার কিছুতেই নয়!

ব্রিটিশ রাজপরিবারের জীবনীকার লেডি কলিন ক্যাম্পবেলের দাবি, এই সময়ে ডায়ানা অসম্ভব মনঃকষ্টে ভুগছিলেন। কারণ সাবেক প্রিন্সেস অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাকে। সে সন্তান অলিভারেরই কি না, তা নিয়ে মুখ খোলেননি জীবনীকার!

আরো পড়ুন :
১৭ বছর পরে নিউ ইয়র্কে নতুন আতঙ্ক ক্যান্সার

বুকের ডান দিকে ফোলা জায়গাটা রোজই যেন একটু একটু করে বাড়ছিল। স্ত্রী বারবার বললেও বিশেষ পাত্তা দেননি নিউ ইয়র্ক পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট মাইকেল গাই ডস। তারপর ডাক্তার যে দিন দেখে বললেন ‘স্তন ক্যান্সার’, নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি ৬৫ বছর বয়সি মাইকেল।

পুরুষদের স্তন ক্যানসার অত্যন্ত বিরল। কিন্তু গত কয়েক বছরে নিউ ইয়র্কে অন্তত ১৫ জন পুরুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। এবং তারা সকলেই সতেরো বছর আগে লোয়ার ম্যানহাটন এলাকায় থাকতেন বা কাজ করতেন।

২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বর। বিমান হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছিল নিউ ইয়র্কের ‘টুইন টাওয়ার’। মারা গিয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। বহুতল দু’টি ভেঙে পড়ার পরেও বেশ কয়েক মাস ধরে আগুন জ্বলেছিল বহু বাড়িতে। আর বিষাক্ত বাতাসে ভরে গিয়েছিল এলাকা। সে সময়ে লোয়ার ম্যানহাটন এলাকায় যে সব মানুষ থাকতেন বা কর্মসূত্রে যেতেন, তারা সকলেই কম-বেশি সেই দূষণের শিকার হয়েছিলেন। গত কয়েক বছরে সেই সব মানুষের একটা বড় অংশ ক্যান্সার-সহ নানা মারণরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। একটি পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৭ বছরে নিউ ইয়র্ক ও তার আশপাশে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় দশ হাজার রোগী ৯/১১-র ঠিক পরবর্তী সময়ে কোনো না কোনোভাবে টুইন টাওয়ারের আশপাশে ছিলেন।

মাইকেল জানাচ্ছেন, হামলার পরে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে লাশ বা জখমদের খোঁজার কাজ চালিয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ। তার আক্ষেপ, ‘‘৯/১১-র ঠিক এক সপ্তাহ পর থেকে আমরা ওই এলাকায় কাজ শুরু করি। তখন সেখানে দূষণ চরমে। বাতাস এত ভারী ও দুর্গন্ধযুক্ত যে আমাদের সব সময়ে চোখ জ্বালা করত। কিন্তু আমাদের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল যে, সেখানে কাজ করা সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।’’


আরো সংবাদ