২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইন্দো-প্যাসিফিকে নৌশক্তি বাড়াচ্ছে রাশিয়া

ইন্দো-প্যাসিফিকে নৌশক্তি বাড়াচ্ছে রাশিয়া - ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি রাশিয়ার নৌবাহিনী দিবস উদযাপনের সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, বছরের শেষে ২৬টি নতুন রণতরী ও নৌযান নৌবাহিনীকে সরবরাহ করা হবে। পরে আরো কিছুও যুক্ত হবে। ২০২৪ সাল নাগাদ নতুন ৩৭টি নৌযান যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত দশকে যুক্ত হয়েছিল ২৮টি নতুন জাহাজ।

ফলে সাগরে রুশ নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির হার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। খুব বেশি ব্যয়বহুল হওয়ায় লিডার-ক্লাস ডেস্ট্রোয়ার ও স্ট্রম বিমানবাহী ক্যারিয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হলেও ক্রেমলিন সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে তার নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করছে। অর্থের সংস্থানও হয়ে গেছে। তেলের দাম বাড়ায় ২০১৮-২১ অর্থ বছরের জন্য যা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, তার চেয়ে ৩০ ভাগ বেশি অর্থ ব্যয় করা হবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতে। এমনই তথ্য জানিয়েছেন কার্নেগি মস্কো সেন্টারের অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রধান আন্দ্রেই মভচেন। ক্রেমলিন বিশ্বাস করে, আমেরিকা ও চীনের সামরিক শক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা তার জন্য খুবই প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হল, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেটের চেয়ে আমেরিকার বাজেট ১০ গুণ ও চীনের ৬ গুণ বেশি।

নতুন নতুন রণতরী যুক্ত করায় প্রশ্ন জেগেছে রাশিয়া তার সামরিক দর্শন পরিবর্তন করবে কিনা। বিশেষ করে প্যাসিফিক এলাকায় উপকূলীয় প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন এন তারা গভীর সাগরে যাবে কিনা, সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পার্থের কারটিন ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক আলেক্সি মুরাভিয়েভ তাই-ই মনে করেন। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে রুশ নৌবাহিনী তার শক্তি অনেক বাড়িয়েছে। তারা এখন স্নায়ুযুদ্ধ পর্যায়ে তাদের শক্তি উন্নীত করেছে। তারা এখন যেকোনো সময় ৭০ থেকে ১০০টি রণতরী মোতায়েন করতে পারে।

রুশ নৌবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ অ্যাডমিরাল ভ্লাদিমির করোলেভ বলেন, রুশ নৌবাহিনী এখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তারা দূরপাল্লার কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছে। তারা ভারত মহাসাগর ও আন্টার্টিকায় যাচ্ছে। অবশ্য সোভিয়েত আমলের চেয়ে এখনকার বহরগুলো ছোট। তিনি উল্লেখ করেন, রুশ রণতরীগুলো পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, হর্ন অব আফ্রিকা, কোরাল সাগর, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক, ও ভূমধ্যসাগরজুড়ে দাপাচ্ছে। ন্যাটোকে মোকাবিলা করার জন্য ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণসাগর, বাল্টিক ও উত্তর সাগরে নৌশক্তি বাড়ানোর কথা ভাবছে রাশিয়া। তারা প্যাসিফিক বহরও নতুন করে গড়ার পরিকল্পনা করছে। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত রুশ প্যাসিফিক ফ্লিটে ২৮টি নতুন ইউনিট যুক্ত হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই সহায়ক ও সহযোগী ইউনিট। ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে রুশ নৌ ইউনিট দু’টি উন্নত প্রজেক্ট ২২৮০০ গাইডেড-মিসাইল করভেট, একটি প্রজেক্ট ২১৯৮০ গ্রাচেনক কাউন্টার-সাবোটাজ টহল যান ও কয়েকটি সহায়ক জাহাজ পেতে চলেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সমুদ্র পরিকল্পনায় রয়েছে ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক, পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগর, ভারত মহাসাগর, পারস্য উপসাগর ইত্যাদি।

এদিকে বিভিন্ন স্থানে যখন চীন-আমেরিকা ও রুশ-আমেরিকা উত্তেজনা চলছে, তখন আবার রুশ-চীন নৌসহযোগিতাও দেখা যাচ্ছে। মুরাভিয়েভ বলেন, রুশ-চীন নৌসহযোগিতা আরও বাড়বে। তারা যৌথ মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করছে। দুই দেশের মধ্যে জাহাজ নির্মাণ সহযোগিতা আরো ব্যাপক হবে। আর এসবই হবে, যে যার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য।


আরো সংবাদ